— প্রতীকী চিত্র।
প্রথম দফার ভোট মিটেছে শান্তিপূর্ণ ভাবে। দ্বিতীয় দফায় আগামী বুধবার কলকাতা পুলিশ এলাকা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোট। ভাঙড়-সহ গোটা কলকাতা পুলিশ এলাকায় সে দিন শান্তিতে ভোট করাতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন থেকে পুলিশ। তাই ভোটের দিন কোথায় বেআইনি জমায়েত রয়েছে, তা দেখার জন্য কলকাতা পুলিশ এলাকায় এ বার ড্রোনের ব্যবহার করতে চাইছে কমিশন। সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে এ বিষয়ে পরিকল্পনা করা হলেও এখনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। সব ঠিক থাকলে কলকাতা পুলিশ এলাকায় থাকা বিধানসভা কেন্দ্র-পিছু তিনটি করে ড্রোন ব্যবহার করতে চাইছে কমিশন।
কলকাতা পুলিশের এক কর্তা জানান, প্রাথমিক ভাবে ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিশন চাইছে, ওই দিন ড্রোনে নজরদারি করতে। তবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার লালবাজারে কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের মধ্যে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের বিভিন্ন পর্যবেক্ষক। সেখানেই ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সূত্রের দাবি, কলকাতা পুলিশ এলাকার বিভিন্ন জায়গা ‘নো ফ্লাইং জ়োন’-এর মধ্যে পড়ে। সেখানে ড্রোন ওড়াতে হলে বিভিন্ন বিভাগ থেকে বিশেষ অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। তাই ড্রোনের ব্যবহার করতে হলে সেই সব অনুমতি নেওয়ার ব্যাপার রয়েছে। তার সঙ্গে কলকাতা পুলিশ এলাকায় এ বার ১৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট রয়েছে। যার মধ্যে ১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের পুরো এলাকা কলকাতা পুলিশের অধীনে। এ ছাড়া, মেটিয়াবুরুজ এবং ক্যানিং-পূর্ব কেন্দ্রের কিছু এলাকা কলকাতা পুলিশের আওতাধীন। ফলে সব বিধানসভা কেন্দ্রে তিনটি করে ড্রোন ব্যবহার করতে হলে মোট ড্রোনের সংখ্যা অনেকটাই বেশি হতে হবে, যা অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে পুলিশকর্তাদের অভিমত, ভোটের দিন বেআইনি জমায়েতের খোঁজ পেতে ড্রোন খুবই কার্যকর। ড্রোনের ফুটেজ দেখে বেআইনি জমায়েত চিহ্নিত করে দ্রুত বাহিনী পাঠিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে বলে পুলিশকর্তারা মনে করেছেন।
সূত্রের খবর, এ বার কলকাতায় ভোটের জন্য থাকছে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। তার সঙ্গে থাকছেন কলকাতা পুলিশের প্রায় ২০ হাজার অফিসার এবং কর্মী। এ ছাড়াও কলকাতার ভোট সামলাতে আসবে রাজ্য পুলিশের প্রায় এক হাজার বাহিনী। এ বার কলকাতা পুলিশ এলাকায় মোট বুথের সংখ্যা ৫১৭২, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৬১। সূত্রের দাবি, প্রতিটি বুথই সংবেদনশীল। তাই প্রতি বুথেই থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কলকাতা পুলিশ এলাকায় এ বার এক বুথের কেন্দ্রের সংখ্যা ২৫৯। দুই বুথ রয়েছে, এমনকেন্দ্রের সংখ্যা ৬১১। আবার তিন বা চারটি বুথ নিয়ে গঠিত ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা যথাক্রমে ৩৩৫ এবং ২৮১। সর্বাধিক ১৪টি বুথ নিয়ে রয়েছে দু’টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। এক এবং দুই বুথের কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন হাফ সেকশন বা চার জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য। আবার তিন থেকে চার বুথ রয়েছে, এমনভোটগ্রহণ কেন্দ্রে থাকবেন এক সেকশন বা আট জন জওয়ান। পাঁচ ও ছয় বুথের কেন্দ্রে থাকবে দুই সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী।
লালবাজার জানিয়েছে, শুধু বুথ নয়, অতিরিক্ত কুইক রেসপন্স টিমেও থাকছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। এর সঙ্গে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে সেক্টর মোবাইল, থানা স্ট্রাইকিং ফোর্স, ডিস্ট্রিক্ট স্ট্রাইকিং ফোর্সে থাকবেন কলকাতা পুলিশের কর্মী-অফিসারেরা।