Achievement Of Ditipriya

একটা সময় শুনেছি, ক্লাস টেন পাশ করব কি না সন্দেহ! এই অপমান আমায় এগিয়ে দিয়েছে: দিতিপ্রিয়া

একাধিক শিফটে শুটিং। সঙ্গে পড়াশোনা। সব সামলে দিতিপ্রিয়া রায় সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। কী ভাবে সম্ভব হল?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৫
দিতিপ্রিয়া রায়।

দিতিপ্রিয়া রায়। ছবি: ফেসবুক।

একই সঙ্গে রাঁধা আর চুল বাঁধার প্রবাদ পুরনো। হাল আমলে যিনি অভিনয় করেন, তিনি পড়াশোনাও পারেন— নতুন প্রবাদের বুঝি জন্ম দিলেন দিতিপ্রিয়া রায়। অভিনেত্রী সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেন সদ্য। আনন্দবাজার ডট কম-কে অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে দিতিপ্রিয়া অকপট, “অনেকে প্রতি মুহূর্তে অপমান করেছেন। তাঁদের সেই অপমান আমায় এগিয়ে দিয়েছে।”

Advertisement

খুব ছোট্ট বয়স থেকে দিতিপ্রিয়া অভিনয়ে। তাঁর প্রথম কাজ ধারাবাহিক ‘দুর্গা’। প্রথম কাজ থেকেই তিনি বাংলা বিনোদনদুনিয়ায় আলোচিত নাম। প্রথম কাজ থেকে তিনি সফল। দিন এগিয়েছে। অভিনেত্রীর ঝুলিতে একে একে জড়ো হয়েছে ধারাবাহিক ‘অপরাজিত’, ‘তোমায় আমায় মিলে’, ‘মা’, ‘ব্যোমকেশ’ ও ‘বামাক্ষ্যাপা’র মতো ধারাবাহিক। ছোটপর্দায় প্রথম কেন্দ্রীয় চরিত্র রাজেন্দ্রপ্রসাদ দাসের ‘রাণী রাসমণি’। বড়পর্দায় প্রথম কাজ সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘রাজকাহিনী’। পরে সেই তালিকায় জুড়েছে শৌভিক কুন্ডুর ‘আয় খুকু আয়’, হিন্দি ছবি ‘বব বিশ্বাস’ এবং আরও।

রোজ একাধিক শিফটে শুটিং। তাল মিলিয়ে পড়াশোনা। সব সামলে দিতিপ্রিয়া কী করে পারলেন? প্রশ্ন করতেই ফোনের ও পারে হাসির শব্দ। অভিনেত্রী বললেন, “মা, আমার শিক্ষিকা, অধ্যাপক এবং অভিনয়দুনিয়ার কিছু মানুষকে পাশে না পেলে সত্যিই এত দূর এগোতে পারতাম না।” দিতিপ্রিয়ার মা যেমন জানতেন, তাঁর মেয়ে ছোট থেকে অভিনয়ে। প্রচুর চাপ একরত্তির উপরে। ফলে, জোর করে পড়তে বসানোর মতো কাজ তিনি কোনও দিন করেননি। একই ভাবে সহযোগিতা করেছেন দিতিপ্রিয়ার শিক্ষিকারাও। অভিনেত্রী তাই কৃতজ্ঞ তাঁদের কাছে।

দুই দিক সামলাতে গিয়ে আদৌ শৈশবকে উপভোগ করতে পেরেছেন দিতিপ্রিয়া? স্টুডিয়োর ভিড়ে পড়ায় মন বসত?

হট্টগোলে পড়ায় মন বসাতে একটু হলেও সমস্যা হত, স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। এ-ও বলেছেন, “ছোট থেকেই শুনতে হয়েছে, ক্লাস টেন পাশ করবে কি না সন্দেহ! ওই অপমানটা খুব বিঁধত আমায়। জেদ চেপে যেত। ঠিক করে নিয়েছিলাম, যা-ই হয়ে যাক, পড়াশোনা করবই।” দিতিপ্রিয়া কৃতজ্ঞ সেই সব অপমানকারীর কাছে। “ওঁরা এবং আরও অনেকে নিত্যদিন অপমান না করলে আজকের আমি হয়ে উঠতে পারতাম না।” একটু হেসে যোগ করেছেন, “জানেনই তো, মন থেকে কিছু চাইলে ব্রহ্মাণ্ড আপনার পাশে।” আর স্কুলে যখন যেতেন, তখন বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে খেলাধুলো করতেন। তাই শৈশব একেবারে উপভোগ করতে পারেননি, এ কথা ঠিক নয়। “একটাই জিনিস কম হয়েছে, সেটা ঘুম। বাকি বাচ্চা যতটা ঘুমোতে পারত, আমি কাজের চাপে সেটা পারতাম না।”

এ বার কী করবেন দিতিপ্রিয়া? আরও পড়বেন? না কি শুধুই অভিনয়? কিছু স্বপ্ন তো অবশ্যই দেখেন অভিনেত্রী। যেমন, তিনি সমাজবিজ্ঞানের যে দিকটি তুলে ধরেছেন, সেটি দুই মলাটে বন্দি করতে চান। সেখানে তাঁর অভিজ্ঞতাও ধরা থাকবে। পাশাপাশি, অভিনয়ও করবেন। হাসতে হাসতে তিনি জানিয়েছেন, তা হলে কখনও একঘেয়েমিতে ভুগবেন না।

Advertisement
আরও পড়ুন