—প্রতীকী চিত্র।
পদ্মা পাড়ের বিধানসভা জলঙ্গি বরাবরই থাকে বিতর্কের কেন্দ্রে। কিন্তু তার মাঝেও গত বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে শাসক দল তৃণমূল। কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, গত পাঁচ বছরে হিসেব বদলে গেছে অনেকটা। প্রথমত গত বছর এনআরসি-র কারণে সংখ্যালঘু ভোট ছিল এককাট্টা। এ বার কিন্তু পরিস্থিতি তেমনটা নেই বরং বাম ও কংগ্রেসের জোট না হওয়ার ফলে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ অংশের একটা ভোট চলে যেতে পারে কংগ্রেসের ঘরে। তা ছাড়া, এই পাঁচ বছরে সীমান্তের এই বিধানসভায় আইএসএফ, মিমের মতো দল কিছুটা মাথা ছাড়া দিয়েছে। শাসক শিবিরের ভোটে কিছুটা হলেও ভাগ বসাবে হুমায়ুন কবীরের দল এজেইউপি। আবার, ১৩ হাজারেরও বেশি ভোটাদের ভাগ্য ঝুলে আছে বিবেচনাধীন হিসেবে। ফলে জলঙ্গিতে এ বার কী হবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৪০ ভোটে জিতেছিলেন। শতাংশের হারে ভোট বেড়েছিল ১৮.৬৮ শতাংশ। কিন্তু এরপরে পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। সীমান্তের বিধানসভার তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে দলের গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই হয়েছে সম্মুখ সমরে। অন্যদিকে কংগ্রেস সিপিএমের সঙ্গে জোটে না যাওয়ায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ অংশের কংগ্রেসে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই বিধানসভায় এ বারের নির্বাচনে শাসক দলের কাছে লড়াই যে সহজ হবে না তা পরিষ্কার।
ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা কংগ্রেস প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে আছেন। তাঁর দাবি, ‘‘এ বার হিসেবে অনেকটাই বদলে যাবে সিপিএমের সঙ্গে জোট না হওয়ার কারণে। কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ বড় অংশ এতদিন চলে যেত তৃণমূলে। তারা হাত প্রতীক পেলে আর অন্য কোথাও ভোট দেবে না। ফলে জলঙ্গিতে এ বার হিসেব বদলে যাওয়ার পালা।’’
গত বিধানসভা নির্বাচনে জলঙ্গিতে বিজেপি এক লাফে তাদের ভোট বাড়িয়েছিল প্রায় ১২ শতাংশ।
অন্যদিকে ওই বিধানসভায় এলাকায় বিবেচনাধীন ভোটারের সিংহভাগই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। ফলে সেই ভোট বাতিল হলে এবং সংখ্যালঘু ভোট বিভিন্ন ভাগের ভাগ হলে জলঙ্গিতে বড় সুবিধা পাবে বিজেপি। বিজেপি নেতা শাখারভ সরকার বলেন, ‘‘জলঙ্গি এর আগেও ইতিহাস তৈরি করেছে। ভারতীয় জনসঙ্ঘ সেখানে জিতেছিল এক বার। ফলে জলঙ্গি অনেক হিসেব বদলে দিতে পারে।’’
যদিও জলঙ্গির বিদায়ী বিধায়ক তৃণমূলের আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল আত্মবিশ্বাসী জয় নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘জলঙ্গির জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা। মানুষ বিগত দিনেও আমাদের সঙ্গে ছিলোন, এ বারও থাকবেন। বিরোধীরা স্বপ্ন দেখছেন, দেখতে থাকুন, অসুবিধা কোথায়।"