— প্রতীকী চিত্র।
গ্রেফতার হলেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা ডালিম শেখ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে লাভপুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ডালিমের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বীরভূমে ভোট। তার দু’দিন আগে গ্রেফতার করা হল ওই তৃণমূল নেতাকে। দলের নেতাদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল তৃণমূল।
কলকাতায় মঙ্গলবার চার জনকে গ্রেফতার করেছে লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখা। এঁদের কারও বিরুদ্ধে আর্মস অ্যাক্ট (অস্ত্র আইন) কারও বিরুদ্ধে অতীতে ঝামেলা পাকানোর ইতিহাস রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। ধৃতদের নাম— জয়দেব মালাকার ওরফে ম্যান্ডেলা( টালিগঞ্জ এলাকা), মিন্টু ঘোড়ুই ওরফে বল্টু (পঞ্চসায়র এলাকা), অর্পণ চক্রবর্তী (বাঁশদ্রোণী এলাকা) এবং শাহাদত হোসেন ওরফে শাকা (একবালপুর এলাকা)। তাঁদের ‘ট্রাবল মেকার’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে অর্পণের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চলতি মাসের শুরুতে কমিশনের নির্দেশে মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কমিশন জানায়, ধৃতের নাম রাজু মণ্ডল। তিনি মুর্শিদাবাদের তৃণমূল নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এর পরেই কমিশন পুলিশকে পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেয়।
এই আবহে তাদের ৮০০ কর্মীকে গ্রেফতার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। তারা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে জানায়, তাদের প্রায় ৮০০ জন কর্মীকে নজরে রেখেছে কমিশন। আদালতকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করে দ্রুত হস্তক্ষেপের আর্জি জানায় তৃণমূল। মামলা দায়ের করার অনুমতি দেয় হাই কোর্ট।
প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী সভা থেকেই তৃণমূল নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, “অনেককে গ্রেফতার করার চেষ্টা হবে।” ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসার একটি রিপোর্ট বানিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সেই রিপোর্টে অনেককেই অভিযুক্ত করেছিল তারা। সেই অভিযুক্তের তালিকায় ছিলেন এ বারের নির্বাচনে দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক উদয়ন গুহ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে।