WB Elections 2026

ভবানীপুরে ভোটের প্রচারে নয়া কৌশল তৃণমূলের! মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়ক ও প্রার্থী মমতার সঙ্গে ছবি তুলুন, বলছে শাসকদল

সাধারণত এই ধরনের উদ্যোগ দেখা যায় কোনও পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠান, বিয়েবাড়ি কিংবা কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে রাজনীতির আঙিনায় এই ধরনের ‘ফোটো কর্নারে’র ব্যবহার এই প্রথম বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১২:৪৮
TMC is offering the opportunity to take photos with CM Mamata Banerjee during the election campaign in Bhabanipur

ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রচারে থাকছে ‘ফোটো বুথ’ । ছবি: সংগৃহীত।

বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে নজরকাড়া লড়াই। বিধানসভার অন্দরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারীর দ্বৈরথ চলেছে গত পাঁচ বছর। সেই যুদ্ধ এ বার হতে চলেছে ভোটের ভবানীপুরেও। সেই উচ্চগ্রামের লড়াইয়ের প্রচারে অভিনব কৌশল নিয়েছে শাসক তৃণমূল।

Advertisement

নয়া প্রচার কৌশলে ভবানীপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের। মূলত তৃণমূলের ‘জয়হিন্দ বাহিনী’র সভাপতি তথা মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগেই এই নতুন প্রচার কৌশল সাজিয়েছেন ভবানীপুরের তৃণমূল নেতৃত্ব। আগামী কয়েক দিনে ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার আটটি ওয়ার্ডে ‘ফোটো বুথ’ বা ‘ফোটো কর্নার’ করা হবে বলে দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল সূত্রের খবর। সেই বুথে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ছবির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা যাবে। সঙ্গে থাকবে স্লোগানও।

সাধারণত এই ধরনের উদ্যোগ দেখা যায় কোনও জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। যেখানে খ্যাতনামীদের ছবির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা য়ায়। এমন উদ্যোগ দেখা যায় বিয়েবাড়ি বা কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে। সেই নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির আঙিনায় এই ধরনের উদ্যোগ এই প্রথম বলে অনেকের অভিমত।

শুক্রবার রাতে এলাকার তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সামনে নতুন ওই প্রচার কৌশল উপস্থাপিত করেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক। আপাতত পরীক্ষামূলক ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তদল মোড়ে তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে বসানো হয়েছে ‘ফোটো বুথ’। চতুর্ভুজ আকৃতির ‘ফোটো বুথ’-এর ডান পাশে হাতজোড় করা মুখ্যমন্ত্রীর ছবি। পাশে বড় অংশ খালি রাখা হয়েছে। যেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা যাবে। ‘ফোটো বুথ’-এর উপরের অংশে জোড়াফুল আঁকা তৃণমূলের প্রতীক। সঙ্গে লেখা, ‘উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে ভবানীপুর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপনার মূল্যবান ভোট দিন।’ বুথের বাঁ-পাশের অংশে লেখা ‘জয় বাংলা’। নীচের অংশে লেখা, ‘উন্নয়নের পথে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে সবাই মিলে ছবি তুলুন, বাংলার কথা বলুন।’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ভবানীপুরের তিন বারের বিধায়ক। কিন্তু এ বারের লড়াইকে তৃণমূল হালকা ভাবে নিচ্ছে না। ভবানীপুরের সাধারণ ভোটারের কাছে পৌঁছে যাওয়ার এই কৌশল প্রমাণ করছে, ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর জয় নিশ্চিত করতে তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতৃত্ব কতটা মরিয়া! নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর (এসআইআর) কারণে ভবানীপুরের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। আরও ১৪ হাজার ভোটারের ভবিষ্যৎ ‘বিবেচনাধীন’। সেই আবহে সম্প্রতি মমতা নিজে একটি কর্মসূচিতে বলেছেন, ‘‘এক ভোটে হলেও আমি ভবানীপুর থেকে জিতব।’’ মুখ্যমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পরে ভবানীপুরের সর্বস্তরের তৃণমূলকর্মীরা ময়দানে নেমেছেন। ভবানীপুরের ভোট পরিচালনায় দায়িত্বে রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং প্রবীণ নেতা সুব্রত বক্সীকে। পাশাপাশিই দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে কাউন্সিলরদের মধ্যেও। সম্প্রতি মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের কর্মী সম্মেলনে গিয়েছিলেন। সেখানে অভিষেক মমতার জন্য ভবানীপুরে ৫০ হাজার ভোটে জয়ের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন।

মমতার প্রচারে অভিনবত্ব আনতেই ‘ফোটো বুথ’ তৈরির কৌশল নেওয়া হয়েছে। ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা মুখ্যমন্ত্রীর ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘শুক্রবার রাতে ফোটো কর্নারটি বসানো হয়েছে। বসানো মাত্রই আমরা অভাবনীয় সাড়া পেয়েছি। এলাকার মানুষ যেমন ওই ফোটো কর্নারে গিয়ে ছবি তুলছেন, তেমনই বহু পথচলতি মানুষও এই প্রচারের অংশ হচ্ছেন। অনেকে ফোটো কর্নার দেখে গাড়ি থেকে নেমেও ছবি তুলছেন। আশা করছি, ভবানীপুর জুড়ে আমাদের এই প্রচার কৌশল কার্যকরী হবে।’’ প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শুভেন্দুর লড়াই পাঁচ বছর আগেও দেখেছে পশ্চিমবঙ্গ। সে বার রণক্ষেত্র ছিল নন্দীগ্রাম। কিন্তু সে বার তৃণমূলের এমন প্রচেষ্টা চোখে পড়েনি। এ বার বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই তাঁর নিজের ‘গড়’ ভবানীপুরে। সেই যুদ্ধে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ তৃণমূল।

Advertisement
আরও পড়ুন