West Bengal Assembly Election 2026

সরাসরি হোক বা আড়ালে, বারাসতে দ্বন্দ্বে দীর্ণ দুই প্রতিপক্ষই

বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রে এ বার বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। ২০২১ সালেও তিনি বারাসতে বিজেপির টিকিটে লড়ে তৃণমূলের চিত্রতারকা প্রার্থী চিরঞ্জিতের কাছে ২৩ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছিলেন। এ বারও ফের প্রার্থী শঙ্কর।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ০৮:২৯

—প্রতীকী চিত্র।

কোথাও প্রকাশ্যে, কোথাও গোপনে। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের দুই প্রধান প্রতিপক্ষ, তৃণমূল ও বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শহর থেকে শহরতলির একাধিক এলাকা।

এই আঁচ থেকে বাদ যায়নি বারাসতও। সেখানেও প্রার্থী নিয়ে দুই প্রধান বিরোধী দলের অন্দরে চাপানউতোর শুরু হয়েছে বলে খবর। বিজেপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দল হিসেবে স্থানীয় এক বিজেপি নেতার দাঁড়ানোর খবর সমাজমাধ্যমে ঘুরছে। অন্য দিকে, স্বস্তি নেই শাসকদল তৃণমূলের প্রার্থীরও। প্রচার নয়, বরং স্থানীয় স্তরে গোষ্ঠীকোন্দল ঠেকাতেই তাঁর সময় বেশি খরচ হচ্ছে বলে খবর।

বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রে এ বার বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। ২০২১ সালেও তিনি বারাসতে বিজেপির টিকিটে লড়ে তৃণমূলের চিত্রতারকা প্রার্থী চিরঞ্জিতের কাছে ২৩ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছিলেন। এ বারও ফের প্রার্থী শঙ্কর। বিজেপির অন্দরের খবর, শঙ্কর নিয়ে আপত্তির কথা দলের চারটি মণ্ডল থেকেই উচ্চতর নেতৃত্বকে জানানো হয়েছিল। প্রার্থী হিসেবে শঙ্করের নাম ঘোষণা হওয়ার দিনেই তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় পোস্টার পড়ে। ইতিমধ্যেই বারাসত বিজেপির পরিচিত মুখ তাপস মিত্র নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন বলে সমাজমাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে। তাপস অবশ্য এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। তবে দলীয় সূত্রের খবর, বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের কাছে বারাসতের টিকিটের দাবিদার হিসেবে তাপসের নামও গিয়েছিল। কিন্তু শিকে ছিঁড়েছে শঙ্করের।

বারাসতে গত দেড় দশক ধরে বিধায়ক ছিলেন অভিনেতা চিরঞ্জিত। কিন্তু তিনি বারাসতবাসীর কাছে তারকা হয়েই ছিলেন। অভিযোগ, বিধায়ক হিসেবে কখনও তাঁকে ধরাছোঁয়ার মধ্যে তেমন ভাবে পাওয়া যায়নি। যে কারণে এ বার প্রার্থী ঘোষণার আগে থেকেই বারাসতে ভূমিপুত্র বিধায়কের প্রবল হাওয়া তৈরি হয়েছিল। অন্য দিকে, বিজেপির অন্দরে গোলমাল থাকলেও তাদের প্রার্থী শঙ্কর বারাসতেরই আদি বাসিন্দা। যদিও বর্তমানে তিনি বারাসতের পাশে মধ্যমগ্রামে থাকেন। আবার, বাম প্রার্থী ফরওয়ার্ড ব্লকের হেমন্ত দাসও বারাসতের লোক।

অন্য দিকে, যে কোনও কারণেই হোক, স্থানীয় বাসিন্দা কাউকে টিকিট না দিয়ে তৃণমূল বারাসতে প্রার্থী করেছে বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তকে। বিধাননগর ও রাজারহাটে দীর্ঘ কাল রাজনীতি করে আসা অভিজ্ঞ সব্যসাচী শুরুর দিনেই বারাসতে পরস্পর-বিরোধী একাধিক নেতাকে তাঁর স্থানীয় ‘অভিভাবক’ বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু, তাতে কতটা চিঁড়ে ভিজেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।

এলাকার খবর, প্রচারের কাজে বারাসতে আসার সময়ে সব্যসাচী তাঁর ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছাড়া আর কাউকে সঙ্গে নিচ্ছেন না। রাজারহাটে তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতা-কর্মীদেরও এখনও তিনি বারাসতে নিয়ে আসেননি সেখানকার নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করতে।

বারাসতে এখনও পর্যন্ত দলে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই বলে সব্যসাচী ধামাচাপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। একাধিক সংবাদমাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, সবাই তাঁর পাশে রয়েছেন। কিন্তু দলের অন্দরেরই খবর, বারাসতের স্থানীয় নেতৃত্বকে একজোট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন সব্যসাচী। বিভাজন মেটাতে সম্প্রতি বারাসত পুরসভার পুরপ্রতিনিধি এবং নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বৈঠকও হয়েছে। একটি বৈঠকে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থার প্রতিনিধিও ছিলেন বলে খবর।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বারাসত থেকে চিরঞ্জিত হারছেন, এমন হাওয়া উঠেছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি জেতেন। সেই সময়ে বারাসতের বাইরের এক নেতা বারাসতে টিকিট না পাওয়ায় তাঁর অনুগামীরা চিরঞ্জিতের বদলে সেই নেতার হয়ে ভোট করতে অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন। সে বার অবশ্য ২০২৬-এর মতো মেরুকরণের হাওয়া বারাসতে ছিল না। শেষ লোকসভা ভোটে বারাসত শহরের বেশির ভাগ ওয়ার্ডে হেরেছিল তৃণমূল। পুরো বিধানসভা কেন্দ্রের ২ লক্ষ ৯২ হাজার ভোটারের সিংহভাগ ভোট রয়েছে বারাসত শহরেই। এই অবস্থায় শহরের শাসকদলের নেতৃত্বকে একজোট রাখার চেষ্টা চলছে, খবর এমনই।

আরও পড়ুন