নানুরের জনসভায় তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
মমতা বলেন, ‘বিহারে ভোটের আগে চুপি চুপি অ্যাকাউন্টে আট হাজার টাকা ঢোকাল। এখানেও শুনছি গরিব মানুষদের কাছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চাইছে। খবরদার দেবেন না। যা আছে সেটাও নিয়ে নেবেন। টাকা ঢোকানোর নাম করে কেটে নেবে। বিজেপি-কে একেবারে বেলাইন করে দিন। বাংলা ভাষায় কথা বললেই অনুপ্রবেশকারী? অনুপ্রেবেশ কোথাও হয়ে থাকলে তার দায় নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের। বিপদে পড়লে পাশের দেশ আশ্রয় দেয়। আপনারা কত জনকে ঢুকিয়েছেন, আমরা জানি। আমি এ নিয়ে চিঠিও দিয়েছি।’’
নানুরের সভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘লড়াই করতে হলে সামনাসামনি করো, লুকিয়ে লুকিয়ে করছ কেন? তৃণমূলকে বলছে চোর! এখানে অনেক বিজেপি নেতা রয়েছেন, বিজেপির দল থেকেই তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি করা হয়েছে। তার কাগজপত্র তো আমার কাছেও আছে। তৃণমূল চোর নয়। বিজেপি সব লুট করেছে।’’
মমতা বলেন, ‘‘সবচেয়ে বেশি মহিলাদের নাম কাটা গিয়েছে। অনেকেই বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি চলে গিয়েছে। পদবি পাল্টে গেলেই নাম বাদ কেটে দিয়েছে।’’
১০০ দিনের প্রকল্পের নাম পরিবর্তন নিয়ে আবার কেন্দ্রকে আক্রমণ মমতার। তিনি বলেন, ‘‘ওরা আমাদের ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রেখেছে। গান্ধীজির নামও মুছে দিয়েছে প্রকল্প থেকে। ওরা যে দিন বর্জন করেছে, আমরা সে দিনই গ্রহণ করেছি। মহাত্মাশ্রী শুরু করেছি রাজ্যে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বলছে বাংলা নাকি রক্তাক্ত। বাংলার মতো শান্ত, সম্প্রীতি, শক্তি কোথাও নেই।’’
নানুরের সভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘গতকালও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। এর পর ভোট হয়ে গেলে গ্যাসও পাবেন না, উনুনে রান্না করতে হবে। বিনা পয়সায় রেশন দিচ্ছে তৃণমূল সরকার, আর প্রচার করতে বিজেপি। এদের লজ্জা করে না?’’
নানুরের সভা থেকে সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার নির্দেশ নিয়ে নিজের মতপ্রকাশ করলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘আজ আমি খুশি। সুপ্রিম কোর্ট ভাল রায় দিয়েছে। পদ্ম ফুলের বস্তা দিয়ে ফর্ম ৬ জমা করে বাইরে নাম ঢোকাচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে হবে না।’’
নানুরে মমতার সভায় অনুব্রত মণ্ডলকে দেখা যায়নি।
মমতা বলেন, ‘‘আমি সুপ্রিম কোর্টে ছুটে গিয়েছিলাম। আমি যত দূর জেনেছি ২২ লক্ষের নাম আমরা এখনও পর্যন্ত তুলতে পেরেছি। ১৮ লক্ষ বাদ আছে, তাঁদের প্রত্যেককে আপিল করতে হবে। ট্রাইবুনালে যেতে হবে। খরচ আমরা দেব।’’
মমতা বলেন, ‘‘যুবসাথী কোনও ভিক্ষা বা ভাতা নয়। এটা পকেট খরচ। অনেক গরিব ছেলেমেলে আছে। অনেকের টাকা ঢুকে গিয়েছে। যাঁরা আবেদন করেছেন, কিন্তু পাননি, চিন্তা করবেন না ঢুকে যাবে। প্রসেস চলছে। লক্ষ্মীর ভান্ডারে যাঁরা আবেদন করেছেন তাঁরাও টাকা পাবেন।’’ মমতার দাবি, যুবসাথী নিয়ে বিজেপির অভিযোগ মিথ্যা। তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘‘আমরা ভাগাভাগি করি না।’’
মমতা বলেন, ‘‘অনেক আগে একটা সময় বীরভূমে এসেছিলাম। তখন রাতে থাকার জায়গা পাচ্ছিলাম। পরে দেখলাম ববি (ফিরহাদ হাকিম), অনুব্রত (মণ্ডল) আমাকে বলল এই রাস্তা দিয়ে গেলেই তারা মায়ের মন্দির। রাতে সেখানেই গেলাম।’’
নানুরের সভায় দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, ‘‘বোলপুর, শান্তিনিকেতন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাটি। সেখানে অমর্ত্য সেনের জমি রয়েছে। সেই জমিও কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল। জানতে পেরে আমি ছুটে এসেছিলাম।’’
মমতা বলেন, ‘‘বীরভূম আমার নিজের মাটি। আমি ছোটবেলা থেকেই সময় পেলে চলে আসতাম। ধানখেতে যেতাম।’’
শুধু নানুর নয়, বীরভূমের অন্য বিঘানসভা কেন্দ্রগুলির তৃণমূল প্রার্থীদেরও প্রচার করছেন মমতা।
বুধবার মমতার প্রথম সভাই রয়েছে বীরভূমের নানুরে। নানুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বিধানচন্দ্র মাঝির সমর্থনে প্রচারসভা করবেন তৃণমূলেত্রী। আল-আমীন মডেল স্কুল পাপুড়ী মাঠে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবারও তিনটি জনসভা রয়েছে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রথমটি নানুরে। দ্বিতীয়টি বড়ঞা। তৃতীয় সভাটি রয়েছে জঙ্গিপুরে। তিন বিধানসভা এলাকায় দলের তিন প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী প্রচারসভা রয়েছে মমতার।