West Bengal Post Poll Violence

হাওড়ায় খুন বিজেপি কর্মী, নানুরে তৃণমূল কর্মী! ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ কমিশনের

মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির ঘটনার অভিযোগ উঠছে। ভাঙড়, বারুইপুর, হাওড়া, নানুর-সহ রাজ্যের নানা জায়গায় ‘সন্ত্রাস’-এর অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ২৩:২৯
Election Commission directs Chief Secretary, DGP and CAPFs in West Bengal to ensure Zero Tolerance on post poll violence

ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বনের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ভোটের ফলপ্রকাশ হয়েছে সোমবার। আর রাত গড়াতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর মিলতে শুরু করে। কোথাও তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়, তো কোথায় আবার তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ। মঙ্গলবারও অব্যাহত ভোট-পরবর্তী নানা অশান্তির ঘটনা। রাজ্যের দুই প্রান্তে খুনের অভিযোগও উঠেছে। এক দিকে খুন তৃণমূল কর্মী, অন্য দিকে বিজেপির কর্মী খুন! অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে সরগরম ভোট-পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গ। তবে ভোট-পরবর্তী হিংসায় কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলে জানাল নির্বাচন কমিশন।

Advertisement

মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির ঘটনার অভিযোগ উঠছে। ভাঙড়, বারুইপুর, হাওড়া, নানুর-সহ রাজ্যের নানা জায়গায় ‘সন্ত্রাস’-এর অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ। প্রায় সব ক্ষেত্রেই কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে বিজেপি-কে। যদিও বিজেপির দাবি, তারা কোনও ভাবেই কোনও হিংসামূলক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। রাজনীতির রং না-দেখে হিংসার ঘটনায় পদক্ষেপ করার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার কাছে আর্জি জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

অশান্ত ভাঙড়

ভোটের ফল ঘোষণা হতেই উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়। সেখানকার বিজেপি-ঘনিষ্ঠদের হাতে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। বাড়ি ভাঙচুর, মারধরের অভিযোগ উঠেছে ভাঙড়ের নানা জায়গায়। তৃণমূলের অভিযোগ, ভাঙড়ে বিজয়ী আইএসএফ-এর নেতা-কর্মীরা রাতভর তাণ্ডব করেছেন বিভিন্ন এলাকায়। ভোট-পরবর্তী হিংসায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে নিমকুড়িয়া গ্রামে। বেঁওতায় তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূল করার ‘অপরাধে’ বাড়িতে ঢুকে মহিলা-সহ একটি পরিবারের সমস্ত সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে তৃণমূলের পতাকা না-খোলার অভিযোগে নিমকুড়িয়া গ্রামে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অন্য দিকে, ভাঙড়ের বেঁওতা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ির সিসি ক্যামেরা ভেঙে বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সেখানে অভিযোগ উঠেছে বিজেপি-র দিকে।

হাওড়ায় খুন

মঙ্গলবার সকালে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বিজেপির এক কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গ্রেফতার অভিযুক্ত। স্থানীয় এবং বিজেপি সূত্রে খবর, মৃতের নাম যাদব বর। বয়স ৪৮ বছর। বিজেপির জয়ের আনন্দে সোমবার রাতে আবির খেলায় মেতেছিলেন তিনি। তার পরেই তাঁকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা খুন করেছে বলে অভিযোগ।

নানুরে খুন তৃণমূলকর্মী

বীরভূমের নানুরে ভোট-পরবর্তী ‘হিংসা’র বলি এক। স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল। মৃতের নাম আবির শেখ। পরিবারের অভিযোগ, আবিরকে রাস্তায় একা পেয়ে বিজেপি কর্মীরা ঘিরে ধরে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।

তৃণমূলের কার্যালয়ে হামলা!

মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ। কোথাও কোথাও আবার তৃণমূলের কার্যালয় ‘দখল’ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বারুইপুর, কৃষ্ণনগর, বর্ধমান-সহ রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ— নানা প্রান্তে একই অভিযোগ ওঠে। কোথাও কোথাও আবার তৃণমূলের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে। তবে বিজেপি প্রায় সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে।

শিলিগুড়ির মেয়রের ওয়ার্ডে ‘তাণ্ডব’!

শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের ওয়ার্ডেই তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। শুধু গৌতমের ওয়ার্ড ৩৩ নম্বরে তাঁর দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল। কার্যালয়ে ভিতরে থাকা টেবিল, চেয়ার ভেঙে দেওয়া হয়। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী মানস ভৌমিক বলেন, ‘‘বিজেপিআশ্রিত গুন্ডাবাহিনী আমাদের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। যাদের এখনও সরকার গঠন হয়নি, তাদের এই পরিস্থিতি।’’ কার্যালয়ের বাইরে লাগানো তৃণমূলের পতাকা খুলে নেওয়ার অভিযোগ। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

অভিষেকের অভিযোগ

ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ‘‘আমাদের কর্মী খুন হয়েছে নানুরে। বেলেঘাটায় হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা হয়নি। ৩০০-৪০০ পার্টি অফিস ভেঙেছে। ১৫০ প্রার্থীর ঘরে ঢুকে হামলা করেছে। ঘরে, গ্যারাজে ঢুকে হামলা করেছে। এটা বিজেপির ভরসার মডেল। বাকি মানুষ স্থির করবে।’’

শমীকের বার্তা

রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে হিংসা রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আর্জি জানান শমীক। তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনকেও বলতে চাই, কোথাও এমন কোনও হিংসার ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নিন। কারণ, এই জন্যই বাংলার মানুষ বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন।’’ দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘‘বলতে চাই, শান্তিতে থাকুন। খুশি থাকুন। দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, পালন করুন। কিন্তু জয়ের আনন্দে কাউকে আঘাত করবেন না। কারও ভাবাবেগে আঘাত দেবেন না।’’

কমিশনের নির্দেশ

ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করার নির্দেশ দিল কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং সিআরপিএফ-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ধরনের অশান্তির ঘটনা ঘটলে, তা দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কাউকে রেয়াত না-করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে।

Advertisement
আরও পড়ুন