—প্রতীকী চিত্র।
রাজ্যে বিধানসভা ভোট ঘোষণার পরে আমলা থেকে পুলিশ-প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। অপসারিত হন রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজি-ও। কমিশনের ওই সব পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয় তৃণমূল। এ বার অফিসার বদলি নিয়ে পাল্টা শাসকদলকে ব্যাখ্যা দিল কমিশন। তাদের মতে, গণহারে বদলির শুরু রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল সরকারই শুরু করেছিল। কমিশনকেও তাই এত এত বদলি করতে হয়েছে। কমিশন জানায়, বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং নির্বাচন শুরুর আগে নবান্ন হঠাৎ করে ১৩৭০ জন অফিসারকে বদলি করেছিল। এই অবস্থায় ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে ভোট করানোর জন্য কমিশনকেও প্রয়োজনীয় বদলি করতে হয়েছে।
গত বছর ২৭ অক্টোবর রাজ্যে এসআইআর শুরুর বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন। তার আগে প্রশাসনের প্রায় সর্ব স্তরে আধিকারিক বদলি করে নবান্ন। তারা জানত, এসআইআর চলাকালীন কমিশনের অনুমতি ছাড়া জেলাশাসক, মহকুমাশাসক এবং বিডিওদের বদলি করানো যায় না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। এসআইআর প্রক্রিয়া শেষেও আধিকারিকদের বদল করা হয়। কমিশন বলছে, গত বছর ২৭ অক্টোবরের আগে থেকে গত ১৫ মার্চ বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত, রাজ্য মোট ১,৩৭০ জন অফিসারকে বদলি করেছিল। তার মধ্যে ৯৭ জন আইএএস এবং ১৪৬ জন আইপিএস অফিসার ছিলেন। ওই সময় ১০৮০ জন ডব্লিউবিসিএস অফিসারকে বদলি করা হয়েছিল। এ ছাড়া রাজ্য পুলিশের ৪৭ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক পদে রদবদল করেছিল নবান্ন।
কমিশনের যুক্তি, ভোটের ঠিক আগে আগে রাজ্যের বিপুল বদলির ফলে প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হয়। পরে কমিশন খুবই অল্প সংখ্যক বদলি করে পরিস্থিতি ঠিক করার চেষ্টা করে। যদিও এ যুক্তি মানতে নারাজ তৃণমূল। একাধিক জনসভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিজেপির কথায় কাজ করছে কমিশন। ভোটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন অফিসারদেরও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। অফিসার বদলি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলাও করে তৃণমূল। আদালত অবশ্য কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি।
গত ১৫ তারিখ ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দেয় কমিশন। পরে একে একে রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ প্রশাসনে একাধিক বদল আনে তারা। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জন অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। সেই তালিকায় রয়েছে বিডিও থেকে থানার ওসিরাও। তাদের কোপ থেকে বাদ যায়নি খোদ সিইও দফতরের অধিকারিকরাও। ভোটগ্রহণের দিন যত সামনে আসছে কমিশনের বদলির সংখ্যাও তত বাড়ছে। তবে এর জন্য তারা তৃণমূল সরকারকেই দায়ী করছে।