WB Elections 2026

ভবানীপুরে শুভেন্দুর মনোনয়নে অশান্তি করার অভিযোগে নোটিস পাঠানো শুরু! ভিডিয়ো ফুটেজে চিহ্নিত অভিযুক্তেরা

বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের দিন ভবানীপুরে অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের ডিসি ২ (দক্ষিণ) সিদ্ধার্থ দত্ত এবং ডিসি ২ (রিজার্ভ ফোর্স) মানস রায়কে ইতিমধ্যেই শো কজ় করা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৩
Kolkata Police has sent notice in case of chaos during BJP candidate Suvendu Adhikari’s nomination filing at Bhabanipur

ভবানীপুরে সেই অশান্তির দিন। —ফাইল চিত্র।

ভবানীপুরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এ বার পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ। সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে ওই ঘটনার জড়িত ৩৫-৪০ জনকে চিহ্নিত করে নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রের খবর।

Advertisement

কলকাতা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনা সংক্রান্ত তিনটি মামলায় ওই নোটিস পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার মনোনয়ন দাখিল করার আগে শুভেন্দুর রোড শো-তে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনায় এফআইআর দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের অভিযোগের ভিত্তিতেও পদক্ষেপ করা হয়েছে। ওই অশান্তির ঘটনার প্রেক্ষিতে কলকাতা পুলিশের ডিসি ২ (দক্ষিণ) সিদ্ধার্থ দত্ত এবং ডিসি ২ (রিজার্ভ ফোর্স) মানস রায়কে ইতিমধ্যেই শো কজ় করা হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রের খবর। অশান্তির দিন তাঁরা ওই এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। কী ভাবে ওই পরিস্থিতি তৈরি হল, কেন জমায়েত করতে দেওয়া হল, কারণ দর্শাতে হবে এই দুই আধিকারিককে।

কমিশনের নির্দেশের প্রেক্ষিতেই দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার হাজরা মোড় থেকে শুরু হয়েছিল শুভেন্দুদের রোড-শো। সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত রোড শো করেই মনোনয়ন জমা দিতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীরা তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। ক্রমে তা ধস্তাধস্তির পর্যায়ে পৌঁছোয়। এই ঘটনার পরেই সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (ডিইও) কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল কমিশন।

ভবানীপুরে অশান্তির পরেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে করেছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সূত্রের খবর, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে ভর্ৎসনা করেন তিনি। বলেন, ‘‘আইপিএস অফিসার হয়ে কলকাতা সামলাতে পারছেন না? আপনাকে কি প্রশিক্ষণ দিতে হবে?’’ ওই গোলমালের ঘটনায় কালীঘাট এবং আলিপুর থানায় পৃথক ভাবে তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তার ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর করে। দু’টি এফআইআর করা হয়েছে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে। কমিশনের আধিকারিকদের অভিযোগের ভিত্তিতেও পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে মূলত বেআইনি জমায়েত, স্লোগান, পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘনের। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিজেপির কর্মসূচিতে পুলিশের অনুমতি আগে থেকেই নেওয়া ছিল। তবে তৃণমূলের তরফে কোনও জমায়েতের অনুমতি ছিল না বলে দাবি বিজেপির।

Advertisement
আরও পড়ুন