KVS Teacher Recruitment process

কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা! সিটেট ছাড়াও আর কোন প্রবেশিকায় উত্তীর্ণ হওয়া প্রয়োজন?

স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষিত শিক্ষক (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেন্ড টিচার), প্রশিক্ষিত স্নাতক শিক্ষক (ট্রেন্ড গ্র্যাজুয়েট টিচার) এবং প্রাথমিক শিক্ষক (প্রাইমারি টিচার)— এই তিনটি বিভাগে স্থায়ী শিক্ষক পদের জন্য বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় শিক্ষকতা করতে কী যোগ্যতা প্রয়োজন, কী পরীক্ষা দিতে হয়, সে সব খুঁটিনাটি রইল এই প্রতিবেদনে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০৮:৫৮
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন বা কেভিএস কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। এই বিদ্যালয়ের প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পঠনপাঠন চলে তিনটি বিভাগে। এ জন্য তিনটি স্তরে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়।

Advertisement

স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষিত শিক্ষক (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেন্ড টিচার), প্রশিক্ষিত স্নাতক শিক্ষক (ট্রেন্ড গ্র্যাজুয়েট টিচার) এবং প্রাথমিক শিক্ষক (প্রাইমারি টিচার)— এই তিনটি বিভাগে স্থায়ী শিক্ষক পদের জন্য বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় শিক্ষকতা করতে কী যোগ্যতা প্রয়োজন, কী পরীক্ষা দিতে হয়, সে সব খুঁটিনাটি রইল এই প্রতিবেদনে।

কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকতা করার প্রথম ধাপ সিটেট বা সেন্ট্রাল টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট। প্রার্থী সিটেট উত্তীর্ণ হওয়ার পরই বিভাগ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের তরফে আয়োজিত প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে পারেন। এই পরীক্ষা পাশ করলে মেধার ভিত্তিতে ভারতের যে কোনও কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় শিক্ষকতা করার সুযোগ মিলতে পারে।

পিজিটি (পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেন্ড টিচার) শিক্ষক:

যে কোনও বিষয়ে ৫০ শতাংশ নম্বর-সহ স্নাতকোত্তর যোগ্যতা থাকতে হবে। স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে বিএড উত্তীর্ণ হতে হবে। সর্বোচ্চ বয়ঃসীমা ৪০ বছর। তবে তথ্য প্রযুক্তি বিষয় এ ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত নয়।

টিজিটি (ট্রেন্ড গ্র্যাজুয়েট টিচার) শিক্ষক:

যে কোনও বিভাগে স্নাতক স্তরে ৫০ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। বিএড ডিগ্রি থাকতে হবে। সিটেট পাশ করতে হয়। সর্বোচ্চ বয়ঃসীমা ৩৫ বছর।

পিআরটি (প্রাইমারি টিচার) শিক্ষক:

ডিএলএড (ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন) অথবা ডিএড (ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন) বা জেবিটি-এর (জুনিয়র বেসিক ট্রেনিং) দু’বছরের ডিপ্লোমা থাকতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। সর্বোচ্চ বয়ঃসীমা ৩০ বছর। সিটেট উত্তীর্ণ হতেই হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি:

দু’টি পর্যায়ে পরীক্ষা হয়ে থাকে পিজিটি, টিজিটি, পিআরটি বিভাগে। ১৮০ নম্বরের পরীক্ষা হয় ১৮০ মিনিট সময়সীমা ধার্য করা থাকে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পরীক্ষার মোট ১৮০ নম্বরকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

প্রথম ভাগ (ভাষা জ্ঞান):

এই বিভাগে পরীক্ষার্থীদের ভাষার দক্ষতার পরীক্ষা নেওয়া হয়। এখানে ইংরেজি থেকে ১০ নম্বর এবং হিন্দি থেকে ১০ নম্বর মিলিয়ে মোট ২০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে।

দ্বিতীয় ভাগ (সাধারণ জ্ঞান ও অন্যান্য দক্ষতা):

এই পর্যায়ে সাধারণ জ্ঞান ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স থেকে ১০ নম্বর, রিজ়নিং এবিলিটি থেকে ৫ নম্বর এবং কম্পিউটার লিটারেসি থেকে ৫ নম্বর-সহ মোট ২০ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে।

তৃতীয় ভাগ (শিক্ষাবিদ্যা বা পেডাগজি):

শিক্ষকতার মূল ভিত্তি বা পেডাগজির ওপর এই পর্যায়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এই বিভাগে ৪০ নম্বর ধার্য করা থাকে।

চতুর্থ বিভাগ (সংশ্লিষ্ট বিষয়):

পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হল এটি। প্রার্থী যে নির্দিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক পদের জন্য আবেদন করছেন, সেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়া হয় শেষ বিভাগে। মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন আসে।

এর পর ইন্টারভিউ। লিখিত পরীক্ষায় যে সকল প্রার্থী পাশ করেন তাঁদের মেধার ভিত্তিতে ইন্টারভিউ-এ ডাকা হয়। ইন্টারভিউতে যদি প্রার্থীরা পাশ করেন তা হলে মেধার ভিত্তিতে নথি যাচাই করার পর ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলিতে বিভাগ অনুয়ায়ী নিয়োগ করা হয় শিক্ষক পদে।

Advertisement
আরও পড়ুন