(বাঁ দিকে) অমিত শাহ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট উপলক্ষে ১৫ দিন রাজ্যে থাকবেন বলে জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটের দিন দলীয় দফতর থেকে পুরো পরিস্থিতি খতিয়েও দেখেছেন তিনি। এই আবহে নাম না-করে অন্য রাজ্যের ভোটার শাহ পশ্চিমবঙ্গে কেন থাকবেন, সেই প্রশ্ন তুলে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিশানাও অব্যাহত রেখেছেন তিনি। উল্টো দিকে, অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি, তোষণের রাজনীতির মতো চেনা অভিযোগগুলিকে সামনে রেখে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ।
মুখ্যমন্ত্রী এ দিন চৌরঙ্গী ও যাদবপুরে নির্বাচনী জনসভা ও তাঁর নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র ভবানীপুরে পদযাত্রা করেছেন। সভা থেকে নাম না-করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মমতার তোপ, “মিস্টার দাঙ্গাশ্রী, যান মণিপুরে ভাষণ দিন! বলছেন, ২৯ তারিখ পর্যন্ত এখানে থাকবেন। আপনি এখানকার ভোটার নন। বহিরাগতেরা থাকতে পারেন না নির্বাচনী ক্ষেত্রের মধ্যে।” পাশাপাশি, এ দিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভোট-প্রচারকেও (দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য) কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, “একটা চেয়ার মিথ্যার ফুলঝুরি ছোটাতে পারে না। ধিক্কার জানাই! ভোটের দিন (প্রথম দফায়) কী জন্য নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন? প্রতি ভোটে সকাল বেলায় বেরিয়ে পড়েন। গণনার দিন ‘এয়ার কন্ডিশন’ রাখা কোনও গুহায় গিয়ে সাধনা করেন। যেন কত বড় সাধু!” পাশাপাশি, কলকাতাকে মমতা ‘বস্তির শহর’ বানিয়ে দিয়েছেন বেল শাহ যে কটাক্ষ করেছেন, তারও পাল্টা সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, “গরিব লোক থাকবেন না? আপনারা একা থাকবেন? আপনি আগে কত টাকার মালিক ছিলেন, এখন কত? আপনার ছেলে? ক্রিকেটের কোটি কোটি দরপত্র, না-ই বা বললাম।”
হুগলির বলাগড় ও পুরশুড়া থেকে দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশ প্রশ্নে ফের মমতার সরকারকে তীব্র নিশানা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। তাঁর অভিযোগ, “রাজ্যের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি। বালি, পাথর ও কয়লা মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য এবং সরকারি কাজে ‘কাটমানি’ সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সিন্ডিকেট-রাজ পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।” পাশাপাশি, শাহ ফের বলেছেন, “৪ মে দিদি সাফ। অনুপ্রবেশকারী মুক্ত বাংলা হবে, গুন্ডারাজ সমাপ্ত হবে। অনুপ্রবেশকারীরা যুবকদের চাকরি, গরিবের রেশন খাচ্ছে। দেশকে অসুরক্ষিত করছে।”
মমতা ফের কমিশন, বিজেপিকে এক পঙ্ক্তিতে রেখেও সরব হয়েছেন। বলছেন, “এসআইআর-এর নাম করে কমিশন ছ’মাস ধরে ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছে। দুর্যোধন, দুঃশাসনদের বসিয়েছে। নবান্নটাকে তছনছ করে দিয়েছে। এর দায়িত্ব ওঁদের নিতে হবে। ঘাপলা হলে সব ওঁদের ঘাড়ে যাবে।” পাশাপাশি, বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ঘনিষ্ঠ হরিয়ানার এক আমলাকে এখানে এনে নানা ভাবে চাপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ। তাঁর সংযোজন, “এক জন বললেন, দিদি গ্রামে এখন হরিনাম, আজানের সুর শোনা যাচ্ছে না। শুধু শোনা যাচ্ছে গট গট করে বুটের শব্দ। যেন যুদ্ধবাহিনী, হল্লাবাহিনী এসে দখল করার চেষ্টা করছে! দিল্লি থেকে এল ভোদাই আর হাঁদাই! সঙ্গে নিয়ে এল ইডি-সিবিআই। সঙ্গে যুদ্ধের সাঁজোয়া গাড়ি। পহেলগাম, পুলওয়ামা, দিল্লির হামলার সময়ে কোথায় ছিল সাঁজোয়া গাড়ি?” নাম না-করে রাজ্যপালকেও নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, “২০০৫ সাল থেকে হিসাব নিয়েছেন লাটসাহেববাবু। আমি জানিও না। হিসাব করছে। আপনার ক্যালকুলেটরটা বিজেপি-কে দিন। আপনি নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করুন।” এর সঙ্গে ভবানীপুরে তাঁর জনসংযোগ কর্মসূচির অনুমতি না-দেওয়া নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই পরিস্থিতিতে মমতার বিরুদ্ধে পাল্টা তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, “মোগল, ইংরেজ, কংগ্রেস, তৃণমূল রামমন্দির চায়নি। মোদী বানিয়েছেন। মমতার চ্যালা হুমায়ুন কবীর বলছেন, বাবরি মসজিদ বানাবেন। বাংলা ভারতের অংশ। আমরা এখানে বাবরি মসজিদ হতে দেব না।”