(বাঁ দিকে) হুমায়ুন কবীর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের নওদার নির্বাচনী সভা থেকে দলেরই একাংশকে সতর্ক করে দিতে চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের মধ্যে থেকে কেউ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাত করলে, ভোটের পরে তার ‘ব্যবস্থা’ করারও হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন তৃণমূলের সেনাপতি।
নওদার তৃণমূল প্রার্থী সাইনা মুমতাজের সমর্থনে রবিবার সভা করেন অভিষেক। সেখানেই তিনি বলেন, ‘‘যে দলের জার্সি পরে আছেন, সেই দলের হয়েই খেলুন। অন্য দলের হয়ে খেলতে গেলে ভোটের পরে লাল কার্ড দেখতে হবে। তার পর এমন হবে যে সারাজীবন মাঠেই ঢুকতে পারবেন না।’’
মুর্শিদাবাদের তৃণমূলে কি তা হলে সুপবন বহিতেছে না? রবিবার অভিষেকের সভাতেও সব যে সুরে বেজেছে তা নয়। স্থানীয়স্তরে তৃণমূলের কোন্দল প্রতিফলিত হয়েছে সেনপতির সভাতেই। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, তা হলে কি অভিষেক অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা করছেন? সেই কারণেই লাল কার্ড দেখানোর সতর্কবার্তা দিলেন?
তৃণমূল থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন দল গড়েছেন হুমায়ুন কবীর। ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক এ বার নতুন দলের হয়ে নওদা এবং রেজিনগর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেই নওদায় দাঁড়িয়ে অভিষেকের এ হেন বার্তা ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলেই অভিমত অনেকের।
হুমায়ুন তৃণমূল ছাড়ার পর তাঁর আসন ভরতপুরে প্রার্থী বদল অনিবার্যই ছিল। বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি। সেই আসনেও শাসকদলকে প্রার্থী বদল করতেই হত। কিন্তু এ ছাড়াও আরও আটটি আসনে প্রার্থী বদল করে দিয়েছেন মমতা-অভিষেক। দুই বিধায়কের আসন পাল্টে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের অনেকের বক্তব্য, এই বদল না-করলে স্থানীয় স্তরে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা সামাল দেওয়া মুশকিল ছিল। আবার টিকিট না-পাওয়া নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে মুর্শিদাবাদে ২২টি আসনের মধ্যে ২০টি আসন জিতেছিল তৃণমূল। বস্তুত, ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ভেঙে বেরিয়ে এসে তৃণমূল তৈরি করার পর থেকে সেটাই ছিল জোড়াফুল শিবিরের শ্রেষ্ঠ ফলাফল। সেই ধারাতেই গত লোকসভা ভোটে জেলার তিনটি আসনই জিতেছে তৃণমূল। কিন্তু তার পর থেকে নবাবের জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে বদল ঘটেছে। মুর্শিদাবাদে সংখ্যালঘুরাই সংখ্যাগুরু। সেই জেলায় হুমায়ুন নতুন দল গড়েছেন, সেই দলের সঙ্গে জোট করেছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল ‘মিম’। ফলে সংখ্যালঘু ভোটে ফাটল ধরার বিভিন্ন উপকরণ প্রস্তুত রয়েছে বলে অভিমত রাজনৈতিক মহলের অনেকের।
আবার এ-ও বাস্তব, মুর্শিদাবাদের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে বাম এবং কংগ্রেসেরও শক্তি রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে মেরুকরণের আবহও এই জেলায় প্রকট। যাতে নতুন মাত্রা দিয়েছে রামনবমীকে কেন্দ্র করে একাধিক জায়গায় অশান্তি। যে আবহের কারণে হিন্দু ভোট বিজেপির দিকে পুঞ্জীভূত হয়ে রয়েছে। ফলে মুর্শিদাবাদের বহু আসনে এ বার পঞ্চমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত তা হলে, ভোট কাটাকাটির অঙ্কে অনেক আসনের ফল এ দিক-ওদিক হয়ে যেতে পারে। হতে পারে সে কথা মাথায় রেখেই অভিষেক দলের একাংশকে বার্তা দিতে চেয়েছেন রবিবার।
নওদার সভা থেকে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী এবং হুমায়ুনের নাম করে নিশানা করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘অধীর চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীর কেন্দ্রীয় সরকারের নিরাপত্তা নেন। যে কেন্দ্রীয় সরকার এসআইআরের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক সংখ্যালঘুর নাম বাদ দিয়েছে। চ্যালেঞ্জ করছি, সংখ্যালঘুদের স্বার্থ দেখলে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ছেড়ে দিন। রাজ্য সরকার আপনদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।’’