অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে ফেরাবেন স্বরূপ বিশ্বাস? ফাইল চিত্র।
অবশেষে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে নিয়ে মুখ খুললেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। আনন্দবাজার ডট কম-কে এ প্রসঙ্গে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “অনির্বাণ ভট্টাচার্য কি আগ্রহী? উনি তো নিজে কিছুই বলছেন না।”
ইতিমধ্যেই অনির্বাণের হয়ে কথা বলতে আরম্ভ করেছেন বাংলা বিনোদনদুনিয়ার তারকা অভিনেতা, পরিচালকেরা। সাম্প্রতিক স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে এসে দেব যেমন বলেছেন, ‘‘তিন বারের সাংসদ বলুন, মেগাস্টার বলুন, টলিউডের অন্যতম কর্মী বলুন বা সাধারণ একজন মানুষ— যে নজরে আমায় দেখুন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, সকলের কাছে অনির্বাণের হয়ে ক্ষমা চাইছি। ছেলেটাকে শান্তিতে বাঁচতে দিন। ওকে কাজ করতে দিন।” প্রয়োজনে অনির্বাণের হয়ে ক্ষমা চাইতেও রাজি তিনি।
দেবকে সমর্থন করেছেন প্রসেনজিৎও। তাঁর মতে, এখনও অনির্বাণের মতো অভিনেতা কাজে না ফিরলে আগামী প্রজন্মকে কী উত্তর দেবে টলিউড?
অনির্বাণকে বড়পর্দায় দেখতে একই ভাবে আগ্রহী পরিচালক-প্রযোজক রাজ চক্রবর্তী। তিনি বলেছেন, “দেবকে সমর্থন করছি। কারণ আমিও মনে করি, এ বার অনির্বাণের মতো অভিনেতার অভিনয়ে ফেরা দরকার। ওর মতো অভিনেতাকে বড়পর্দার প্রয়োজন।” দেব যেমন অনির্বাণের জন্য ক্ষমা চাইতে রাজি, একই ভাবে তাঁর জন্য ‘পা ধরতে’ও রাজি রাজ। “অনির্বাণের জন্য প্রয়োজনে যদি পা ধরে ক্ষমা চাইতে হয়, তাতেও আপত্তি নেই। কিন্তু ছেলেটা কাজে ফিরুক।”
প্রত্যেকের বক্তব্য স্বরূপকে জানানোর পর কী বললেন তিনি? ফেডারেশন সভাপতির যুক্তি, “আমাদের, অর্থাৎ ফেডারেশনে এসে সরাসরি কেউ কিন্তু কিচ্ছু জানাননি। কে বা কারা অনির্বাণকে সমর্থন জানাচ্ছেন, সেটা কিন্তু সংবাদমাধ্যমের মারফত জানছি।” নিজের কাজ প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত খোদ অনির্বাণ নীরব। সে কথাও জানাতে ভোলেননি ফেডারেশন সভাপতি।
দীর্ঘ ছ’মাস ধরে কাজ নেই অনির্বাণের। নেপথ্য কারণ, গত বছর ফেডারেশনের সঙ্গে পরিচালকদের বিরোধ। এই বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। যে সব পরিচালক ফেডারেশনের বিরুদ্ধে রাজ্যের উচ্চ আদালত মামলা দায়ের করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অভিনেতা-পরিচালক অনির্বাণ অন্যতম। তার পর থেকেই তাঁর হাতে কাজ নেই বলে অভিযোগ টলিউডের। এ প্রসঙ্গ অস্বীকার করেননি স্বরূপ। সেই জায়গা থেকেই তাঁর জবাব, “বিষয়টি বিচারাধীন। তাই বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”