Salt Lake Stadium Vandalized

যুবভারতীকাণ্ডের ৩৭ দিনের মাথায় অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন শতদ্রু দত্ত, ১০ হাজার টাকার বন্ডে মুক্তির নির্দেশ আদালতের

শতদ্রুর আইনজীবী সোমবার আদালতে সওয়াল করে জানান, তাঁর মক্কেলকে জেলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যুবভারতীতে ক্ষয়ক্ষতির মামলায় বাকিদের জামিন দেওয়া হয়েছে, তা হলে শতদ্রুকে কেন দেওয়া হবে না?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫২
শতদ্রু দত্ত।

শতদ্রু দত্ত। — ফাইল চিত্র।

লিয়োনেল মেসির ভারত সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্তকে অন্তর্বর্তী জামিন দিল বিধাননগর আদালত। ১০ হাজার টাকা বন্ডের বিনিময়ে সোমবার তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে। শতদ্রুর আইনজীবীর সওয়াল ছিল, মামলার এই পর্যায়ে অগ্রগতি কিছু নেই। তা হলে শতদ্রুকে হেফাজতে রাখার কী প্রয়োজন। সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেছিলেন। শেষপর্যন্ত শতদ্রুর আইনজীবীর সেই আর্জি মঞ্জুর করা হয়েছে। লিয়োনেল মেসির সফর ঘিরে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গত ১৩ ডিসেম্বর মেসির ভারত সফরের আয়োজক শতদ্রুকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

Advertisement

শতদ্রুর আইনজীবী সোমবার আদালতে সওয়াল করে জানান, তাঁর মক্কেলকে জেলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যুবভারতীতে ক্ষয়ক্ষতির মামলায় বাকিদের জামিন দেওয়া হয়েছে, তা হলে শতদ্রুকে কেন দেওয়া হবে না? আইনজীবীর আরও সওয়াল, মামলার এই পর্যায়ে অগ্রগতি কিছু নেই। তাঁকে শতদ্রুকে হেফাজতে রাখার কি প্রয়োজন? তার পরেই জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক। পাল্টা সরকারি আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, সাক্ষীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।

যুবভারতীর মাঠে মেসিকে দেখতে হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেছিলেন দর্শকেরা। কিন্তু অনুষ্ঠানের পুরো সময়টায় ফুটবল তারকাকে ঘিরে ছিলেন আয়োজক এবং রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীরা। দর্শকাসন থেকে তাঁকে দেখতে পাননি অনুগামীরা। এর পরে মেসি মাঠ থেকে বেরিয়ে গেলে ক্রোধে ফেটে পড়েন দর্শকেরা। তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। মাঠে ভাঙচুর করা হয় চেয়ার। ওই দিনই বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় শতদ্রুকে।

যুবভারতীতে মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে থাকার অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ার পরে প্রবল সমালোচনার মুখে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ‘অব্যাহতি’ পান। প্রভাবশালীদের ভিড়ে এক সময় মাঠে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে গিয়েছিল। অভিযোগ, মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ়ের পেটে কারও কনুইয়ের গুঁতো লাগে। কারও নখের ঘায়ে ছড়ে যায় রদ্রিগো ডি’পলের হাত। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মেসির নিরাপত্তারক্ষীরাই তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। তার পরে শুরু হয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তাণ্ডব। ক্রুদ্ধ দর্শকেরা মাঠে ঢুকে পড়েন।

বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ওই ঘটনা নিয়ে দু’টি পৃথক মামলা হয়েছিল। প্রথম মামলায় একমাত্র গ্রেফতার শতদ্রু। দ্বিতীয় মামলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালতে শতদ্রুর জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশ জানিয়েছিল, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক মেসিকে দেখবেন বলে টিকিট কেটেছিলেন। ১৯ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। জামিন পেলে শতদ্রু প্রভাব খাটিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। এর আগে তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে সোমবার জামিন পেলেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন