— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
সময়ের কাঁটা দ্রুত দৌঁড়চ্ছে। ক্রমাগত বদলে যাচ্ছে চাকরির পরিবেশ ও পরিস্থিতি। সরকারি চাকরির স্থিরতা নিয়ে সকলে কাজ করেন না। অনেকে তা করতে চানও না। বেসরকারি ক্ষেত্রে ঘন ঘন চাকরি বদলের প্রবণতা বাড়ছে বাজার অস্থিরতার সঙ্গেই।
সাম্প্রতি এক সমীক্ষার রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ৬৫ শতাংশের বেশি কর্মীরা নতুন চাকরিতে যোগদানের এক বছরের মধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। এই প্রবণতা বেশি নবীন প্রজন্মের কর্মীদের মধ্যেই।
কিন্তু কম সময়ের মধ্যে বার বার চাকরি বদলানোর প্রবণতা আখেরে কি সমস্যা তৈরি করছে?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যে কোনও সংস্থাই দায়বদ্ধ কর্মীদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। তাই ঘন ঘন চাকরি বদলেছেন, এমন কাউকে নিয়োগ করার আগে অবশ্যই বিবেচনা করতে হয়। যিনি এক সংস্থায় বেশিদিন সময় দেননি, তিনি যে অন্য কোনও সংস্থার প্রতি সমান ভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন— তা সুনিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তা ছাড়াও ঘন ঘন চাকরি ছাড়লে বিভিন্ন ধরনের কাজ সঠিক ভাবে করতে পারার দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব নয়। কাজের ধরন অনুযায়ী, কোনও বিষয়ে অল্প জ্ঞান থাকা ভাল নয়। সে ক্ষেত্রে কোনও কাজে পুরোপুরি দক্ষতা বৃদ্ধি করতে না পারলে অন্যত্র গিয়ে চাকরি শুরু করলে তা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কম সময়ের মধ্যে একাধিক চাকরি করে বেতন বৃদ্ধি হলেও পদোন্নতি হয়নি কিংবা হলেও তা দীর্ঘসময়ের পর হয়েছে। সে ক্ষেত্রে যাঁরা একই সংস্থায় ১০-১২ বছরের বেশি কাজ করেছেন, তাঁরা দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ পেয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাকরি করে কেরিয়ার গড়ার জন্য সময়ের পর একটি সংস্থাতে অন্তত পাঁচ থেকে সাত বছর পর্যন্ত থিতু হওয়া প্রয়োজন। এতে বিভিন্ন সংস্থায় চাকরির হাল হকিকত সম্পর্কে জানা যায়। সেই অনুযায়ী, কেরিয়ারের পরবর্তী ধাপে কী ভাবে এগোনো যেতে পারে, তা পরিকল্পনা করা সম্ভব। কিন্তু যদি বারে বারে চাকরি বদল করতে হয়, সে ক্ষেত্রে নতুন কাজ, পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই বেশির ভাগ সময় ব্যয় হয়ে যেতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি কেরিয়ার গড়তে চাইলে ঘন ঘন চাকরি বদল না করার পক্ষে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা।
চাকরি বদলের ফলে নতুন সংস্থায় নিয়োগের সময় ভাল বেতন কিংবা কাজ শেখার সুযোগ পেয়ে থাকেন অনেকেই। তবে, এমন হলে কর্মীর দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন করতে পারেন নিয়োগকর্তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনও সংস্থাতেই দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কাজ করেছেন, এমন ব্যক্তিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে।
তাই ঘন ঘন চাকরি বদল করছেন, এমন কোনও ব্যক্তিকে তখনই নিয়োগ করা হয়, যখন তাঁর সেই পদে কাজের দক্ষতা এবং পূর্ব-অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সে ক্ষেত্রে চাকরি বদলের সঠিক কারণ জানানো দরকার। কিন্তু তা কোনও ভাবেই পূর্বতন সংস্থার বদনাম করে কিংবা অসাংবিধানিক ভাবে কাজের ধরন ব্যাখ্যা করে করা যাবে না। এতে উল্টে প্রার্থীর পেশাদারিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলতে পারেন নিয়োগকর্তারা।
এ ক্ষেত্রে কী করণীয়?
দক্ষতা বা বেতন বৃদ্ধি— যে কোনও কারণেই ঘন ঘন চাকরি ছাড়তে হতে পারে। কিন্তু তার আগে সব দিক ভেবে দেখতে হবে। একটা চাকরি ছেড়ে আর একটা চাকরি করতে হবে, কিছু একটা পেতে হবে, এমন লক্ষ্য নিয়ে পুরনো সংস্থাকে বিদায় না জানানোই ভাল। কারণ পুরোনো সংস্থা থেকে যা পাওয়া যাচ্ছে না, তা নতুন সংস্থায় মিলবেই, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।
তাই প্রথমে বর্তমান সমস্যাগুলি ভাবতে হবে। প্রয়োজনে সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। এর পরও যদি কোনও সুরাহা না মেলে, তখন চাহিদা অনুযায়ী, নতুন কিছু সন্ধান করা যেতে পারে।