—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
ট্রাইবুনালে আবেদন করতে ভিন্-রাজ্যের কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরেছেন কেউ। কেউ অনলাইনে আবেদন করেও, সরকারি অফিসে হাজির হয়েছেন আবেদন জমা দিতে। পরিযায়ী শ্রমিকদের একাংশের আতঙ্ক, ভোটার তালিকায় নাম না উঠলে ভিন্-রাজ্যের কাজ, বাসস্থান না চলে যায়! বুধবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা মিলেছে এমন অনেকের, যাঁরা ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ায় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের আরফিন মণ্ডল গুজরাতের সুরাতে জরিশিল্পে কাজ করেন। এসআইআর শুনানির জন্য কিছু দিন আগেই ফিরতে হয়েছিল। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় ফের এসেছেন। তাঁর কথায়, “কাজ ফেলে আসতে হল। ভোটার কার্ড না থাকলে, ভিন্-রাজ্যে হয়তো কাজ থাকবে না।” আউশগ্রামের আনন্দ দাস চেন্নাইয়ে জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের কাজ করেন। তাঁরও দাবি, “কাজ ছেড়ে এসেছি। ভোটার কার্ড না থাকলে চেন্নাইয়ে থাকার জায়গা পাব না!” মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার সোহারুল ইসলাম রাজমিস্ত্রির কাজ করছেন ওড়িশায়। বলেন, “নোটিস পেয়ে অনেক কষ্টে শুনানিতে গিয়েছিলাম। নথি জমা দিলেও আমার এবং ছেলে-মেয়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ। স্ত্রী ফের অনলাইনে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছে। ভবিষ্যৎ কী, জানি না!”
অনিশ্চয়তা ভোগাচ্ছে নদিয়ার শান্তিপুরের বছর পঁচাত্তরের সুখেন্দুচন্দ্র সরকারকেও। রানাঘাটে জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে ট্রাইবুনালের দফতরে আবেদন দিতে এসে বললেন, “তালিকা থেকে নাম বরাবরের মতো বাদ গেলে ভিটেমাটি ছাড়তে হতে পারে। তালিকায় শুধু নামটা থাক। আগেও ব্লক অফিসে নথি দিয়েছিলাম। কাজ হয়নি।” উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার সরিয়ত মণ্ডলের ক্ষোভ, “সব নথি থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ গিয়েছে!” কোচবিহারের দিনহাটা ১ নম্বর ব্লক অফিসে আসা আটিয়াবাড়ির রাহুল হক বলেন, “অনলাইনে আবেদন করেছি। এ বার লাইনে দাঁড়িয়েও করব।” একই ভাবনার শরিক পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের শাকিলা বিবি, খালেদা বিবিরা।
ট্রাইবুনালে আবেদন করতে এ দিনও বহরমপুরে ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং সেন্টার ও মহকুমাশাসকদের দফতরগুলিতে ভিড় ছিল। ভিড় ছিল বীরভূমের বোলপুর, রামপুরহাটে। তবে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, “ট্রাইবুনালের শুনানি কবে শুরু হবে, সে নির্দেশিকা আসেনি।” উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের কালুডাঙায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে সকালে কালিয়াগঞ্জ-দুর্গাপুর রাজ্য সড়কে ঘণ্টা দুয়েক অবরোধ করে জনতা। সঙ্গে ছিল জাতীয় পতাকা।