অমিত শাহ। — ফাইল চিত্র।
‘‘এসএসসি, পুরনিয়োগ, গরু, ১০০ দিনের কাজ, পিএম আবাস দুর্নীতি কারা করেছে? মমতাদিদি, আপনার নেতারা ভাবেন, গরিবের টাকা নিয়েছে, আর কিছু হবে না। আমরা কমিটি করে সব টাকা গরিবদের ফেরাব।’’
‘‘৭০০০ সংস্থা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছে। মোদীজি ফিরিয়ে আনবেন। রবীন্দ্রনাথের সোনার বাংলা গড়ব।’’
‘‘২৩ এপ্রিল পদ্ম চিহ্নে ভোট দিন। জোরে বোতাম চাপুন, যাতে দিল্লিতে শব্দ যায়। যাতে অনুপ্রবেশকারীদের কারেন্ট লাগে।’’
‘‘কারও চার স্ত্রী রয়েছেন। তা কি থাকা উচিত? দিদিরা বলুন। বিজেপির সরকার করুন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনব। সকলের জন্য সমান বিধি হবে।’’
‘‘লভ জিহাদ বন্ধ হবে। অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা ২১ হাজার টাকা পাবেন। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ দিতে হবে না। বিধবা, প্রবীণ দিব্যাঙ্গজনেরা ২০০০ টাকা করে মাসে পাবেন। উত্তরবঙ্গে এমস হবে। চা শ্রমিকদের ভূমির মালিক করা হবে।’’
‘‘মমতাদিদি, আপনি মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, তাও আরজি কর, সন্দেশখালির মতো ঘটনা হয়! মমতাদিদি বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পরে কারও বাইরে যাওয়া উচিত না। বিজেপির সরকার গড়ুন, রাত ১টায় মহিলারা বাইরে নিরাপদে ঘুরতে পারবেন।’’
‘‘সব কৃষককে এখন ৬০০০ টাকা দেন মোদীজি। বিজেপি এখানে সরকার গড়লে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৯০০০ টাকা যাবে। ধানের এমএসপি ৩১০০ টাকা করা হবে। যুবকদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাবেন। যে যুবকেরা দুর্নীতির কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারেননি, তাঁদের বয়সের ছাড় দেওয়া হবে।’’
‘‘মমতাদিদি আপনি মহিলাদের জন্য কিছু করেননি। দিদিরা প্রস্তুত থাকুন, আমাদের সরকার হলে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা প্রবেশ করবে প্রতি মাসে। মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ হবে ৩৩ শতাংশ। রাজ্যের সব বাসে মা-বোনদের টিকিট কাটতে হবে না। ’’
‘‘ওরা বলে বেড়াচ্ছে, মোদীজি দিল্লি থেকে শাসন করবে। আমার কথা শুনে রাখুন, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী যিনি হবেন, তিনি এখানে জন্মগ্রহণ করা, বাংলায় কথা বলা একজন বিজেপি নেতাই হবেন।’’
‘‘মমতাদিদি ভিকটিম কার্ড খেলেন। কখনও সত্যি-মিথ্যা পট্টি পা, মাথায় বাঁধেন। এই ভোটে যেখানে ইচ্ছা পট্টি বাঁধুন, বাংলাবাসী আপনাকে ভোট দেবেন না।’’
‘‘মমতা, কংগ্রেস— এরা কেউ জনজাতির কাউকে রাষ্ট্রপতি করেনি। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে নরেন্দ্র মোদীজি সাঁওতাল জনজাতি বোন দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি করে জনজাতিদের সম্মান করেছেন। দ্রৌপদীজি এখানে জনজাতিদের সঙ্গে দেখা করার জন্য এসেছিলেন। মমতাজি তাঁকে অপমান করেছেন। জনজাতি ভাই-বোনদের বলছি, এই ভোটে জনজাতির মেয়ে দ্রৌপদীর অপমানের বদলা নিতে হবে। ওঁরা সহ্য করতে পারেন না যে, জনজাতি গরিবের মেয়ে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। আপনি যা করুন মমতাদিদি, আমরা জনজাতিদের উন্নয়ন করব।’’
