ডেবরায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘মেদিনীপুরে এমন জোরে বোতাম টিপুন, দেশের সর্বত্র অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে যেন কারেন্ট লাগে।’’ বিজেপি প্রার্থীদের ভোট দিতে আবেদন করে ঘোষণা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
অমিত শাহ বলেন, ‘‘মমতাদিদি প্রধানমন্ত্রী মোদীজিকে আক্রমণ করেন। পাকিস্তানকে তিন বার আক্রমণ করেছি আমরা। নরেন্দ্র মোদী দেশকে সুরক্ষিত করেছেন। মমতাদিদি বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দিয়েছেন। মমতাদিদির উদ্দেশ্য, ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করা। মোদীজির লক্ষ্য, বাংলার বেকারদের কাজের ব্যবস্থা করা।’’
কে ভারতীয় আর কে অনুপ্রবেশকারী বোঝাই যাচ্ছে না। কারণ, এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে এ রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গড়লে পাখিও অনুপ্রবেশ করতে পারবে না। সীমার সুরক্ষা এমনই হবে। ডেবরা থেকে মন্তব্য করলেন অমিত শাহ। তিনি আরও বলেন, ‘‘তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের দুঃস্বপ্ন দূর হবে। আগামী ৫ বছর বিজেপি সরকার বাংলার বিকাশের রাস্তা খুলবে। ভয়, বিভেদ, ভ্রষ্টাচারকে দূরে সরিয়ে এগোবে বাংলা। এবার বাংলার মানুষ নতুন রাস্তা খুঁজে পাবে, এটা আমাদের আস্থা। সোনার বাংলা গড়বে বিজেপি।’’
ক্ষমতায় আসার এক বছরের পর ঘাটালের নিকাশি সমস্যার সমাধান করে দেবেন। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উল্লেখ্য, কিছু দিন আগে সিঙ্গুর থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, রাজ্য নিজের অর্থে এই প্রকল্প করছে। শাহের কথায়, ‘‘মোদীজি ১৫০০ কোটি টাকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উন্নয়নের জন্য পাঠিয়েছিলেন। ৬০ শতাংশ অর্থ মোদীজি দিতেন। কিন্তু তৃণমূল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানকে জঞ্জাল করে দিয়েছে। আপনারা চিন্তা করবেন না, বিজেপির সরকার আনুন, এক বছরের মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান করে নিকাশি ব্যবস্থার সমাধান করে দেব।’’
শাহ বলেন, ‘‘ভোটের ফল বার হওয়ার পর ৫ তারিখের পর বেকারদের তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। দিদির লোকেরাও সেই টাকা পাবেন। কৃষকেরাও পাবেন।’’
শাহ বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যত চেষ্টা করুন, এক এক করে অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে বার করব। অনুপ্রবেশকারীরা বেকারদের চাকরি খাচ্ছে, রেশন খাচ্ছে। ভোটের পর এক এক করে অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বার করে বার করে দেওয়া হবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘মমতাজির আমলে যে গুন্ডারা অত্যাচার করছে, তাদের বলে দিচ্ছি, কোথায় যাবে ঠিক করে নাও। ৫ তারিখের পর তাদের জেলে যেতেই হবে।’’
সভা শুরু করলেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যাসাগরের ভূমিতে প্রণাম করে সভা শুরু করলাম। আমরা সকলে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের জন্য একজোট হয়েছে। ২৩ এপ্রিল সকলকে পদ্ম চিহ্নে ভোট দিতে হবে।’’
এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে দাগিয়ে দিলেন খড়্গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভার আগেই হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে এসআইআরে বাদ পড়া (ডিলিটেড) ভোটারদের নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে খড়্গপুর শহরের তালিবাগিচা এলাকায় প্রচারে গিয়ে দিলীপ বলেছেন, ‘‘যারা যাওয়ার জন্য তৈরি, তাদের বিদায় ঘণ্টা বাজছে। পিসি-ভাইপোর ভোল পাল্টে যাচ্ছে। দিনকে দিন ‘টাইট’ হচ্ছে। যত জল ছিল সব নিংড়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ৯০ লাখ গিয়েছে। আরও ১০-১২-১৫ লাখ যাবে। এই ভুয়ো ভোটারদের জন্যই তিন বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। ৩৪ বছর সিপিএম ছিল। এই যে দেশদ্রোহী, দেশবিরোধীদের বিদায় হয়েছে, সে জন্য ভারতবর্ষে পরিবর্তনের ঢেউ, উন্নয়নের ঢেউ লেগেছে। সেটা এ বার পশ্চিমবাংলায় লাগবে।’’
শুক্রবার বিজেপির সঙ্কল্পপত্র (ইস্তাহার) প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের ‘ভীত’ মহিলা এবং যুব সম্প্রদায়কে আস্থাপ্রদান করতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকশিত ভারত’ পশ্চিমবঙ্গের উন্নতিসাধন করবে। মহিলাদের নিরাপত্তায় ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ চালু হবে। নিউ টাউনে সাংবাদিক বৈঠক করে মহিলাদের নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শাহ। তিনি জানান, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে মহিলা এবং বেকারদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসের প্রথম পাঁচ দিনের মধ্যে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ‘বঞ্চিত’ উত্তরবঙ্গে আইআইটি, আইআইএম, এমস তৈরি হবে। পুলিশ সহ রাজ্যের সব চাকরিতে মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়া হবে। ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হবে। আগামী ১০ বছরে কলকাতায় বিশ্বমানের উন্নয়ন হবে। যানজট কমাতে মেট্রো পরিষেবা আরও উন্নতি করা হবে। টাউনে সাংবাদিক বৈঠকে অনুপ্রবেশকারী ইস্যু নিয়ে শাহ আবার বলেন, ‘‘ওদের ‘ডিটেক্ট’, ‘ডিলিট’ এবং ‘ডিপোর্ট’ করা হবে।’’ অনুপ্রবেশকারী ইস্যু নিয়ে শাহ বলেছেনন, ‘‘ওদের ‘ডিটেক্ট’, ‘ডিলিট’ এবং ‘ডিপোর্ট’ করা হবে।’’