নির্বাচনী জনসভায় রাহুল গান্ধী। শনিবার কলকাতায়। ছবি: পিটিআই।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লিতে যে কাজ করছেন, সেই একই কাজ পশ্চিমবঙ্গে করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের প্রচারে এসে এমনই অভিযোগ করলেন কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার বিকালে কলকাতার শহিদ মিনারে কংগ্রেসের ৫৫ জন প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা করেন তিনি। সেখানেই মোদী-মমতাকে একাসনে বসিয়ে আক্রমণ করার পাশাপাশি ঘুরপথে পরস্পরের বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগও করেছেন অমেঠীর সাংসদ। সেই সভার পরেই রাহুলের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূলও।
রাহুলের কথায়, ‘‘২০২১ সালে মমতা’জি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ৫ লক্ষ লোককে চাকরি দেবেন। আপনারা চাকরি পেয়েছেন? কেউ রয়েছে, যাঁদের মমতা’জি চাকরি দিয়েছেন? ৮৪ লক্ষ বেকার যুবক বেকারভাতার আবেদন করেছেন। এটাই বাংলার প্রকৃত ছবি এখন।’’ রাহুল আরও বলেন, ‘‘২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীও বলেছিলেন দেশের যুবকদের ২ কোটি করে চাকরি দেবেন। তিনিও শুধু বলেই গিয়েছেন। কাজের কাজ কিছুই করতে পারেননি। আসলে মোদী যা দিল্লিতে করছেন, মমতা’জিও পশ্চিমবঙ্গে তা-ই করছেন।’’
রাহুল অভিযোগ করেন, মমতার ‘ভ্রান্ত’ নীতির কারণেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক জমি তৈরি করতে পেরেছে বিজেপি। এ ছাড়াও তাঁর অভিযোগ, মমতার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে নারদ, সারদা দুর্নীতি-সহ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে যুবতী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা ঘটলেও কেন্দ্রীয় সরকারের তদন্তকারী সংস্থা প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁকে ইডি ৫৫ ঘণ্টা জেরা করলেও কেন মমতাকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ডাকেনি, সেই প্রশ্নও তুলেছেন রাহুল।
পাল্টা তৃণমূলের তরফে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘‘রাহুল গান্ধী দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো কথা বলছেন। উনি জানেন না এই ভোটের সময়েও তৃণমূলের নেতাদের ইডি নোটিস পাঠাচ্ছে। আর উনি তখন কুকুরকে বিস্কুট খাওয়াতে এবং তার সঙ্গে খেলতে ব্যস্ত।’’ এখানেই থামেনি তৃণমূল। বিজেপি-কে রোখার বিষয়ে কংগ্রেসের ‘সদিচ্ছা’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলের বক্তব্য, কংগ্রেস যদি নিজেদের দায়িত্ব পালন করত, তা হলে লোকসভায় ধাক্কা খাওয়ার পরে বিজেপি হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, বিহারের ভোটে জিতত না।
তবে মোদী-মমতাকে একাসনে বসিয়ে আক্রমণ শানালেও তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করেননি রাহুল। সম্প্রতি সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় এনে পরাজিত হয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেই বিলের বিষয়ে বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও তৃণমূলের সাংসদেরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মোদীর সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। বিলটি পাশ না হওয়ায় কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা রাহুল ধন্যবাদ জানিয়ে ফোন করেছিলেন তৃণমূলের অভিষেককে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে রাজ্য স্তরে জোট না হলেও জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী যে জোট ‘ইন্ডিয়া’ গড়ে উঠেছিল, তাতে সামিল ছিল কংগ্রেস-তৃণমূল দুই রাজনৈতিক শক্তিই। তাই মনে করা হচ্ছে, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই রাহুল তাঁর বক্তৃতায় আক্রমণ থেকে বাদ রেখেছেন অভিষেককে। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁকে যে ভাবে মোদী সরকার হয়রান করছে, সে ভাবে মমতাকে নিশানা করছে না বিজেপি। তিনি বলেন, ‘‘মমতা’জির উপরে কোনও আক্রমণ হয় না। কেন? কারণ, তিনি বিজেপির সঙ্গে সরাসরি লড়াই করেন না। শুধু কংগ্রেসই নীতির ভিত্তিতে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করে। ২৪ ঘণ্টা মোদীজি কংগ্রেস, রাহুল, খড়্গেজিকে (মল্লিকার্জুন খড়্গে) আক্রমণ করেন। শুধু ভোটের সময়ে এসে মোদীজি মমতাজিকে কটাক্ষ করেন। নির্বাচন শেষ হলে তিনি আর মমতাজি’কে নিয়ে কিছু বলবেন না। কারণ, তিনি জানেন, ভারতে একটি শক্তিই বিজেপি এবং সঙ্ঘের বিরুদ্ধে লড়াই করে। সেই শক্তি হল কংগ্রেস।’’