—প্রতীকী চিত্র।
রাজ্যে প্রথম দফার বিধানসভা ভোটের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও ‘বিবেচনাধীন’ প্রার্থীদের নিয়ে টানাপড়েন বন্ধ হয়নি। যাঁরা প্রার্থী হচ্ছেন, তাঁদের বিষয়টি যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, সে জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছে সব দল। কমিশনও দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু তার পরেও মঙ্গলবার পর্যন্ত সিপিএম ও কংগ্রেসের বেশ কয়েক জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি।
রাজ্যের প্রধান চার দল তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় এমন বেশ কিছু নাম রয়েছে, যাঁরা ভোটার হিসেবে ‘বিবেচনাধীন’ ছিলেন। এঁদের মধ্যে শশী পাঁজা, কাজল শেখ-সহ তৃণমূলের যে ১১ জন এবং বিজেপির পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের প্রার্থী কলিতা মাজির নাম বিবেচনাধীন ছিল, তাঁদের সবার নামই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু এখনও ‘ঝুলে রয়েছে’ কংগ্রেস এবং সিপিএমের বেশ কয়েক জন প্রার্থীর ‘ভবিষ্যৎ’।
প্রার্থীদের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি তুলে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে চিঠি লিখে আর্জি জানিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই প্রেক্ষিতে বিজেপি ও কমিশনকে নিশানা করে তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেছেন, “বিবেচনাধীন রেখে আমাদের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাধা তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তা পারেনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো প্রতিটি বৈধ ভোটারের অধিকার সুরক্ষিত থাকে কি না, সে দিকে আমরা নজর রাখছি।” রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার পাল্টা বলেছেন, “এটা নিয়ে যা বলার কমিশন বলবে। আমাদের স্পষ্ট দাবি, অতি দ্রুত বিবেচনা শেষ করে তাঁদের (প্রার্থীদের) বর্তমান স্থিতি জানাতে হবে। এই অনিশ্চয়তা, দুর্ভোগের জন্য তৃণমূল দায়ী। প্রথম দিন থেকে অসহযোগিতা করে পুরো প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছে।”
বিবেচনাধীন-‘জটে’ রয়েছে কংগ্রেস ও সিপিএম। কংগ্রেস পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম ও আউশগ্রামে প্রার্থী করেছিল যথাক্রমে মহম্মদ মফিরুল কাশেম ও নিশা বড়ালকে। দু’জনের নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। মফিরুল বলেছেন, “যাবতীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।’’ পাশাপাশি, ফরাক্কার প্রার্থী হিসেবে কংগ্রেস যাকে বেছে রেখেছিল, সেই মোবতাব শেখের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে। ওই কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারেনি কংগ্রেস। সূত্রের খবর, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের তরফে বিষয়টি ট্রাইবুনালের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আর্জি জানানো হয়েছে। সিপিএমের প্রার্থী তালিকায় থাকা ‘বিচারাধীন’দের মধ্যে কয়েক জনের নাম ভোটার তালিকায় উঠেছে।