—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
নকল মদ তৈরির প্রচুর সামগ্রী এবং কাঁচামাল উদ্ধার করল আবগারি দফতর। শিলিগুড়ি থেকে গত ২৭ মার্চ ১৫৬০ লিটার ওপি স্পিরিট উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। এই উপাদান নকল মদ তৈরির কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। মনে করা হচ্ছে, ভোটের মুখে ভোটারদের প্রলুব্ধ করতে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে নকল মদ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আবগারি দফতরের তরফে নির্বাচন কমিশনকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কমিশন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।
শিলিগুড়ি থেকে মোট ৬২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে আবগারি দফতর। তার মধ্যে ওপি স্পিরিট ছাড়াও রয়েছে দু’টি নামী মদ প্রস্তুতকারক সংস্থার লেবেল, নকল হোলোগ্রাম, নকল বোতলের ঢাকনা এবং খালি প্লাস্টিকের বেশ কিছু বোতল। একটি সংস্থার ১৩ হাজার ৮৮৪টি এবং অন্য একটি সংস্থার ৩ হাজার ২৮৬টি নকল লেবেল উদ্ধার করা হয়েছে। নকল হোলোগ্রাম মিলেছে ৯৮৪টি। এ ছাড়া ৪৪০টি বোতলের ঢাকনা এবং ৩৫টি খালি বোতল পাওয়া গিয়েছে দুষ্কৃতীদের ডেরা থেকে।
কমিশন সূত্রে দাবি, কোনও সাধারণ বাজারচলতি মদ পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকৃত সামগ্রী সমস্তই নকল মদ তৈরির উপাদান বলে আবগারি দফতরের রিপোর্টে জানানো হয়েছে। স্পিরিট দিয়ে মদ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তা বোতলে ভরে নকল লেবেল লাগিয়ে ব্র্যান্ডের মদ হিসাবে বাজারে বিক্রি করা হত। হোলোগ্রাম লাগিয়ে নকলকে আসলে পরিণত করার ছক কষা হয়েছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আবগারি দফতরের কর্মীরা তা ভেস্তে দিয়েছেন। ভোটারদের প্রলোভনের উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। কমিশনের তরফে বাড়তি নজরদারির বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। দাবি, এই ধরনের পরিকল্পনায় কেবল অবৈধ ভাবে ভোট কেনার চেষ্টাই হবে না, নকল মদ খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। এমনকি, মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অবিলম্বে এই ধরনের প্রচেষ্টা বন্ধ করতে চায় কমিশন। সেই মতো তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। কমিশন বার বার দাবি করেছে, এ রাজ্যে শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। নজরদারির মাঝেও নকল মদ তৈরির প্রস্তুতি কমিশনকে চিন্তায় রাখছে।