প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।
মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূল আমলে সবচেয়ে বড় ধোঁকা হয়েছে মা-বোনেদের সঙ্গে। তাই মা-বোনেদের মধ্যে রাগ ভরপুর। সন্দেশখালিতে কী হয়েছে মনে আছে তো! এটা কখনও ভুলবেন না। সন্দেশখালি থেকে মেয়েরা গায়েব হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকারের কোনও হেলদোল ছিল না। তবে চিন্তা নেই। ৪ মে-র পর বিজেপি সরকার সব কিছুর হিসাব করবে। মা-বোনেরা, আর অত্যাচারীদের সহ্য নয়। বিজেপি মা-বোনেদের সুরক্ষাও দেয়, সম্মানও করে। আমরা সন্দেশখালিতে অত্যাচারিত এক মহিলাকে টিকিট দিয়েছি, আরজি করের নির্যাতিতার মা-কেও টিকিট দিয়েছে বিজেপি।’’
মোদী বলেন, ‘‘নেতাজি সুভাষচন্দ্রের আহ্বান মনে রাখবেন। তিনি বলেন, রক্ত দাও, স্বাধীনতা দেব। দেশের মানুষ সব উজার করে দেন। আপনারা আমাদের একটা ভোট দিন, আশীর্বাদ দিন, আমরা তৃণমূল থেকে মুক্তি দেব। জঙ্গলরাজ, ভয়, দুর্নীতি, মহিলা নির্যাতন, বেকারত্ব, অনুপ্রবেশকারী থেকে মুক্তি দেব।’’
মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকার কেন্দ্রীয় তদন্তকারীর কাজে বাধা সৃষ্টি করছিল। প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাও হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছে।’’
মোদী বলেন, ‘‘সব জায়গায় রাজ্য সরকার পঞ্চায়েত নির্বাচন পরিচালনা করে। সুরক্ষার দায়িত্ব তাদেরই থাকে। কিন্তু ২০২৩ সালে কী হল দেখেছেন তো? আদালতের মনে হয়েছিল, সরকার সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে পারবে না। তাই আদালত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল।’’ মোদীর মুখে বগটুই, আরজি করের ঘটনা। তিনি বলেন, ‘‘এখান সরকার কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তেও বাধার সৃষ্টি করে।’’
হরিপালের সভা থেকে রাজ্যের শিক্ষা দুর্নীতি নিয়ে সরব প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষা দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের মন্ত্রী হাজার হাজার যুবকের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছেন। সংবেদনশীল সরকার হলে নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করত। কিন্তু আদালতকে এখানে তদন্তের নির্দেশ দিতে হয়েছে। তৃণমূলের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্য।’’
হরিপালের সভা থেকে মোদী বলেন, ‘‘নবান্ন থেকে সরকার চলে না। হয় এই সরকার চালায় তৃণমূলের গুন্ডা, মস্তানেরা। নয়তো হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সরকার সোজা হয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকার এখানে তাদের কুকর্মের কারণে মানুষের ভরসা হারিয়ে ফেলেছে। এই জন্য লোক প্রায়ই আদালতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।’’
মোদী বলেন, ‘‘আমি আগেই বলেছিলাম ভোটদানের হারের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে। সেটাই হল ২৩ তারিখ হল। ২৯ তারিখ সেই রেকর্ডও ভাঙতে হবে।’’
‘জয় মা কালী, জয় মা দুর্গা’ বলে বক্তৃতা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরেই রাজা রামমোহন রায়, রামকৃষ্ণদেব-সহ বাংলার মণীষীদের কথা স্মরণ করলেন তিনি।
হরিপালের সভাস্থলে পৌঁছোলেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চে তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানালেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।
রবিবার ভোটপ্রচারে পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর প্রথম জনসভা ছিল বনগাঁর ঠাকুরনগরে। সেই জনসভা সেরে তিনি পৌঁছে যান আরামবাগে। হরিপালে তাঁর দ্বিতীয় জনসভা। সেই সভা সেরে কলকাতায় রো়ড শো করবেন প্রধানমন্ত্রী।