Bhabanipur Election 2026 Results

‘ধাক্কা দিয়েছে, মেরেছে, ১০০-র বেশি আসন লুট করেছে’! কয়েক রাউন্ড গণনা বাকি থাকতেই সাখাওয়াত ছেড়ে চলে গেলেন মমতা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দ্বৈরথ ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই ভবানীপুরের গণনাপর্ব ছিল টানটান উত্তেজনায় পূর্ণ। প্রথম দিকে কখনও মমতা, কখন শুভেন্দু এগিয়ে ছিলেন। শেষের দিকে মমতাকে আবার পিছনে ফেলে দেন শুভেন্দু।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ মে ২০২৬ ২১:১২
তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: পিটিআই।

বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ শানিয়ে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১০০টিরও বেশি আসনে ভোট লুট হয়েছে বলেও অভিযোগ তুললেন তিনি। বেরোনোর সময়ে ক্ষুব্ধ মমতা বললেন, “আমাকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। পুরোটা একতরফা। ধাক্কা দিয়েছে, মেরেছে। সিআরপিএফ-এর সামনে।”

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দ্বৈরথ ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই ভবানীপুরের গণনাপর্ব ছিল টানটান উত্তেজনায় পূর্ণ। প্রথম দিকে কখনও মমতা, কখন শুভেন্দু এগিয়ে ছিলেন। তার পরে একটি দীর্ঘ সময় এগিয়ে থাকেন মমতা। যদিও ব্যবধান কমাতে কমাতে আবার তৃণমূলনেত্রীর প্রাপ্ত ভোট ছাপিয়ে যান শুভেন্দু। ঠিক এমনই একটি সময়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছু পরে সাখাওয়াত ছেড়ে বেরিয়ে যান মমতা। তখনও বেশ কয়েক রাউন্ড গণনা বাকি ছিল।

সাখাওয়াত থেকে বেরিয়ে মমতা বলেন, “আমাকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। পুরোটা একতরফা। ধাক্কা দিয়েছে, মেরেছে। সিআরপিএফ-এর সামনে। আমি প্রার্থী, আমাকে ঢুকতে দেয়নি। এটা হচ্ছে দানবিক পার্টি। ১০০টারও বেশি সিট লুট করেছে। এই নির্বাচন কমিশন হল বিজেপি কমিশন।” এ বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবালের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবি তৃণমূলনেত্রীর।

তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, “এটা কী ধরনের জয়! এটা ইমমরাল ভিক্ট্রি। মরাল ভিক্ট্রি নয়। পুরোটাই বেআইনি। জোর করে জিতেছে। লুট, লুট, লুট। আমরা ঘুরে দাঁড়াবই।” সোমবার দুপুর সাড়ে ৩টের কিছু পরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছোন মমতা। সেখানে আগে থেকেই বিজেপি কর্মীদের জটলা ছিল। মমতা পৌঁছোনোর আগেই একপ্রস্ত উত্তেজনা ছড়িয়েছিল সেখানে। মমতার গাড়ি সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছোতেই ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। সন্ধ্যায় তিনি গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময়েও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

মমতা সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছোনোর কিছু আগেই গণনাকেন্দ্রের অদূরে একটি পেট্রল পাম্পে বসেছিলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীও সেখানে ছিলেন। পরে জানা যায়, পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের সেখান থেকে উঠে যেতে বলে। যদিও ওই সময়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সেখানে ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এর কিছু পরেই এজেসি বোস রোড ধরে এগিয়ে আসা বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয় পুলিশের। পরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা তৃণমূলের জমায়েতস্থলে পৌঁছে যান। তৃণমূল কর্মীদের পেতে রাখা চেয়ার ভাঙচুরেরও অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে।

Advertisement
আরও পড়ুন