(বাঁ দিকে) যোগী আদিত্যনাথ, মনোজ বাজপেয়ী (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।
ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ মনোজ বাজপেয়ীর বিরুদ্ধে। নীরজ পাণ্ডে পরিচালিত ছবির নাম ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’। ছবির ঘোষণা হয়েছে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে। তার পর থেকেই বিতর্কে এই ছবি। অভিযোগ, এই ছবি নাকি ব্রাহ্মণদের ভাবাবেগে আঘাত করেছে। এই ছবির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। লখনউয়ে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। যার ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশের হজরতগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক মামলা রুজু করেন। অবশেষে এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন খোদ মনোজ।
ছবিতে অজয় দীক্ষিত নামে এক দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ আধিকারিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনোজ। এ ছাড়াও ছবিতে রয়েছেন নুশরত ভরুচা, সাকিব সালিম, অক্ষয় ওবেরয়, দিব্যা দত্ত, শ্রদ্ধা দাস ও কিকু শরদা। ২০২৬ সালেই ওটিটি-তে এই সিরিজ় মুক্তি পাওয়ার কথা। তার আগেই আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হল এই ছবিকে। এই ছবির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দিল্লি হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী বিনীত জিন্দল। তাঁর দাবি, এই ছবির নাম একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য মানহানিকর। এই নামের জন্য গোটা ব্রাহ্মণ গোষ্ঠীর মানুষেরা অপমানিত বোধ করছেন বলে তাঁর দাবি। ছবির ভিতরে এই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বক্তব্য থাকতে পারে এবং তা ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে বলেও তাঁর আশঙ্কা।
এই প্রসঙ্গে মনোজ জানান, এই ছবির দ্বারা কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে চাননি তাঁরা। পরিচালক হিসাবে নীরজ একজন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। অভিনেতার কথায়, ‘‘এক জন অভিনেতা হিসাবে গল্প এবং চরিত্র পর্দায় ফুটিয়ে তোলা আমার কাজ। তবে এই ছবির মাধ্যমে কোনও সম্প্রদায় সম্পর্কে কোনও খারাপ বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না। নীরজের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি, ওঁর সিনেমায় যত্ন নিয়ে সমাজের গম্ভীর বিষয়গুলো ফুটিয়ে তোলা হয়।” মনোজ আরও জানান, জনসাধারণের ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে নির্মাতারা ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ সম্পর্কিত যাবতীয় প্রচারমূলক ছবি-ভিডিয়ো সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।