পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
সভার শেষে মমতা বলেন, ‘‘বদল নয়, বদলা চাই। ভোটের বাক্সে বদলা চাই। গণতন্ত্রে বদলা চাই। খুনোখুনিতে আমরা বিশ্বাস করি না।’’
মমতা বলেন, ‘‘মাছের ঝোল খাবে? আমি রান্না করে দেব কথা দিচ্ছি। এক দিন হয়ে যাক মানুষের সামনে? দেখব সোনার বাংলাকে কত ভালবাসো।’’ মোদীর ঝালমুড়িকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ‘‘এমন ঝালমুড়ি আমরা রোজ খাই। তোমাকে লোকদেখানোর জন্য বাড়ি থেকে তৈরি করে আনতে হয়।’’
মমতা বলেন, ‘‘যুবসাথীর টাকা যাঁরা পেয়েছেন, সেই যুবদের চাকরি খুঁজে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।’’
মমতা বলেন, ‘‘ভোটের পর দেখবেন পেট্রলের দাম, ডিজ়েলের দাম কত বেড়ে যাবে। গ্যাস তো হাওয়া হয়ে যাবে। জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে এনে আগুন জ্বালতে হবে। খুব সাবধান।’’
মমতা বলেন, ‘‘বিজেপি রাজনৈতিক গিরগিটি। এলাকায় এলাকায় টাকা পাঠাচ্ছে। ওটা কালো টাকা। কেউ নেবেন না। নিলেও ভোট দেবেন না।’’
মমতা বলেন, ‘‘ঝালমুড়িটা বাইরে থেকে তৈরি করে আনা। না হলে দোকানে কী করে মাইক সেট করা থাকবে? পকেট থেকে আবার ১০ টাকার নোট বার করছে! লোকে বিশ্বাস করবে? আমার কাছে এক টাকার কয়েন থাকে। গঙ্গায় দিতে হয়, মন্দিরে দিতে হয়। ১০ টাকা তো আমার কাছেও থাকে না।’’
মমতা বলেন, ‘‘প্রথম দিকে স্লো কাউন্টিং হবে। রটাবে বিজেপি জিতছে। সূর্যাস্তের আগে দেখবেন কোথাও ওরা জেতেনি। আগের বারের চেয়ে বেশি আসন আমরা পাব।’’
মমতা বলেন, ‘‘গায়ের জোরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাপ্পা ভোট দেবে। আমি ওদের বলব, রাজনীতি করবেন না। আমরা আপনাদের স্যালুট করি। আপনারা দেশরক্ষা করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী নাকি ‘বিজেপি জিন্দাবাদ’ বলে এখন! এত দুঃসাহস হয় কী করে?’’
মমতা বলেন, ‘‘কিছু দিন আগে লোকসভায় বিজেপিকে হারিয়েছি। এই ২০২৬-এই কেন্দ্রে বিজেপির পতন হবে। এটা সংখ্যালঘু সরকার। কারও কারও দয়ায় টিকে আছে।’’
মমতা বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী নাকি ভোটকেন্দ্রে আপনাকে চেক করবে। মেয়েদের গায়ে হাত দিলে আইনের পথে হাঁটবেন। কেউ হাতে অস্ত্র তুলে নেবেন না। কী করতে হবে, আপনি জানেন।’’
মমতা বলেন, ‘‘ভোট না দিয়ে কেউ হজ করতে যাবেন না। তা হলে এনআরসি করে তাড়িয়ে দেবে আপনাদের। ভোটটা নষ্ট করবেন না। আমি হজের সব ব্যবস্থা করে দেব।’’
মমতা বলেন, ‘‘নন্দীগ্রামে জোর করে ইভিএম মেশিন ভেঙে দিয়েছিল। আমি জেতার পরেও। কম্পিউটারে নাম না-ওঠা পর্যন্ত কেউ জমি ছাড়বেন না। এখানেও অনেক কিছু করতে পারে।’’
মমতা বলেন, ‘‘এখানে রোদ কিছুটা কম। আগের সভায় যা লু বইছিল! এর পরেও দু’ঘণ্টার মিছিল আছে। নিজের কেন্দ্রে ভাল করে কিছু করতে পারিনি।’’
মমতা বলেন, ‘‘নেতাজি বলেছিলেন, তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি স্বাধীনতা দেব। সেটা বলে দিল বিবেকানন্দ বলেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলল রবীন্দ্র সান্যাল। আরও কত কী বলেছে। রাসমণিকে রসমণি বলে ওরা। হুগলি জেলার অনেক সম্পদ। এখানে সব ধর্ম, সব সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করেন।’’
মমতা বলেন, ‘‘প্রথম দফার ভোটার তালিকা আজ দিয়েছে। যাঁদের কাল ভোট আছে, সকলে ভাল করে তালিকা দেখে নেবেন।’’
মমতা বলেন, ‘‘আমাদের জন্ম, কর্ম সব এখানে। আমাদের অনুপ্রবেশকারী বলছে! যারা ২০২৫-এ এসেছে, কেন্দ্রীয় সরকার লুকিয়ে নিয়ে এসেছে, তাদের সিএএ সার্টিফিকেট দিচ্ছে। আমি নিজে ভোটাধিকার বাঁচাতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম।’’
মমতা বলেন, ‘‘রেলের ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে। দূরপাল্লার ট্রেনে আজকাল চড়া যায় না। চাদরগুলো নোংরা, পাতা যায় না। খাবারে ইঁদুর, টিকটিকি ঘুরে বেড়ায়। শৌচালয়ে যাওয়া যায় না। নিজেদের দিকে আগে তাকাও।’’
মমতা বলেন, ‘‘পহেলগাঁওয়ে এসে জঙ্গিরা আমাদের মেরে যায়। মোদীবাবু পাকিস্তানকে আক্রমণ করতে পারেন না। আর বাংলায় ভোটের জন্য সাঁজোয়া গাড়ি এনেছে! কিসে লাগে? পহেলগাঁওয়ের সময় সাঁজোয়া গাড়ি কোথায় ছিল? মণিপুরে তিন বছর ধরে শান্তি নেই। সেখানে এই গাড়ি পাঠান।’’
হুগলি থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে আলুচাষিদের বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন মমতা। বলেছেন, ‘‘আলুচাষিদের দাম দিচ্ছে না বিজেপি। নির্লজ্জ দল। যত চাষি আছে, ফসল নষ্ট হলে তাঁদের আমরা সরকারের তরফে হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে বিমা করিয়েছি। ফসল বন্যায় ভাসলে, পোকায় নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ পায়। একমাত্র এক জন মালিক দিতে চাইছিলেন না টাকা। তাঁকে আজ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন বলেছে। সেটা সম্ভবত মেমারিতে। আমার কাছে সব খবর থাকে।’’