SIR in West Bengal

‘ভোটার তালিকা নির্ভুল করার কাজ করেছি, আজ নিজের নামটাই বাদ’! আক্ষেপ অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের

ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে বুথ পরিচালনা— নির্বাচন কমিশনের রীতিনীতি ছিল যাঁর নখদর্পণে, জীবনের সায়াহ্নে এসে সেই মানুষটিরই নাম উঠল না ভোটার তালিকায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৫৮
Name of retired deputy Magistrate removed from voter list in West Bengal

প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মহম্মদ মতিন। —নিজস্ব চিত্র।

এক সময় ভোটযন্ত্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে বুথ পরিচালনা— নির্বাচন কমিশনের রীতিনীতি ছিল যাঁর নখদর্পণে, জীবনের সায়াহ্নে এসে সেই মানুষটিরই নাম উঠল না ভোটার তালিকায়। বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের বাসিন্দা প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মহম্মদ মতিন। ৭৬ বছরের বৃদ্ধের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে।

Advertisement

তুরুক-ময়না গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ মতিনের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল ১৯৭৪ সালে। তিনি মুর্শিদাবাদের সুতি ও সাগরদিঘির বিডিও হিসেবে কাজ করেছেন, দায়িত্ব সামলেছেন হুগলির ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটেরও। অবসর গ্রহণের পর বর্ধমান পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। অভিযোগ, কমিশনের শুনানিতে পাসপোর্ট, পেনশনের নথি এবং চাকরির পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও অতিরিক্ত তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। মতিনের কথায়, ‘‘জীবনের দীর্ঘ সময় ভোটার তালিকা নির্ভুল করার কাজ করেছি। আজ নিজের নামটাই বাদ পড়ল, এর চেয়ে অপমানজনক আর কিছু হয় না।’’

কেবল মতিনই নন, তাঁর স্ত্রী রেজিনা বেগম-সহ পরিবারের বেশ কয়েক জন সদস্য এবং ওই গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে ‘ডিলিট’ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের ২৪৯ জনের নাম ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০৬ জনকেই চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে বিঁধে বলেন, ‘‘নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি কমিশনের কাজ হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে।’’ পাল্টা বিজেপি নেতা জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করলেই সমস্যার সমাধান হবে। তৃণমূল অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে।’’ যাঁর সই নিতে এক সময় লাইনে দাঁড়াতেন গ্রামবাসীরা, সেই অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্তার নাম বাদ পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে বলে খবর।

Advertisement
আরও পড়ুন