TMC in North Bengal

উত্তরবঙ্গে তৃণমূলকে শেষ করে দিলেন গৌতম দেব! স্বপ্না বর্মণের জীবন শেষ করলেন উনিই: তৃণমূল কাউন্সিলর দিলীপ

শিলিগুড়ি পুরসভার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিলীপ এর আগেও গৌতমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন। পুরসভার বোর্ড মিটিংয়েও মেয়র গৌতম এবং ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার ওরফে রানা-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১৮:৪৮
Goutam Deb

ভোটপ্রচারে বেরিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় গৌতম দেবের। —ফাইল চিত্র।

রাজ্যের কথা আলাদা। কিন্তু উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের ভরাডুবির জন্য প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবকে দায়ী করলেন তৃণমূল কাউন্সিলর দিলীপ বর্মণ। তিনি এ-ও অভিযোগ করেছেন, নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে ক্রীড়াবীদ স্বপ্না বর্মণের জীবন ‘স্তব্ধ’ করে দিয়েছেন গৌতম। অবিলম্বে মেয়র পদ থেকে গৌতমের পদত্যাগ করেছেন তিনি।

Advertisement

প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম গত বার হারের পর এ বার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা থেকে লড়েননি। ফিরে গিয়েছিলেন শিলিগুড়িতে। কিন্তু এ বারও তিনি পর্যুদস্ত। বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষের কাছে ৭৩ হাজার ভোটে হেরেছেন। তার পরেই ফের দিলীপের নিশানায় পড়েছেন গৌতম।

শিলিগুড়ি পুরসভার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিলীপ এর আগেও গৌতমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন। পুরসভার বোর্ড মিটিংয়েও মেয়র গৌতম এবং ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার ওরফে রানা-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন তিনি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছোয় যে, দিলীপকে বৈঠক থেকে প্রায় বার করে দেওয়া হয়েছিল। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক তিক্ত হয়। তার পর প্রকাশ্যে মেয়র এবং ডেপুটি মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে থাকেন তিনি।

বিধানসভা ভোটে গোটা রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবির পর ফের দিলীপের নিশানায় গৌতম। তাঁর কথায়, ‘‘অবিলম্বে মেয়র পদ থেকে তার ইস্তফা দেওয়া উচিত ওঁর। না হলে উনি দেহত্যাগের পর পদত্যাগ করবেন।’’ দিলীপ সংযোজন, ‘‘মানুষকে মানুষ বলে মনে করেননি উনি। অহঙ্কার এবং ঔদ্ধত্যের ফল এটা। গোটা রাজ্যে দলের ফল নিয়ে আমি মর্মাহত, কিন্তু উত্তরবঙ্গের ফল নিয়ে নই।’’

তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে গৌতম ভুল বুঝিয়ে এসেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কাউন্সিলর। তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দোপাধ্যায়কে দিনের পর দিন ভুল বুঝিয়েছেন এই গৌতম দেব। গৌতম ও রানার দুর্নীতি নিয়ে সরব হতেই আমাকে বোর্ড মিটিং থেকে বার করে দেওয়া হয়। ওঁদের হার নিশ্চিত ছিল। তবে দলটাকেও ওঁরা উত্তরবঙ্গে শেষ করে দিলেন।’’

রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী তথা সোনাজয়ী অ্যাথলিটের হার নিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলরের দাবি, স্বপ্নাকে তৃণমূলে আনা থেকে প্রার্থী করা, সব কিছুর নেপথ্যে গৌতমের চক্রান্ত ছিল। তিনি দলের অন্য নেতাদের জব্দ করতে চেয়েছিলেন। তৃণমূল কাউন্সিলর বলেন, ‘‘একটি মেয়ের জীবনটাকে স্তব্ধ করে দিলেন গৌতম দেব। তাঁর রেলের চাকরিও গেল। এখন তো সরকারই (তৃণমূল) নেই। কাজেই তিনি আর চাকরিও পাবেন না। ওঁকে এই গৌতম দেব-ই তৃণমূলে নিয়ে এসেছিলেন প্রার্থী করবেন বলে। অনেক সমীকরণ ছিল। যা অনৈতিক। এ বার তাঁর জীবনটাও শেষ।’’

এ নিয়ে গৌতমের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Advertisement
আরও পড়ুন