West Bengal Election 2026 Results

রাজ্যে পরিবর্তন আসতেই প্রস্থান শুরু অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের, মুখ্যমন্ত্রীর মুখ‍্য উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা আলাপন-হরিকৃষ্ণদের

আলাপন এবং হরিকৃষ্ণ দু’জনেই একদা রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে ছিলেন। অবসরের পরে ওই দুই আমলাকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ‍্য উপদেষ্টা হিসাবে বিশেষ পদ দেওয়া হয়েছিল। অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিবের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আর এক প্রাক্তন আমলা মনোজ পন্থ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ২৩:৫০
(বাঁ দিকে) আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পরে এ বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ‍্য উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দুই অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। নবান্নের একটি সূত্র মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে।

Advertisement

আলাপন এবং হরিকৃষ্ণ দু’জনেই একদা রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে ছিলেন। অবসরের পরে ওই দুই আমলাকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ‍্য উপদেষ্টা হিসাবে বিশেষ পদ দেওয়া হয়েছিল। অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিবের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আর এক প্রাক্তন আমলা মনোজ পন্থ। যদিও নবান্ন থেকে এ সংক্রান্ত কোনও খবর জানা যায়নি।

মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা ঘোষণা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেবেন না। নবান্ন সূত্রের খবর ওই ঘোষণার আগেই বিশেষ পদাধিকার প্রাপ্ত দুই প্রাক্তন আমলা পদত্যাগ করেছেন। প্রসঙ্গত, সোমবার বিধানসভা ভোটের গণনায় তৃণমূলের পরাজয়ের পরেই পদত্যাগ করছেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত। মঙ্গলবার তিনি রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন।

রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সাধারণ ভাবে শাসকের আস্থাভাজন আমলাদেরই অবসরের পরে এমন বিশেষ দায়িত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছার উপরেই তাঁদের কার্যকালের মেয়াদ নির্ভরশীল। আলাপন এবং হরিকৃষ্ণ দু’জনের রাজ্যের মুখ্যসচিবের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতার আস্থাভাজন হিসাবেও পরিচিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে মুখ্যসচিব পদ থেকে হরিকৃষ্ণের অবসরের সময় তাঁর মেয়াদ আরও ছ’মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য। সে সময় তাঁর মেয়াদ যাতে না-বাড়ে, তার জন্য তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অনুরোধ করেছিলেন। অন্য দিকে, ২০২১ সালে কেন্দ্রের তরফে বদলির চিঠি পাঠানো হয়েছিল তৎকালীন মুখ্যসচিব আলাপনকে। কিন্তু রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল, আলাপনবাবুকে মুখ্যসচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না। কেন্দ্রের ওই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের জন্যও লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তবে তাতেও বিশেষ লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত আলাপনের অবসরের আগের দিন মমতা ঘোষণা করেন, মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা পদে কাজ করবেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন