তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
বিজেপি-কে বিঁধে তৃণমূলনেত্রী বলেন, “কূটকাচালি, ছলনা যদি করো, আমাদেরও বিছুটিপাতা আছে। আমরা বিছুটিপাতা সাপ্লাই করে দেব।”
মমতা বলেন, “বাইরে থেকে ড্রাগ নিয়ে আসছে। অস্ত্র নিয়ে আসছে। কার গাড়িতে কখন ড্রাগের প্যাকেট ঢুকিয়ে দেবে। বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে এবং বাড়িতে পৌঁছোনোর সময়ে টেক কেয়ার। কখন কাকে গ্রেফতার করবে, সব নির্দেশ দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আবার একটা ইনস্ট্রাকশন দিয়েছিল, গরমে পুড়লে বার্নল লাগিয়ে দেবে। মানেটা কী! গরমে পুড়লে তো কেউ বার্নল লাগিয়ে দেয় না। বার্নল লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেবে সব। জ্বলে গেলে তখন বার্নল দেবে। লজ্জাও করে না! এই ভাবে ভোট হয়? কোনওদিন হয় না। হিম্মত থাকলে সামনাসামনি এসে লড়ো।”
মমতা বলেন, “তৃণমূলকে বলে চার্জশিট দিচ্ছি। আমি মোদীজিকে চার্জশিট দিচ্ছি। আপনার অর্থমন্ত্রীকে অবিলম্বে স্যাক করুন। আদর্শ আচরণবিধি ভেঙে কী করে তিনি ফর্ম বিলি করছেন! কেন বাজেটে রাখেনি! হিম্মত থাকলে বাজেটে রাখতেন, আপনি ভোটের আগে দিতেন, আমার কোনও আপত্তি ছিল না।”
মমতা বলেন, “আলিপুরদুয়ার জেলায় আমাদের সব প্রার্থীকে জেতান। বিজেপি-কে ভোট দিয়েছিলেন, একটা কাজও করেনি। জীবনেও করবে না। বরং আপনার অধিকার হরণ করবে। গণতন্ত্রের অধিকার হরণ করবে। আসন পুনর্বিন্যাসের নামে এনআরসি চালু করে। যার ভোট আছে, তাকেও বাদ দেবে।”
বিজেপি-কে বিঁধে মমতা বলেন, “এই যে ফর্মগুলো ফিলআপ করছে, এটা চিটফান্ডের কহানি। করলেন, তো গেলেন।”
মমতা বলেন, “গ্যাস, পেট্রল, ডিজ়েলের দাম কত বেড়েছে? যেই নির্বাচন হয়ে যাবে, তখন দেখবেন গ্যাস আর পাবেন না। ওটা গ্যাসবেলুন হয়ে যাবে। তখন ৫০০০ একটা গ্যাসের দাম হয়ে যাবে।”
তৃণমূলনেত্রী বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে মানুষ বর্ডারে বর্ডারে ভয় দেখাবে। আর আমাদের কিছু আছে বেচারা। তারা ভয়ে মাথানত করে দিয়েছে। তাদের নিয়ে গিয়ে আপনাকে বলবে, ঘর সে মত নিকালো। ভোট মত দো।”
মমতা বলেন, “ভোটের দিন ইভিএম মেশিন খারাপ হয়ে গেলে সেখানে ভোট করানোর চেষ্টা করলেও ভোট দেবেন না। কারণ, ওখানে চিপ ঢুকিয়ে দেবে। আপনি যেখানে ভোট দেবেন, সেটা অন্য জায়গায় চলে যাবে।”
মমতা বলেন, “আমাদের লোকেদের বলছে, সিকিউরিটি কেটে দাও। তৃণমূলকে মধ্যরাতে অ্যারেস্ট করো। বুথ এজেন্টকে অ্যারেস্ট করে দাও। সকলকে বলব, প্যারালাল এজেন্ট রেডি রাখুন। মেয়েদেরও কাজে লাগান।”
মমতা বলেন, “যেগুলি আপনাদের এখানে হোটেলে হোটেলে এসে বসে আছে, সেগুলো সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী। ওগুলোকে তাড়ান। বিদায় দিন। বাইরের লোক নিয়ে আসতে হচ্ছে কেন! এলাকায় অশান্তি করার জন্য? দু’লক্ষ পুলিশ আনতে হচ্ছে? কারণ, মেয়েদের উপর অত্যাচার করার জন্য। মেয়েদের গাড়ি চেক করার জন্য। মেয়েদের গাড়ি চেক করে কী পাবে! লিপস্টিক পাবে? না কাজল নিয়ে চোখে কাজল লাগাবে? না মেয়েরা যা যা ব্যবহার করবে, সেগুলো ব্যবহার করবে? মেয়েদের সম্মান দেওয়াটাও ভুলে গিয়েছে।”
তৃণমূলনেত্রী বলেন, “একটা অর্থমন্ত্রী আদর্শ আচরণবিধি ভেঙে বেআইনি কাজ করছে। ভারত সরকার করছে। দেখুন, যারা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের গ্রেফতার করবে, আমার গাড়ির সামনে এসেও চেক করবে! আমি বলেছি, করো ভাই। এসো। কী পাবে, আমি দেখতে চাই। যা পাবে দেখলে তোমাদের লজ্জা হবে। কিন্তু আমার গাড়ির সামনে এলে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িও চেক করতে হবে। হোটেলে হোটেলে বিজেপির যে নেতারা বসে আছে, তাদের ভান্ডারে কত টাকা আছে, ক্ষমতা থাকলে উদ্ধার করুন। সেই টাকা জনগণের কোষাগারে দিয়ে দিন। সারা ভারত থেকে লুঠেরা বাহিনী, বর্গীবাহিনী এসেছে।”
