আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। —ফাইল চিত্র।
তৃণমূলের ‘ফাঁস’ করা ভিডিয়ো নিয়ে এ বার পাল্টা মুখ খুললেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, কৃত্রিম মেধা (এআই) ব্যবহার করে ওই ভিডিয়োটি তৈরি করা হয়েছে। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা তথা ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়কের দাবি, সরাসরি রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করতে না পেরেই এই পরিকল্পনা করেছে তৃণমূল। ভিডিয়োর সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে হাই কোর্টে মামলা করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরেই সাংবাদিক বৈঠক করে হুমায়ুনের একটি ভিডিয়ো ফাঁস করেছে তৃণমূল (যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ভিডিয়োটিতে তারিখ উল্লেখ রয়েছে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর। ওই ভিডিয়োয় হুমায়ুন এবং বিজেপির মধ্যে ‘গোপন আঁতাঁত’ ফাঁস হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিয়ো ‘ফাঁস’ করে তৃণমূলের দাবি, ধর্মীয় আবেগ নিয়ে ভোট কেনাবেচা হয়েছে। ১৯ মিনিটের ওই ভিডিয়োয় শুভেন্দু অধিকারী, হিমন্ত বিশ্বশর্মা, মোহন যাদবদের নাম উঠে এসেছে। ভিডিয়োয় হুমায়ুনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, কোনও দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তিনি বিজেপি-কেই সমর্থন করবেন। তৃণমূলের ফাঁস করা ওই ভিডিয়োয় ১০০০ কোটি টাকা চাইতেও দেখা যাচ্ছে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতাকে।
এই ভিডিয়োর বিষয়ে হুমায়ুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে ভিডিয়ো বানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “ওটা এআই করে করা হয়েছে। সরাসরি রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতীক জৈন, কুণাল ঘোষ, ববি হাকিমেরা সব প্ল্যান করে এটা করছে। প্রমাণ দিক। ১০০০ কোটি তো দূরের কথা, ১ কোটি টাকারও ডিল হয়েছে— এমন প্রমাণ যদি দেখাতে পারে, তা হলে রাজ্যের মানুষ যা বলবে, আমি সমস্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াব।”
তৃণমূলের ‘ফাঁস’ করা ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করতে না-পারলে মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক। হুমায়ুন বলেন, “প্রমাণ করতে না-পারলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বদনাম দেওয়া এআই ভিডিয়ো করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক, কুণাল ঘোষ, ববি হাকিমের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করব।” তাঁর দাবি, তিনি যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে সংখ্যালঘু মানুষেরা তাঁকে সমর্থন করছেন। সেই দেখেই তৃণমূল ভয় পেয়েছে বলে দাবি করছেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পেয়ে গিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিন বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মুসলিমদের ভোটে। এ বার আর মুসলিম ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাচ্ছেন না। সেই কারণে এআই করে আমাকে বদনাম করার জন্য করা হয়েছে।”