(বাঁ দিকে) হৃতিক রোশন, (ডান ডিকে) সুনয়না রোশন। ছবি: সংগৃহীত।
এখন হৃত্বিক রোশনের দিদি সুনয়না রোশন ওজন ঝরিয়ে অনেকটাই ছিপছিপে। তবে এক সময়ে স্থূলতার কারণে শরীরে একাধিক রোগ বাসা বেঁধেছিল তাঁর। ফ্যাটি লিভার থেকে ঘন ঘন জন্ডিসে আক্রান্ত হতেন। কিছুতেই নাকি নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন না সুনয়না। তার পরেই ‘ক্র্যাশ ডায়েট’ শুরু করেন তিনি। দিনের পর দিন কুকিজ়, ফলের রস ও জল খেয়ে কাটাতে শুরু করেন। তাতেই এমন পরিণতি হয় যে, জীবন নিয়ে টানাটানি হয় সুনয়নার। দিদির প্রাণ বাঁচাতে সারা রাত মন্দিরের বাইরে কাটান হৃতিক।
এমন কড়া ডায়েটের ফলে শরীর ভেঙে যায় তাঁর। সমাজমাধ্যমে ভাইকে নিয়ে সুনয়না লেখেন, “দুই-তিন দিন আমার কোনও জ্ঞান ছিল না। চিকিৎসকেরা আমার পরিবারকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, প্যারালাইসিস, দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো পরিস্থিতি হতে পারে। এমনকি কোমাতেও চলে যেতে পারি। তার পর কী হবে, তা তারা জানতেন না।” তিনি আরও বলেন, “আমার ভাই আমার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করতে একটি মন্দিরের বাইরে সারা রাত কাটিয়েছিল। চিকিৎসকেরা বাড়ির লোককে বলেছিলেন, সুস্থ হওয়ার প্রথম লক্ষণ হবে, আমি খাবার চাইব। এর কয়েক দিন পরে আমি ঠিক তা-ই করেছিলাম। সেই একটি মুহূর্ত আমার পরিবারের জন্য সবকিছু বদলে দিয়েছিল।”
যদিও এখানেই শেষ নয়। সুনয়না খুব সহজে সেরে উঠতে পারেননি। এই ঘটনার পর পরই তিনি টিবি রোগে আক্রান্ত হন। সুনয়নার কথায়, ‘‘যক্ষ্মা ধরা পড়ার পরে আমি এক মাস হাসপাতালে ছিলাম। এই রোগ যাতে আবার ফিরে না আসে, সেই জন্য আরও প্রায় চার মাস বাড়িতেই বন্দি ছিলাম। প্রচুর ওষুধ খেতে হয়েছে। কারণ, আমার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একদম তলানিতে ঠেকেছিল। আর তার পরেই আমি উপলব্ধি করি, জীবনে কোনও লক্ষ্যের জন্যই নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা উচিত নয়।”
মেয়ের এমন অসুস্থতার খবর যেন এখনও তাজা রাকেশের স্মৃতিতে। তিনি জানান, মেয়ের এই অভিজ্ঞতা অনেককে শক্তি জোগাবে। পোস্টে তাঁর মা পিঙ্কি রোশন লেখেন, “২৫ বছর পরে তোমার গল্পটা আবার মনে পড়ায় আমি আবেগতাড়িত হয়ে পড়লাম। আমার মনে আছে, তুমি মানসিক ভাবে ও শারীরিক ভাবে কতটা দৃঢ় হয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলে।’’ তবে এখানেই শেষ নয়। একটা সময়ে মদ্যপানের অভ্যাস ছিল তাঁর। একটা বোতল দিয়ে শুরু করে নিমেষে তা ছ’টা বোতল হয়ে যেত! মদের নেশায় ডুবে কখন যে সকাল থেকে সন্ধ্যা হয়ে যেত, নিজেও টের পেতেন না তিনি। এখন সেই অধ্যায় কাটিয়ে বেরিয়ে এসেছেন সুনয়না।