Santosh Pathak joins BJP

কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন মধ্য কলকাতার বর্ষীয়ান কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক, ভোটে লড়তে পারেন চৌরঙ্গি আসনে

দলবদল করলেও দশকের পর দশক ধরে যে দলে ছিলেন, সেই কংগ্রেসকে আক্রমণের পথে সন্তোষ হাঁটেননি। বিজেপি নেতৃত্বও সন্তোষকে সে সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া থেকে আড়াল করেছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ২১:৪০
সন্তোষ পাঠকের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিচ্ছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

সন্তোষ পাঠকের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিচ্ছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। — সংগৃহীত।

জল্পনা চলছিল গত ১০ দিন ধরেই। তাতে সিলমোহর পড়ল সোমবার রাতে। কলকাতা পুরসভার কয়েক দশকের কাউন্সিলর তথা মধ্য কলকাতার প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা সন্তোষ পাঠক যোগ দিলেন বিজেপি-তে। ভোটের মুখে সন্তোষের মতো বর্ষীয়ান নেতার এই দলবদলে প্রত্যাশিত ভাবেই বিজেপির টিকিটে তাঁর ভোটে লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে সন্তোষ সে প্রসঙ্গে স্পষ্ট জবাব এড়িয়ে বলেছেন, ‘‘দল সিদ্ধান্ত নেবে।’’

Advertisement

রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং দুই কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব দেব ও অমিত মালবীয়ের উপস্থিতিতে সোমবার রাতে সন্তোষ বিজেপিতে যোগ দেন। রাজ্য বিজেপির বিধাননগর দফতরে শমীক উত্তরীয় পরিয়ে এবং পতাকা হাতে দিয়ে সন্তোষকে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাগত জানান।

দলবদল করলেও দশকের পর দশক ধরে যে দলে ছিলেন, সেই কংগ্রেসকে আক্রমণের পথে সন্তোষ হাঁটেননি। বিজেপি নেতৃত্বও সন্তোষকে সে সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া থেকে আড়াল করেছেন। বিজেপিতে আনুষ্ঠানিক যোগদানের পরে সন্তোষ প্রথমেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি যে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচ জন আইপিএস আধিকারিকের নেতৃত্বে তৃণমূল বুথে ঢুকে ছাপ্পা ভোট দিয়েছিল বলে সন্তোষ দাবি করেন। আইপিএস-রা তৃণমূলের হয়ে ছাপ্পা দিচ্ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। সন্তোষের কথায়, ‘‘মোদীজির নেতৃত্বে এই পিসি-ভাইপোর সরকার এ বার বিদায় হয়ে যাবে। যে ভাবে তৃণমূল ভোট করায়, এ বার আমরা তা হতে দেব না।’’

যে দল ছাড়লেন, সেই কংগ্রেসের নেতৃত্বের সমালোচনা সন্তোষ করতে চাননি। বরং অধীর চৌধুরীকে ‘ভাল নেতা’ বলে উল্লেখ করেন বিজেপি দফতরে বসেই। কংগ্রেস সংক্রান্ত প্রশ্নে সন্তোষের বিড়ম্বনা বাড়তে পারে বুঝে সক্রিয় হন শমীক। তিনি বলেন, ‘‘কংগ্রেস সম্পর্কে যা বলার আমরা বলব। তিনি (সন্তোষ) এখন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কংগ্রেস তাঁর কাছে অতীত। অতএব কংগ্রেস নিয়ে এখন তাঁকে কোনও প্রশ্ন করবেন না।’’ তবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়তে চাইলে এই মুহূর্তে বিজেপি-ই একমাত্র বিকল্প বলে সন্তোষ বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

গত ১৪ মার্চ কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা ছিল। সেই মঞ্চেই সন্তোষ বিজেপির পতাকা হাতে নিতে পারেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছিল। ডালহৌসি এলাকার দীর্ঘদিনের কাউন্সিলরকে সে দিন শেষ পর্যন্ত আর ব্রিগেডে দেখা যায়নি। তবে তার ১০ দিনের মধ্যেই সন্তোষ বিজেপিতে শামিল হয়ে গেলেন। চৌরঙ্গি বিধানসভা আসনে সন্তোষ বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন