WB Assembly Elections 2026

তিন দিকে কামারহাটি ঘেরা বরাহনগরের একখণ্ড ‘দ্বীপ’! এ বারেও কেউ ভোট চাইতে এল না বেলঘরিয়ার পাড়ায়

বরাহনগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ সিঁথির মোড় থেকে ডানলপ মোড়ের মধ্যেকার অংশে। মূলত বরাহনগর পুরসভা এলাকা নিয়েই। কামারহাটি পুরসভার তিনটি ওয়ার্ডও রয়েছে।

Advertisement
অভিরূপ দত্ত
শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩৫
Picture of election

বরাহনগর বিধানসভা এলাকার মধ্যে কামারহাটির প্রার্থীর প্রচার। —নিজস্ব চিত্র।

প্রত্যন্ত নয়, তবুও প্রান্তিক! বিধানসভার ভোট থাকলেও উত্তাপ নেই। নির্বাচনী কোলাহল আছে। অথচ প্রচার নেই! বরাহনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উত্তরতম প্রান্ত যেন নির্বাচনী বাংলার এক ‘বিচ্ছিন্ন’ অংশ।

Advertisement

কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশের এলাকা যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখান থেকে চার কিলোমিটারও নয়। তস্য গলিও নয় কোনও। যোগাযোগ ব্যবস্থা যথেষ্ট ভাল। আধুনিক জীবনযাপনের জন্য যা যা প্রয়োজন সব কিছুই হাতের কাছে।

ডানলপ মোড় পেরিয়ে বিটি রোড ধরে খানিকটা এগোলে ডান হাতে শুরু নীলগঞ্জ রোড। বেলঘরিয়া থানার পিছন দিয়ে চলে গিয়েছে ওই রাস্তা। দু’স্টপেজ পর বিটি রোডের রথতলা মোড়ের সঙ্গে নীলগঞ্জ রোডকে জুড়েছে ফিডার রোড। ত্রিভুজ আকৃতির এই অংশে জনবসতি কম। বাজার, হাসপাতাল, পেট্রল পাম্প, কারখানা, গোডাউন, গ্যারাজ, দোকান, রেস্তরাঁ, মন্দিরের দখলে ৭৫-৮০ শতাংশ জায়গা। একদম উত্তর-পশ্চিম দিকে ফিডার রোড সংলগ্ন প্রান্তে পাঁচ-ছ’টি বাড়ি এবং দু’টি আবাসন।

ত্রিভুজ আকৃতির অংশটি কামারহাটি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা কামারহাটি বিধানসভার বামফ্রন্ট প্রার্থী সিপিআইএমের মানস মুখোপাধ্যায় এবং কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা। তিনি কাউন্সিলরও। ওয়ার্ডটি বরাহনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। স্বাভাবিক ভাবেই কামারহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীরা এই ত্রিভুজাংশের উত্তর-পশ্চিম অংশে নির্বাচনী প্রচারে আসেন না। আসেন না বরাহনগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীরাও! ভোটার শতাধিক। তা-ও কোনও দলের প্রার্থীই কষ্ট করে ওই পর্যন্ত আসেন না প্রচার করতে। রাজনৈতিক দলের কর্মীরাও অধিকাংশ সময় ভোটার স্লিপ দিতে আসেন না। এ বারও যেমন একটি মাত্র দল স্লিপ দিয়ে গিয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনের কোনও চিহ্ন নেই।

বিধানসভা নির্বাচনের কোনও চিহ্ন নেই। —নিজস্ব চিত্র।

প্রদীপ মুখোপাধ্যায় এলাকার দীর্ঘ দিনের বাসিন্দা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আগে বাড়িতে আসতেন প্রার্থীরা। গত ১৪-১৫ বছর তেমন কেউ আসেন না। কেন বলতে পারব না। কখনও কখনও বিটি রোড ধরে মিছিল বা রোড শো হয়।’’ আর এক স্থানীয় বাসিন্দা দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাইরের লোকেদের প্রার্থী করা হয়। তাঁরা হয়তো জানেন না। তবে পুরসভা নির্বাচনের সময় একাধিক প্রার্থী এসেছিলেন।’’

বরাহনগর বিধানসভা কেন্দ্রের এই ত্রিভুজাংশটি একে বারে প্রান্তিক। তিন দিকে কামারহাটি বিধানসভা কেন্দ্র। অনেকটা উপদ্বীপের মত অংশটিতে অল্প কিছু রাজনৈতিক পতাকা দেখা গেলেও ব্যানার, হোর্ডিং, পোস্টার, দেওয়াল লিখন প্রায় নেই। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার নির্বাচনী সজ্জার পাশে বেশ বেমানান। আশপাশে কামারহাটি কেন্দ্রের প্রার্থীদের প্রচার দেখে একটা দৃশ্যবিভ্রম তৈরি হয়। মনে হয়, জায়গাটিও ওই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। বিভ্রম আরও বাড়িয়ে তোলে রথতলা মোড়ের কাছে ছোট রাজনৈতিক প্রচার সভাগুলি। নির্বাচনী কোলাহল থাকে বহাল তবিয়তে।

এ বার কোনও দলের প্রার্থীই এই অংশে ভোট চাইতে আসেননি। শাসক দলের প্রার্থীকে একঝলক দেখেছেন কয়েক জন। ব্যারাকপুরে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ফেরার সময় গাড়ির ‘সান রুফ’ খুলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। লোকসভা বা পুরসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্য বঞ্চিত থাকতে হয় না এখানকার ভোটারদের। শুধুই বিধানসভা নির্বাচনে প্রান্তিক।

Advertisement
আরও পড়ুন