‘‘৩০০ জনের বেশি বিজেপি কার্যকর্তার হত্যা হয়েছে। তৃণমূলের গুন্ডারা ভাবে, ওদের কিছু হবে না। ৫ মে বিজেপি সরকার গড়ার পরে হত্যাকারীদের জেলে পাঠানো হবে।’’
‘‘ওরা ভাবে যা দুর্নীতি করেছে, তার পরে আর কিছু হবে না ওদের। আজ বলছি, সিন্ডিকেটের লোকজন শুনুন, বিজেপির সরকার হলেই গরিবদের সব টাকা ফেরাতে হবে।’’
‘‘বাংলার গরিবদের ভোট নিয়ে অনুদান যায় তৃণমূলের গুন্ডাদের ঘরে। মোদীজি লক্ষ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন। আপনাদের ঘরে কি গিয়েছে? মোদীজি যে বিকাশের অর্থ পাঠিয়েছিলেন, তা মমতাদিদির সিন্ডিকেট খেয়েছে।’’
‘‘বাঁকুড়ায় আলুর ফলন খুব। মমতাদিদির অহঙ্কার দেখুন! নিষিদ্ধ করে দিয়েছে, বলেছেন, বাংলার আলু ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডে যাবে না। সেখানকার মানুষ এখানকার মিঠা আলু খেতে চান। পাঠান না। কৃষকদের ২ টাকায় আলু বেচতে বাধ্য করে। বিজেপির সরকার আনুন। ওই দিনই এখানকার আলু পাশের রাজ্যে চলে যাবে।’’
‘‘পঞ্জাব থেকে যাতে আর আলুর বীজ আনতে না হয়, তা দেখব।’’
‘‘ওরা বলে, প্রধানমন্ত্রী আবাস মোদীজি পাঠিয়েছে। যারা কাটমানি দেয়নি আবাস পায়নি। তৃণমূলের গুন্ডাদের ২টো করে আবাস দিয়েছে। রাঢ়বঙ্গে দুর্নীতি করেছে। হাই কোর্ট বলেছে, বাঁকুড়ায় বালি খনন প্রশাসনের আশীর্বাদে হচ্ছে।’’
‘‘গম, ধানে প্রতি কুইন্টালে ১০ কেজি করে অবৈধ ভাবে কেটে নেয়। গন্ধেশ্বরীর সেতু প্রতি বছর ডুবে যায়। তবু মমতাদিদি দেখেন না। মমতাদিদি হীরকরানি। বলুন, হীরকরানি কে? ২৩ এপ্রিল পদ্ম প্রতীকে ভোট দিয়ে হীরকরানিকে উৎখাত করুন।’’
‘‘মমতাদিদিকে হটাতে হবে তো? পরিবর্তন করতে হবে তো?’’
‘‘ছাতনার বীরভূমিকে প্রণাম! টেরাকোটা, বালুচরি শিল্পীদের সম্মান জানাই। ২৩ তারিখ ভোট দিন, সরকার পাল্টান। এই অনুপ্রবেশ কি আপনাদের পছন্দ? সিন্ডিকেট টাকা নেয়। এ সব কি মমতাদিদি, ভাইপো বন্ধ করতে পারবে? আমরা ক্ষমতায় এলে এদের উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।’’
‘‘মোগরা হাই স্কুলের ঘটনা মনে করুন। সম্মিলনী মেডিক্য়াল কলেজ, হাসপাতালেও সিন্ডিকেট গরিবদের থেকে টাকা নেয়। ১২ বছর ধরে এসটি প্রমাণপত্র বেচে দুর্নীতি করেছে। প্রকৃত জনজাতিদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করেছে তৃণমূলের গুন্ডারা।’’
বাঁকুড়ায় জোড়া জনসভা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। প্রথমে ওন্দা বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অমরনাথ শাখার সমর্থনে রামসাগর ফিশারি ময়দানে এবং তার পরে ছাতনার বিজেপি প্রার্থী সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়ের সমর্থনে ঝাঁটিপাহাড়ি লাগোয়া এথানি ফুটবল ময়দানে সভা করছেন শাহ।