West Bengal Election 2026

বাংলা অস্ত্র, তাই রাজ্যে আসতে অখিলেশদের মানা তৃণমূলের

গত কয়েক দিনে একাধিক পোস্ট করে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব ‘দিদি’-র প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিশানা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। একই ভাবে ওমর আবদুল্লা, অরবিন্দ কেজরীওয়ালদেরও মমতার পাশে দাঁড়িয়ে পোস্ট করতে দেখা গিয়েছে।

অগ্নি রায়
শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৯
অখিলেশ যাদব।

অখিলেশ যাদব। — ফাইল চিত্র।

জাতীয় রাজনীতিতে গত কয়েক বছর ধরেই অকংগ্রেসি বিজেপি-বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বিশেষ যত্ন ও সময় দিয়ে সুসমীকরণ তৈরি করেছে তৃণমূল। এসপি, আরজেডি, শিবসেনা (উদ্ধব), এনসি এবং আপ-এর সঙ্গে বিরোধী ইন্ডিয়া শিবিরের মধ্যেই তৃণমূলকে ‘জিঞ্জার’ গোষ্ঠী তৈরি করতে দেখা গিয়েছে। যারা প্রত্যেকেই মনে করেন, বিজেপি বিরোধিতার প্রশ্নে দেশের সবচেয়ে যোগ্য মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই মমতার বিধানসভা লড়াইয়ে অখিলেশ যাদব বা তেজস্বীর মতো নেতারা এসে তৃণমূলের প্রচারে থাকতে চেয়েছিলেন। তৃণমূল শীর্ষ সূত্রের খবর, তাঁদের প্রত্যেকেই সবিনয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যে আসার প্রয়োজন নেই। সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যমে তৃণমূলের হয়ে অথবা বিজেপি বিরোধিতায় সক্রিয় থাকাটা বেশি কাম্য।

কেন তাঁদের নিষেধ করা হয়েছে? তৃণমূলের এক নেতার মতে, “দল চাইছে বাংলা লাইনের উপরেই পুরোপুরি আস্থা রাখতে এবং বাংলা ভাষ্যকেই তুলে ধরতে। মূলত হিন্দিভাষী দল বিজেপি-র বিরুদ্ধে সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের একটা অস্ত্রও বটে। পাশাপাশি তৃণমূল একক ভাবে রাজ্যের সব আসনে লড়ে শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে– এই বার্তা লঘু হয়ে যেতে পারে ভিন রাজ্যের ওজনদার কোনও নেতা এসে মঞ্চ ভাগাভাগি করলে। আমরা তাঁদের জানিয়েছি, দয়া করে ভুল বুঝবেন না। আপনারা আমাদের বন্ধু। ভোটের পর জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপিকে হটাতে সবাইকে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।”

গত কয়েক দিনে একাধিক পোস্ট করে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব ‘দিদি’-র প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিশানা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। একই ভাবে ওমর আবদুল্লা, অরবিন্দ কেজরীওয়ালদেরও মমতার পাশে দাঁড়িয়ে পোস্ট করতে দেখা গিয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিরোধী শিবিরে (অকংগ্রেসি) এমন একটা হাওয়া তৈরি হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বিপুল ভাবে পরাজিত হবে, এটা যেন স্বতঃসিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তার পরই উত্তরপ্রদেশের ভোটে যোগী আদিত্যনাথকে হারাতে পারলে দিল্লি থেকে মোদী সরকারকে সরানোর লড়া শুরু করে দেওয়া যাবে।

একুশের বিধানসভার তুলনায় এ বারে ভাষ্য এবং বয়ান তৈরির রাজনীতিতে তৃণমূলে কিছু পরিবর্তনও এসেছে বলে উল্লেখ করছে দল। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যমে কী ভাবে দলের ভাবমূর্তি তৈরি করতে হবে, সেই প্রসঙ্গে। একুশের ভোটের আগে তৃণমূল ভবনে সকাল সাড়ে এগারোটাতেই সাংবাদিক সম্মেলন সারতেন সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং আরও কোনও কোনও প্রবীণ নেতা। এখন বেলা গড়ানোর আগেই ময়দানে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর জনসভার লাইভ স্ট্রিমিং হচ্ছে এবং ভিডিয়োগুলি কেটে রিল বানিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও জনসভায় নামছেন তার পরই। আগামী দিনগুলিতেও বিকেল সাড়ে চারটের মধ্যে মমতা এবং অভিষেক ভাষ্য তৈরি করে দেওয়ার পরে স্থানীয় বিষয় নিয়ে সাংসদ, বিধায়ক বা প্রার্থীরা সাংবাদিক সম্মেলন করবেন। এ ক্ষেত্রেও যাঁরা প্রথম বারের মতো দাঁড়িয়েছেন, তাঁদেরও স্থানীয় বিষয় এবং মূল রাজনৈতিক কচকচির বাইরের (যেমন, তাঁরা প্রচারের প্রস্তুতি কী ভাবে নিচ্ছেন, কী খাওয়াদাওয়া করছেন) বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে।

আরও পড়ুন