মমতা বলেন, “ভোটের সময়ে বহিরাগতেরা আপনার এলাকায় বসে আছে। বাইরে থেকে এসে হোটেল, গেস্ট হাউসে বসে আছে। কেউ উত্তরপ্রদেশ, কেউ রাজস্থান, কেউ মধ্যপ্রদেশ, কেউ অসম থেকে এসেছে। আপনাদের টাকা দেবে বলছে। ওই টাকা নিয়ে ওদের ফাঁকা করে দিন। নিজেদের লোক নেই। এজেন্সির লোকেদের দিয়ে ফর্ম ফিলাপ করছে।”
মমতা বলেন, “ওরা বলে যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে চাকরি হয়নি। তা আপনাদের চাকরি কোথায় গেল! আপনারা বলেছিলেন ভোটের আগে যে প্রতি বছরে ২ কোটি চাকরি দেবেন। তাতে ১২ বছরে আপনাদেরও ২৪ কোটি চাকরি হওয়ার কথা। কিন্তু রেলে কাজ করার জন্য গ্যাংম্যানও নেই।”
মমতা বলেন, “কখনও কখনও আপনাদের জঙ্গলে হাতির কোপে পড়তে হয়। সেটা দুর্ভাগ্য। হাতিকে কেউ কিছু করতে দেবে না ওরা। কিন্তু অন্য অনেক জায়গা আছে, তারা কী করে আমি জানি। আমি সেটা বলতে চাই না। আমি বন, অরণ্য, জঙ্গল, চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা, সব মানুষকে নিয়ে বাঁচতে চাই।”
আলিপুরদুয়ারবাসীর উদ্দেশে মমতা বলেন, “আমি আলিপুরদুয়ারে বার বার আসি। নতুন জেলা, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন প্রশাসনিক ভবন, রাস্তা থেকে শুরু করে ঝড়ে, জলে সবসময় আমি আছি। এখনও মানুষের কাছে বলতে হবে যে আমি কেন ভোট চাইছি?”
মমতা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের বাইরে এ রাজ্যের মানুষ কাজ করতে গেলে, বিজেপির রাজ্যে তাদের উপর অত্যাচার হয়। তাদের মারা হয়, খুন করা হয়। আমাদের রাজ্যেও বাইরের অনেক পরিযায়ী শ্রমিক আছে। আমরা তো তাদের অত্যাচার করি না।”
তৃণমূলনেত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলে গেলেন, আপনারা আসলে সপ্তম পে কমিশন চালু করবেন। আরে ওটা তো ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা চালু করে দিয়েছি। কিছু বলার আগে আপনার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারটাকে তো সম্মান করুন। মিথ্যা কথা বলার আগে ভাল করে ক্রসচেক করুন।”
মমতা বলেন, “আমরা সরকারি কর্মীদের ২৫ শতাংশ ডিএ শুধু দিয়েছি, তা-ই নয়, তারা অনেক ছুটি পায়। দুর্গাপুজো হোক, কালীপুজো হোক, ছট্পুজো হোক। পাঁচ বছর অন্তর তারা বিদেশেও যেতে পারে। রাজ্যেও ঘুরতে পারে। একমাত্র রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ যেখানে পেনশন আছে।”
মমতা বলেন, “অসম থেকে এনআরসি-র নোটিস পাঠাচ্ছে। জেনে রাখুন, ভোট চলাকালীন মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার নামে আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে আসছে। আমার তো ৩৭ শতাংশ মহিলা আছে। আমাকে তার জন্য সংরক্ষণ করতে হয়নি। আমি মহিলা সংরক্ষণকে সমর্থন করি। কিন্তু বলুন তো, মহিলাদের জন্য একই বিলে কেন আসন পুনর্বিন্যাস করে পশ্চিমবঙ্গকে খণ্ড খণ্ড করবে! মহিলাদের আত্মসম্মান আছে। মহিলাদের অসম্মান করা হচ্ছে, ব্ল্যাকমেলিং করা হচ্ছে। মহিলা বিল অনেক দিন আগে পাশ হয়ে আছে। তুমি এখনও কার্যকর করোনি কেন? জবাব চাই।”
মমতা বলেন, “চা বাগানের শ্রমিকেরা শুনুন, মোদীজি এসে বলেছিলেন আলিপুরদুয়ার-জলপাইগুড়িতে পাঁচটি চা বাগান খুলে দেবেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত খোলেননি। আমরা খুলেছি।”