ছবি: সংগৃহীত।
পাহাড়ি বাঁক ঘুরলেই মেঘ-কুয়াশা যেন জাপটে ধরে। খানিক থমকে দাঁড়ালে, পাইন-ধূপির আড়াল থেকে গান শোনায় পাখির দল। লম্বা পথ যেতে যেতে যদি আকাশ-বাতাসের মেজাজ বদল হয়, সরে দাঁড়ায় পথ আগলে দাঁড়িয়ে থাকা কুয়াশার চাদর, দৃশ্যমান হয় এক স্বপ্নময় সবুজ উপত্যকা। ছোট্ট একটি পাহাড়ি গ্রাম, জীবনীশক্তিতে মুখর, নাম তার বোরং।
এই গ্রাম অফিস, কাজ, ডেডলাইনের চাপে নাভিশ্বাস উঠতে থাকা শহুরে মানুষের স্বপ্ন। নির্জনতাই এর বিশেষত্ব। দক্ষিণ সিকিমের স্বল্প পরিচিত এই স্থানটি আগামী দিনে হয়ে উঠতে পারে পর্যটনপিপাসুদের ঠিকানা। শিলিগুড়ি থেকে দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সেবক হয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে গাড়ি ছুটলেই মন ভাল হয়ে যাবে। এই পথের সঙ্গী হবে তিস্তা। রাবাংলা থেকে এই জায়গার দূরত্ব মাত্র ১৭ কিলোমিটার। অথচ দুই স্থানের সৌন্দর্য-পরিবেশে তফাত বিস্তর।
বারবাংলা এখন পুরোদস্তুর শহুরে। ঝাঁ চকচকে রিসর্ট সেখানে একের পর এক। সারি সারি দোকান-পসরা, নানা রকম খানাপিনার আয়োজন সেখানে। তবে ভিড়ভাট্টা, শব্দ সব কিছুর চেয়ে দূরে থাকা বোরং যেন শান্তির ঠিকানা।
মেঘমুক্ত দিনে এই গ্রাম থেকেই দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। আকাশ ভীষণ ঝকঝকে থাকলে দৃশ্যমান হয় তুষারাবৃত নরসিং এবং পান্ডিম পর্বত শিখর। এই গ্রাম অলস দিনযাপনের জন্য। এখানে দিন শুরু করতে পারেন ধোঁয়া ওঠা গরম মোমো কিংবা ঝোল ঝোল নুডলসের স্বাদ আস্বাদনে। একটা দিন কোনও কিছু না করে শুধু আকাশ-অরণ্য, পাহাড়ের দিকে তাকিয়েই কাটিয়ে দিতে পারেন।
আর যদি আশপাশ ঘুরে দেখতে হয় গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। বোরং থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে রালং মনাস্ট্রি বা বৌদ্ধ মঠ। পাহাড়ের কোলে রঙিন দেওয়াল উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে মঠে। খোলা চত্বর। মাঝমধ্যে ভেসে আসে গুরুগম্ভীর মন্ত্রোচ্চারণ।
এখানে সময় যেন থমকে যায়। অতিথিদের মনে করায় ছুটে চলাই জীবন নয়, কখনও থিতু হয়ে নিজেকে চেনার চেষ্টা করার দরকার। ভ্রমণ তালিকায় রাখুন বোরং উষ্ণ প্রস্রবণ। খনিজ মিশ্রিত জলে স্নান করে নাকি অনেকের চর্মেরাগও সারে।
বোরং–এর বাইরে দেখার আছে গ্রাম-জীবন। এখানকার ঘরবাড়ি, মানুষজন। চাইলে রাবাংলার বুদ্ধ পার্কও ঘুরে আসা যায়। পার্কটি অত্যন্ত সুসজ্জিত। মেঘের চাদর না থাকলে পাহাড় ঘেরা উন্মুক্ত চত্বরটি ভারি মনোরম দেখায়।
কোথায় থাকবেন
বোরং-এ হাতেগোনা কয়েকটি হোম স্টে রয়েছে। এখানে এলে অবশ্যই স্থানীয় খাবারের স্বাদ চেখে দেখুন।
কী ভাবে যাবেন
ট্রেনে এ পৌঁছোন নিউ জলপাইগুড়ি। বাসে শিলিগুড়িও আসতে পারেন। গাড়িতে রাবাংলা হয়ে বোরং।