পুরুলিয়ার জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
পুরুলিয়ার সভা শেষে স্থানীয় গানের সঙ্গে নাচের তালে পা মেলান মমতা। মঞ্চেই আদিবাসী গানে তাঁকে নাচতে দেখা গিয়েছে।
পুরুলিয়ায় মমতা বলেন, ‘‘কে প্রার্থী দেখতে হবে না। আমিই প্রার্থী। আমার উপর ভরসা রেখে ভোটটা দেবেন। তৃণমূলই সরকার গড়বে। যতই করো চক্রান্ত, সব হবে ব্যর্থ। আর যেন জঙ্গলমহলে অশান্তি ফিরে না আসে। ভোটের আগে টাকা দিলে নিয়ে নেবেন, ভোট দেবেন না। ওরা বলে এক, করে আর এক।’’ বিজেপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘ বাংলা দখলের জন্য তোমরা এত হ্যাংলা কেন?’’
মমতা বলেন, ‘‘মা বোনেদের দায়িত্ব নিতে হবে। বুথ পাহারা দিতে হবে। আমাদের জায়গাগুলিতে পুনর্নির্বাচন করার পরিকল্পনা করেছে। সব চক্রান্ত ব্যাহত করে দেব। আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। আমি মানুষের ক্ষমতা পাব। ভোটবাক্সে বদলা হবে।’’
কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ব্যান্ডেজ’ নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন অমিত শাহ। মমতা বলেন, ‘‘আমি নাকি ব্যান্ডেজ পরে ঘুরে বেড়াই! ডাক্তারের রিপোর্ট দেখে এসো গিয়ে। আগের বার ভোটের সময় তোমরাই ইচ্ছা করে আমার পায়ে চোট দিয়েছিলে। আবার কি মারার প্ল্যান করছো নাকি? কারও চরিত্রহনন করার আগে তো পরিকল্পনা করা হয়। তেমন কিছু হয়েছে নাকি?’’
কলকাতায় এসে অমিত শাহ তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেছেন। তাঁকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘কাল বিজেপির এক বড় নেতা তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছেন। চার্জশিট তো আপনার বিরুদ্ধে পেশ হওয়া উচিত। আমেরিকা থেকে গুজরাতিদের কোমরে দড়ি পরিয়ে যখন আনা হয়েছিল, তখন কোথায় ছিলেন? নেই কাজ তো খই ভাজ!’’ শাহকে ‘স্বৈরাচারী’, ‘গণতন্ত্র হত্যাকারী’ বলে আক্রমণ করেছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘তোমরা মানুষের অধিকার কেড়েছো। কেউ এ বার তোমাদের ভোট দেবে না।’’
কিছু দিন আগে জেলা সফর সেরে ফেরার সময় কলকাতা বিমানবন্দরে মমতার বিমান দুর্যোগের মুখে পড়েছিল। দেড় ঘণ্টা তা আকাশে চক্কর কেটেছে। পুরুলিয়া থেকে তিনি বলেন, ‘‘আবহাওয়া ভাল নয়। মাঝে মাঝেই ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। আবার প্রচণ্ড গরম। পরশু কলকাতাতেও অনেক গাছ পড়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসন প্রশাসনের মতো সাহায্য করবে।’’
মমতার আশ্বাস, ‘‘সকলের কাচা বাড়ি পাকা করে দেব। এটাই আমাদের অঙ্গীকার। সারা জীবন মহিলারা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ পাবেন।’’
মমতা জানিয়েছেন, যাঁরা এখনও যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পায়নি, তাঁদের আবেদনে কিছু গোলমাল হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘যারা যুবসাথী পায়নি, তাদেরটা ডুপ্লিকেট হয়ে গিয়েছে। ডেকে ডেকে আবার ঠিক করাতে হবে। চিন্তা করবেন না। এটা কোনও ভিক্ষা নয়। যুবকদেরও তো হাতখরচ লাগে। তারাও চাকরি পাবে।’’
মমতা বলেন, ‘‘এক বার আমি লুকিয়ে বাইকে করে বেলপাহাড়ি গিয়েছিলাম। দেখি কড়াইতে কালো কী যেন ফুটছে। কী রান্না হচ্ছে? লোকজন বলল, সপ্তাহে দু’দিন খেতে পাই। বাকি পাঁচ দিন জঙ্গলের কালো পিঁপড়ে খেয়ে থাকি। ওদের সারা গায়ে পিঁপড়ের কামড়। গাছের শিকড় খেয়ে থাকত মানুষ। এটা চলতে পারে না। আমি পাল্টে দিয়েছি।’’
মমতা বলেন, ‘‘আগে এখানে আসতাম। বিকেলের পর কেউ বাইরে বেরোতে পারত না। জঙ্গলে বন্দুকবাজেরা থাকত। মানুষের মনে ছিল অশান্তি। বছরে ৪০০ লোক খুন হত।আমাদের সরকার শান্তি ফিরিয়েছে জঙ্গলমহলে।’’
পুরুলিয়ার মানবাজার কেন্দ্র থেকে এ বার সন্ধ্যারানি টুডুকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁর সমর্থনেই প্রচারে নেমেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মানবাজারে তাঁর সভা শুরু হয়েছে।