মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরের জনসভায়। ছবি: সংগৃহীত।
রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সরানোর কারণ ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কেন আমাদের সবাইকে চেঞ্জ করেছে জানেন? যাতে কেউ সীমানায় আটকাতে না পারে। সিআরপিএফ-এর গাড়ি করে টাকা আসছে। আর কোথায় টাকা যাচ্ছে জানি। আমার কাছে রেকর্ড আছে। ঠিক সময়ে ফাঁস করব।”
মালদহের ঘটনা নিয়ে ফের আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম-কে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিজেপি ধার করে মিমকে নিয়ে এসেছে। আইএসএফ ওদের সঙ্গে। কংগ্রেসেরও উস্কানি আছে। আর বিজেপিরও উস্কানি আছে। বিহারে এরা পয়সা নিয়ে ভোট কেটে বিজেপিকে জিতিয়েছিল। বুধবারও ওরা অশান্তি করেছে।”
বালুরঘাটের বিদায়ী বিধায়ক তথা অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়িকে এ বার আর টিকিট দেয়নি বিজেপি। হরিরামপুরের সভায় তা নিয়ে পদ্মশিবিরকে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বালুরঘাট থেকে একজন ভদ্রলোককে বাদ দিয়ে দিয়েছে। টিকিট দেয়নি। এরা ভদ্রলোক চায় না। ভাল লোক চায় না।”
ভোটের আগে রাজ্যে ২৫ দিন রাজ্যে থাকবেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তা নিয়ে হরিরামপুরের সভায় কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, “ভয় দেখাতে বলছে ২৫ দিন থাকব। তুমি ৩৬৫ দিন থাকো। তোমার মুখ লোক যত দেখবে, তত ভোট কাটবে। কারণ তোমার মুখে অত্যাচারের চিহ্ন, দাঙ্গার চিহ্ন।”
বিজেপি আসন পুনর্বিন্যাস করে বাংলা ভাগের চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘বিহার আর বাংলার কয়েকটা এলাকাকে নিয়ে আলাদা রাজ্য করার পরিকল্পনা করেছে। তবে তার আগেই ওরা হারবে। ২০২৬-এই হারাব।”
ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ভোটারদের আটকানো হতে পারে বলে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে দলীয় প্রার্থীদের অতি আত্মবিশ্বাসী না-হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবসাথী চান? তা হলে মা-বোনেরা, ভাইয়েরা এলাকায় নজর রাখুন।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মালদহের মোথাবাড়িতে ঘটনা যে ঘটিয়েছে, তাকে কে গ্রেফতার করেছে জানেন? এই রাজ্যের সিআইডি। বাগডোগরা দিয়ে পালাচ্ছিল, মুম্বই থেকে এসেছিল। এনআইএ আসার আগেই বাগডোগরা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি এজেন্সি পাঠিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইছে। বলছে টাকা দেব। ভুলেও অ্যাকাউন্ট নম্বর দেবেন না।”