(বাঁ দিকে) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
মালদহে অশান্তির ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও), পুলিশ এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসল নির্বাচন কমিশন। বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুরু হয় বৈঠক। ওই অশান্তির ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, সিবিআই কিংবা এনআইএ-র মতো ‘স্বাধীন’ সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। কমিশন সূত্রে খবর, সেই নিয়ে রাজ্যের পুলিশ এবং প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সিইও মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) অজয় মুকুন্দ রানাডে, কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ, সকল জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও), পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে কমিশন।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর রাত পর্যন্ত আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টকে জানান। তার পরেই বৃহস্পতিবার সকালে এসআইআর মামলাটি শুনতে চায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ।
এসআইআরের কাজে যুক্ত বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে না-পারায় রাজ্য প্রশাসনকে বৃহস্পতিবার সরাসরি ভর্ৎসনা করেন প্রধান বিচারপতি কান্ত। মালদহের ঘটনায় সিবিআই বা এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করানোর কথা কমিশনকে বলেছে শীর্ষ আদালত। সেই সঙ্গে আরও একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে তারা। নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে, এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারকদের (বা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের) পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে তাঁদের বাসভবনেও। নিরাপত্তাগত ঝুঁকি থাকলে তা পর্যালোচনা করে বিচারকদের পরিবারকেও সুরক্ষিত রাখার বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে কমিশনকে। বৃহস্পতিবার মালদহের পাশাপাশি রাজ্যের আরও কিছু জায়গায় সংঘাত শুরু হয়েছে। এর পরেই বৃহস্পতিবার বিকেলে সিইও, রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে কমিশন। সূত্রের খবর, রাজ্যের পরিস্থিতি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে আলোচনা হবে বৈঠকে।