Calcutta High Court on RG Kar Case

আরজি কর-কাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় এবং সন্দেহভাজনদের দরকারে আবার জেরা করতে পারবে সিবিআই! জানাল হাই কোর্ট

২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি করে এক চিকিৎসক-ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। ওই ঘটনার পরের দিনই কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:২৬

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আরজি কর মামলায় যদি প্রয়োজন হয়, সিবিআই নতুন করে সাজাপ্রাপ্ত এবং অন্য সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে যে কোনও ব্যক্তিকে জেরা করতে পারবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী ওই সংস্থা। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানাল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থা এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চ। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ‘সাজাপ্রাপ্ত অনেক কিছুই জানে বলে মনে হয়। ফলে যত আধুনিক পদ্ধতি, প্রযুক্তি রয়েছে, তার সব কিছু সিবিআই ব্যবহার করুক এই মামলায়।’ পরিবারের তরফে ডিএনএ প্রোফাইল এবং অডিয়ো রেকর্ড আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ, সিবিআই এই দু’টি নিয়ে তদন্ত করে তাদের রিপোর্ট দেবে। ১২ মে মামলার পরবর্তী শুনানি।

Advertisement

আরজি করে কোথায় ডাক্তারি ছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনা হয়েছিল, তা পরিদর্শন করতে চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেছিল নির্যাতিতার পরিবার। সেই নিয়ে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ‘মৃতের পরিবার নতুন করে ঘটনাস্থল দেখতে চেয়েছে। তাতে সিবিআইয়ের কোনও আপত্তি নেই। তা হলে রাজ্যের আপত্তি কিসের? কারণ, মামলায় তারা পার্টিও নয়। যদি নতুন করে হলফনামা পরিবার দেয় আর সিবিআই তদন্ত এগিয়ে নিতে চায়, তাতে রাজ্য আপত্তি করবে কেন?’ এই নিয়ে হাই কোর্টের আরও পর্যবেক্ষণ, ‘খড়্গপুর আইআইটি-তে ছাত্রের রহস্যমৃত্যু হয়েছিল। তার পরে ফরেনসিক ডাক্তারই প্রমাণ দেন, যে ওই ছাত্র খুন হয়েছিলেন। আরজি কর কাণ্ডের ক্ষেত্রেও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের ভাল ভাবে খতিয়ে দেখার জায়গা রয়েছে।’

বিচারপতি মান্থা জানান, সঞ্জয়ের বেকসুর খালাসের আবেদন এবং সিবিআইয়ের মৃত্যুদণ্ডের আবেদনের শুনানি একই সঙ্গে করা প্রয়োজন। অন্য দিকে, পরিবারের যে আবেদন, তারও বিস্তারিত শুনানির প্রয়োজন রয়েছে। সে জন্য ১২ মে সকালে প্রথমেই হবে এই মামলার শুনানি। শুনানির সময় ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, তদন্তকারী আধিকারিক দিল্লিতে থাকেন। তিনি মামলার তদন্তের ব্যাপারে আদালতকে জানাতে চান। সেই নিয়ে হাই কোর্টের নির্দেশ, তদন্তকারী আধিকারিককে নির্যাতিতার পরিবারের অতিরিক্ত (সাপ্লিমেন্টারি) হলফনামার পরিপ্রেক্ষিতে তার বক্তব্য জানাতে হবে।

২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি করে চিকিৎসক-ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। ওই ঘটনার পরের দিনই কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই।

২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি আরজি কর মামলার রায় ঘোষণা করে শিয়ালদহ আদালত। তাতে দোষী সাব্যস্ত হন সঞ্জয়। ২০ জানুয়ারি তাঁর আজীবন কারাবাসের নির্দেশ দেন বিচারক অনির্বাণ দাস। কিন্তু শিয়ালদহ আদালত রায় দেওয়ার আগে হাই কোর্টে একটি আবেদন করেছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। সিবিআই তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে উচ্চ আদালতের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে সেই আবেদন করা হয়। যদিও বিচারপতি ঘোষ সেই সময় নির্যাতিতার পরিবারের ওই আবেদন শুনতে চাননি। কারণ, তখন সুপ্রিম কোর্টেও আরজি কর মামলা চলছিল।

এর পরে শীর্ষ আদালতেও একই আবেদন করেন নির্যাতিতার মা-বাবা। তা নিয়ে শুনানিও হয়। কিন্তু একই আবেদন নিয়ে কেন সুপ্রিম কোর্টেও শুনানি হবে? প্রশ্ন তোলেন সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, মামলা শুনবে হাই কোর্টই। সেই মামলার শুনানি চলছে হাই কোর্টে। সেখানেই সিবিআই-কে বৃহস্পতিবার নির্দেশ দিল ডিভিশন বেঞ্চ। জানাল, প্রয়োজনে সাজাপ্রাপ্ত এবং সন্দেহভাজনদের নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে তারা।

Advertisement
আরও পড়ুন