WB Elections 2026

ভোটের সামগ্রী বিতরণ কেন্দ্রে ‘অব্যবস্থা’, ক্ষোভ

এ দিন কোচবিহারে আবেদন করেও কিছু ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালট মেলেনি বলে অভিযোগ ওঠে। আলিপুরদুয়ারে অনেক ভোটকর্মীকে চড়া রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বলে অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বিভিন্ন জেলায় ভোট-সামগ্রী বিতরণ কেন্দ্রে (ডিসিআরসি) অব্যবস্থার ছবি সামনে এল রাজ্যে বিধানসভা ভোটের প্রথম পর্বের আগের দিন, বুধবার। অসুস্থ হলেন কিছু ভোটকর্মী। হল বিক্ষোভ, পথ অবরোধ।

ভোটকর্মীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান নিয়ে মুর্শিদাবাদে প্রথম থেকেই অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। বুধবারও ভোটকর্মীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে অব্যবস্থার অভিযোগ তোলেন। কয়েক জন ভোট দিতে পারেননি বলে দাবি। জেলাশাসক আর অর্জুন অবশ্য বলেন, ‘‘কিছু অভিযোগ এসেছিল। সে সব মিটেছে। জেলায় ৮০ শতাংশের উপরে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান হয়েছে।’’ বীরভূমে ভোটের সাম্মানিক না পাওয়া, ডিসিআরসিতে যাওয়ার বাস সময়ে না পাওয়া, ভোট-সরঞ্জাম পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার অভিযোগ তুললেন ভোটকর্মীদের একাংশ। এই জেলার আটটি ডিসিআরসির প্রায় সব ক’টি থেকেই নানা অভিযোগএসেছে। ভোটকর্মীদের একাংশ টাকা না পেলে ভোটের কাজে যাবেন না বলে দাবিও তোলেন। বাস না পেয়ে সিউড়ির রামকৃষ্ণ শিল্প বিদ্যাপীঠের সামনে জাতীয় সড়কে সাময়িক অবরোধ হয়।

এ দিন কোচবিহারে আবেদন করেও কিছু ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালট মেলেনি বলে অভিযোগ ওঠে। আলিপুরদুয়ারে অনেক ভোটকর্মীকে চড়া রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বলে অভিযোগ। মালদহে তিন ভোটকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন।জলপাইগুড়িতে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে বিশেষ ভাবে সক্ষম স্কুল শিক্ষক পবনকুমার ঘোষকে ভোটের কাজে নিয়োগ করার অভিযোগ ওঠে। পরে, অবশ্য তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ পুর বাসস্ট্যান্ডে আবার ভোটকর্মীরা ইসলামপুরের বাস না পেয়ে রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। পরে, বাসের ব্যবস্থা করা হয়। কোচবিহারের মাথাভাঙা কলেজ মোড়েও ভোটকর্মীরা পথ অবরোধ করেন বাস না পাওয়ায়।

দুপুরে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর কলেজের ডিসিআরসিতেও ভোটের কাজে আসা বাসকর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা পোস্টাল ব্যালটে নিজেদের এলাকায় ভোট দেওয়ার দাবি জানান। ভোট দিতে না পারলে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন অনেকে। প্রশাসনিক আধিকারিকেরা তাঁদের আশ্বস্ত করে পরিস্থিতি সামলান।সকালে ঝাড়গ্রাম জেলা কালেক্টরেট চত্বরে বিক্ষোভ দেখান গাড়ির চালকরা। তাঁদেরও প্রশ্ন ছিল, ভোটের কাজে গাড়ি নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে। ভোটে দেবেন কী ভাবে? জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর বলেন, ‘‘পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য আগে ফর্ম পূরণ করতে বলা হয়েছিল। যাঁরা করেননি, তাঁদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া যাবে না।’’

পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ের নেকুড়সেনী ডিসিআরসিতে ভোটকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তাঁরা পোস্টাল ব্যালট পাননি। খবর পেয়ে পৌঁছন বিজেপি প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরি। বিকেল ৩টে নাগাদ ভোটকর্মীরা পোস্টাল ব্যালট পান। নির্বাচন কমিশনের এক কর্তা দাবি করেন, সমস্যা মিটে গিয়েছে।

আরও পড়ুন