কিরেন রিজিজু। —ফাইল চিত্র
দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না-থাকার কারণে মহিলা বিল পাশ আটকে যাওয়ায় মহিলা সংরক্ষণের উদ্যোগ থেমে থাকবে না বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার মন্তব্য করেছিলেন। রবিবার মোদী ক্যাবিনেটের সদস্য কিরেন রিজিজু কলকাতায় এসে সে বিষয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিলেন। লোকসভায় বিল আটকে যাওয়ার পরেও সরকারের সামনে ‘অনেক রাস্তা খোলা রয়েছে’ বলে রিজিজু মন্তব্য করলেন। কোনও রাখঢাক না-করেই রিজিজু বললেন, ‘‘আমরা পরিকল্পনা তৈরি করছি।’’
এই বিলটি আটকে যাওয়াকে ঘিরে বিজেপি যে গোটা দেশে একটি রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরি করতে চাইছে, তা শুক্রবার থেকেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছিল। ভোটাভুটিতে বিল পাশ না-হওয়ামাত্রই বিজেপির তরফ থেকে বিরোধী শিবিরকে ‘মহিলা বিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া শুরু হয়েছিল। শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে সেই ভাষ্যে আরও শান দেন। রবিবার কলকাতায় সেই বিষয় নিয়েই সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সাংবাদিক বৈঠক বুঝিয়ে দিল, মহিলা বিল পাশ না-হওয়াকে ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ করে তোলার চেষ্টা বিজেপি পূর্ণমাত্রায় শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী যে ভাবে বিলটিকে মহিলাদের অধিকার সংক্রান্ত প্রশ্নের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, রিজিজু তারই প্রতিধ্বনি করেছেন। মোদীর মতোই তিনিও কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল এবং ডিএমকে-কে নিশানা করেছেন। মোদীর ভাষণের সুর বহাল রেখে রিজিজুও দাবি করেছেন যে, মহিলাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হতে না-দিয়ে এই দলগুলি ‘পাপ’ করেছে। কিন্তু রিজিজু রবিবার যা নতুন বলেছেন, তা হলে বিল পাশ না-হওয়া সত্ত্বেও মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার জন্য অন্য পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর উদ্দেশে আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রশ্ন ছিল— মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার জন্য অন্য কোনও প্রক্রিয়ার কথা কি কেন্দ্রীয় সরকার ভাবছে? নাকি পরবর্তী নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই? রিরিজু উত্তরে বলেন, ‘‘আমাদের সামনে অনেক রাস্তা খোলা রয়েছে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘লোকসভায় সংখ্যার হিসাব অনুয়ায়ী তো আপনি ঠিকই বলছেন। সংবিধান সংশোধনী বিলের ক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। আমাদের আশা ছিল, একটা ভোটও আমাদের বিরুদ্ধে যাবে না। অন্তরাত্মার ডাকে ভোট দেওয়ার আবেদনও করেছিলাম। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের উপরে উঠে গেল রাজনৈতিক স্বার্থ।’’ এর পরেই সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘‘মহিলা সংরক্ষণ এবং মহিলাদের অন্যান্য অধিকার পাইয়ে দেওয়ার জন্য কেমন পদক্ষেপ করা উচিত, তা নিয়ে এখন আমরা পরিকল্পনা তৈরি করছি। বিভিন্ন পথ আমাদের কাছে খোলা। মহিলাদের সংরক্ষণ এবং ন্যায় দেওয়ার পরেই দম নেব।’’
‘অনেক পথ খোলা’ অথবা ‘পরিকল্পনা তৈরি করছি’ গোছের মন্তব্য ইঙ্গিতবহ বলে অনেকের মত। ভোটাভুটিতে বিলটি সংসদে আটকে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে জেনেও কেন বিজেপি এই বিলটি পেশ করতে গেল, তা নিয়ে আলোচনা গত কয়েক দিন ধরেই চলছিল। নেপথ্যে অন্য কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়েও নানা জল্পনা চলছিল। রিজিজুর মন্তব্য সে জল্পনায় অক্সিজেন জোগাল।
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে গত শুক্রবার ভোটাভুটি হয় লোকসভায়। বিলের পক্ষে বেশি ভোট পড়লেও বিলটি পাশ হয়নি। কারণ এই বিল আর পাঁচটা সাধারণ বিলের মতো সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাশ করানো যায় না। সংবিধান সংশোধন বিল হওয়ায় এই বিলটি পাশ করানোর জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জরুরি। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারে কাছে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না-থাকায় তা পাশ হয়নি।
ভোটের প্রচারে রবিবার পশ্চিমবঙ্গে ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা। ছিলেন বিজেপি সাংসদ তথা বলিউড তারকা কঙ্গনা রনৌতও। নিতিন বালুরঘাটে রোড শো করেন, রতুয়ায় জনসভা করেন। নড্ডা শীতলকুচিতে জনসভা করেন। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে রোড শো করেন। কঙ্গনার কর্মসূচি শুরু হয় নন্দীগ্রামে রোড শো করে। তার পরে মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি ও জিয়াগঞ্জে তিনি রোড শো করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “বাংলার মহিলাদের পিঠে ছুরি মেরেছে এই রাজ্যের সরকার।” কঙ্গনার কথায়, “এই অরাজকতা রুখতেই আজ মহিলাদের এগিয়ে আসতে হবে।”