ভোটের কাজে চালক এবং খালাসিদের খোরাকি নিয়ে খুশি নন বাস মালিকরা । —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বাস অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে পরিবহণ দফতর। কিন্তু বাসের দৈনিক ভাড়া এবং শ্রমিকদের খোরাকি ভাতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বাসমালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটস-এর সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, পরিবহণ দফতরের ঘোষিত হারে তাঁরা কোনও ভাবেই সন্তুষ্ট নন। তাঁদের দাবি ছিল, সাধারণ বাসের জন্য দৈনিক ৪০০০ টাকা, এক্সপ্রেস বাসের জন্য ৪৫০০ টাকা এবং শ্রমিকদের জন্য দৈনিক ৫০০ টাকা খোরাকি ভাতা নির্ধারণ করা হোক। কিন্তু সেই দাবি না মেনেই একতরফা ভাবে ভাড়ার হার ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর আরও অভিযোগ, “অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাদের বাস দিতে হচ্ছে। এই ভাড়ায় বাস চালানো কার্যত অলাভজনক। শ্রমিকরাও এই কম টাকায় ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে রাজি নন।” তাঁর দাবি, বাস্তবে শ্রমিকদের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ডিউটিতে পাঠাতে হচ্ছে, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বাসমালিকেরা।
সংগঠনের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রশাসনের চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে বাস দিতে হলেও যথাযথ পারিশ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে যেমন বাসমালিকদের ক্ষতি হচ্ছে, অন্য দিকে তেমন শ্রমিকদের উপরও চাপ বাড়ছে। এ ছাড়াও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কেন সরকার নিজস্ব সরকারি বাস ব্যবহার না করে বেসরকারি বাস অধিগ্রহণ করছে। এতে বেসরকারি মালিকদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের। বাসমালিক সংগঠনগুলির আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নির্বাচনের সময় বাস সরবরাহ নিয়ে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তারা দ্রুত এই বিষয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।
পরিবহণ দফতরের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বাসমালিকদের এই ক্ষোভ আগামী দিনে প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নির্বাচনী কাজে ভাড়া নেওয়া গাড়ির ভাড়ায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করার ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার পরিবহণ দফতরের সচিব সৌমিত্র মোহন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই নতুন হার কার্যকর হওয়ার কথা জানিয়েছেন।