WB Elections 2026

জোর করে ভবানীপুরে পার্টি অফিস করছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু, নির্বাচন কমিশনকে কড়া চিঠি সুব্রত বক্সীর

ভবানীপুর বিধানসভা এলাকায় অবৈধ ভাবে পার্টি অফিস নির্মাণ করছেন বিজেপি প্রার্থী— এমন অভিযোগই করল তৃণমূল। এই ঘটনায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করে চিঠি দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৯:৫৫
TMC state president Subrata Bakshi sent a letter to ECI against BJP cndidate Suvendu Adhikari

বেআইনিভাবে বিজেপির পার্টি অফিস তৈরি করছেন (বাঁ দিকে) শুভেন্দু অধিকারী, হস্তক্ষেপের দাবিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি সুব্রত বক্সীর (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে ভবানীপুরে। এই কেন্দ্রে লড়াই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। ভবানীপুর বিধানসভা এলাকায় অবৈধ ভাবে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করছেন বিজেপি প্রার্থী— এমন অভিযোগই তুলল তৃণমূল। এই ঘটনায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করে চিঠি দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বোরোর অধীন ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে এই পার্টি অফিসটি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

Advertisement

তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, কলকাতার ২৩বি, অরফ্যানগঞ্জ রোডে একটি বিতর্কিত জমিতে বিশাল বাঁশের কাঠামো (প্যান্ডেল) তৈরি করা হচ্ছে। অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এই নির্মাণকাজ চলছে। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জমিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা বিচারাধীন, ফলে সেখানে কোনও রকম নির্মাণ আইনত প্রশ্নসাপেক্ষ। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর কলকাতা পুরসভা পুর আইনের ৪০১ ধারা অনুযায়ী ‘স্টপ ওয়ার্ক’ নোটিস জারি করেছিল। সেই নির্দেশ অমান্য করেই বিজেপির পার্টি অফিস নির্মাণ চলছে বলে অভিযোগ। এমনকি, বিষয়টি নিয়ে আলিপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪০১এ ধারা অনুযায়ী একটি মামলাও রুজু হয়েছে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে।

তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির অভিযোগ, বিজেপি নেতা তথা ভবানীপুরের প্রার্থী শুভেন্দুর নেতৃত্বে এই অবৈধ নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। যা মূলত একটি নির্বাচনী ক্যাম্প অফিস তৈরির উদ্দেশ্যে। তাঁর আরও দাবি, স্থানীয় পুলিশ এই কাজ থামানোর চেষ্টা করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, শুভেন্দু ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে হুমকি দেন এবং নির্বাচনের পর ‘শিক্ষা দেওয়া’র হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। এই ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের সামনেই ঘটেছে বলেও দাবি করা হয়। চিঠিতে বক্সী আরও লিখেছেন, ওই দিন দু’টি লরি ভর্তি বাঁশ ও নির্মাণ সামগ্রী জোর করে সংশ্লিষ্ট জমিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূলের মতে, এই ধরনের কার্যকলাপ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে এবং এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে। অবিলম্বে ওই নির্মাণকাজ বন্ধ করা, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্বাচনী বিধি কঠোর ভাবে প্রয়োগ করার দাবিও জানানো হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না-আনলে নির্বাচনের আগে বড় ধরনের অশান্তি তৈরি হতে পারে। তাই কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে শাসকদল।

রাজ্য তৃণমূলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘‘আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট চাইছি। কিন্তু বিজেপি এবং শুভেন্দু অধিকারী বার বার নানা কার্যকলাপের মধ্যে দিয়ে অশান্তি তৈরি করে ভবানীপুরকে উত্তপ্ত করতে চাইছেন। তাই ওঁরা একটি বিতর্কিত জমিতে পার্টি অফিসে তৈরি করে গোলমালের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছেন। সেই পরিস্থিতি তৈরিতে যাতে বিজেপি সফল না হয়, সে কারণেই আমাদের রাজ্য সভাপতি নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ করতে চিঠি দিয়েছেন।’’

জবাবে দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ খটিক বলেন, ‘‘তৃণমূলই একটা বিতর্কিত রাজনৈতিক দল। যারা দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীকে মানে না। ভারত সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করে। তাদের কাছে কোনটা আইনি আর কোনটা বেআইনি তা বিজেপি শিখবে না। এমন একটি রাজনৈতিক দল যে আমাদের পার্টি অফিস তৈরির ক্ষেত্রে বিরোধিতা করবে, এটাই স্বাভাবিক। শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে বিজেপির প্রার্থী হওয়ায় যে তৃণমূল রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়েছে, তা এই চিঠি থেকেই স্পষ্ট।’’

প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহেই এক দিন রাতে এই পার্টি অফিস নির্মাণকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের বচসা হয়। অস্থায়ী পার্টি অফিস গড়তে আনা বাঁশের গাড়ি পুলিশ আটকে দেওয়ায় গন্ডগোলের সূত্রপাত। রাতেই সেখানে আসেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। তখনকার মতো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও, পরে ওই পার্টি অফিস নির্মাণকে কেন্দ্র করে গোলমালের ঘটনা ঘটেছে বলেই অভিযোগ তৃণমূলের। তাই ভবানীপুর বিধানসভা এলাকায় আলিপুরের এই ঘটনাটি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ করে, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Advertisement
আরও পড়ুন