Saayoni Ghosh Jeetu Kamal Controversy

সায়নীর সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে, কারও সঙ্গেই দ্বন্দ্ব বা বিবাদে জড়াতে চাই না: নবনীতা

তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ বনাম অভিনেতা জীতু কমলের তরজা জারি। তর্ক-বিতর্কের মাঝে প্রায় তিন বছর পরে আবার একসঙ্গে দেখা গেল জীতু ও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতাকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ১৫:২৬
সায়নীর সঙ্গে কী কথা হল নবনীতার?

সায়নীর সঙ্গে কী কথা হল নবনীতার? ছবি: সংগৃহীত।

শুক্রবার মাঝরাত থেকে তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ বনাম অভিনেতা জীতু কমলের তরজা জারি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানান, সায়নীর থেকে তিনি ‘হুমকি’ বার্তাও পেয়েছেন। এই মন্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পাল্টা দেন তৃণমূল সাংসদও। এরই মাঝে উঠে আসে ২০২২-এ জীতু এবং তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতা দাসের সঙ্গে ঘটা দুর্ঘটনার কথাও।

Advertisement

এই তর্ক-বিতর্কের মাঝে প্রায় তিন বছর পরে আবার একসঙ্গে দেখা যায় জীতু এবং নবনীতাকে। ২০২২ সালে কী ঘটেছিল? বিরাটি থেকে সোদপুর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন যুগলে। একটি পণ্যবাহী গাড়ি তাঁদের গাড়িকে ধাক্কা মারলে তাঁরা নিমতা থানায় অভিযোগ জানাতে যান। সেখানে তাঁদের হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি থানার সামনেই নাকি তাঁদের খুন ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হজীত

জীতুর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের সময়ে সায়নীকে ফোন করেছিলেন নবনীতা?

জীতুর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের সময়ে সায়নীকে ফোন করেছিলেন নবনীতা? ছবি: সংগৃহীত।

সেই সময়েই সায়নীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন জীতু এবং নবনীতা। চার বছর পরে জীতু ও সায়নীর তরজা আবার সেই পুরনো ঘটনাকে উস্কে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে কী বলেছেন নবনীতা? অভিনেত্রী বলেন, “তিন বছরে জীতুর সঙ্গে আমার সে ভাবে কোনও যোগাযোগ হয়নি। যখনই এমন কোনও বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে— যেমন দিতিপ্রিয়া হোক বা শ্রাবন্তীদিকে টেনে সমস্যা, তখনই এক-দু’বার কথা হয়েছে।” জীতু এবং সায়নীর কোনও কথপোকথনের মাঝে ছিলেনই না নবনীতা। তাই প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেননি তিনি।

অভিনেত্রী যোগ করেন, “আমি খেতে গিয়েছিলাম। হঠাৎই সেখানে জীতুর ফোন পাই। ওর ডাকেই অত রাতে গিয়ে দেখা করি। সায়নীর সঙ্গেও এর পরে আমার কথা হয়েছে। আমার সঙ্গে সত্যিই তো কোনও সমস্যা নেই সায়নীর। ও আমাকে বলল, ‘তুই ছাড়, কোনও চাপ নেই।’ আমার সঙ্গে রাহুলদার (অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়) শেষযাত্রায় দেখা হয়েছিল ওর, তখনও কথা বলেছি। আসলে আমি কখনও কোনও বিতর্কে জড়াইনি। তা রাজনৈতিক হোক বা অন্য কিছু।”

নবনীতা জানান, দু’বারই সায়নীকে ফোন করেছিলেন তিনি। এক বার যখন মাঝরাস্তায় সমস্যা হয়েছিল, তখন। আর জীতুর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পরে। তিনি যোগ করেন, “ডিভোর্সের পরে আমি সায়নীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম, ঠিক কথা। তখন ও ফোন তোলেনি। যদি সেই মুহূর্তে ফোনে পেতাম, তা হলে হয়তো আমাদের বিবাহবিচ্ছেদের বিষয় নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ত। সেই কথাগুলো কখনও জীতুর পক্ষে যেত না। কারণ, আমাদের বিচ্ছেদটা খুব সহজ ছিল না। আমি তো লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছেও গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে লিখিত দিতে বলেছিলেন। পরে নিজেই উপলব্ধি করে নিজেকে এই সব থেকে বার করে আনি। নতুন ভাবে নিজের জীবন শুরু করতে চেয়েছিলাম।” তাই নবনীতা এই পরিস্থিতিতে নিজেকে খুব বেশি জড়াতে রাজি নন।

অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তিনি কারও সঙ্গে বিবাদে জড়াতে চান না। কারও সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক তৈরি করতে চান না। নবনীতা মনে করেন, শিল্পীদের নিজেদের মধ্যে এ ভাবে বিবাদে জড়ানো একেবারেই ঠিক নয়। রাজনীতির রং লাগালে দিনের শেষে ইন্ডাস্ট্রিরই ক্ষতি, মত তাঁর। এত বিতর্কের মাঝে তাই তিনিও রোল-ক্যামেরা, লাইট, অ্যাকশনের জগৎ থেকে দূরে।

Advertisement
আরও পড়ুন