আসছে নতুন ছবি ‘শ্যামা’। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবর্ষে নতুন ছবির ঘোষণা। ছবির নাম ‘শ্যামা’। ১৯৪৫ থেকে ১৯৫৩ পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে কেন্দ্র করে এই ছবি। পরিচালনায় সুচন্দ্রা ভানিয়া ও চন্দ্রোদয় পাল। ছবির জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা করেছেন বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।
নির্মাতাদের বক্তব্য, এই ছবি শ্যামাপ্রসাদের জীবন, আদর্শে অনুপ্রাণিত। এই ছবিতে থাকবে দেশভাগ, জাতীয় ঐক্যের সংগ্রাম, বাংলার ভবিষ্যৎ এবং এক নতুন ভারতের নির্মাণের কাহিনি। এই ছবিতে শ্যামাপ্রসাদকে এমন এক নেতা হিসাবে তুলে ধরা হবে, যিনি দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পাশাপাশি, দেশভাগ-পরবর্তী সময়ে হিন্দু বাঙালিদের জন্য নিরাপদ মাতৃভূমির দাবিতে তাঁর অবস্থানকেও স্মরণ করা হবে এই ছবিতে। নির্মাতাদের দাবি, এই ছবি এমন এক রাষ্ট্রনায়কের, যিনি নিজের আদর্শে অটল ছিলেন, উদ্বাস্তু ও বাস্তুচ্যুত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়েছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন যে, ভারত এক সংবিধান ও এক জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
এই ছবি প্রসঙ্গে পরিচালকদ্বয় বলেন, “ইতিহাস শুধু কিছু তারিখ বা ঘটনাপঞ্জি নয়। ইতিহাস তাঁদের গল্প, যাঁরা আরামের বদলে আদর্শকে বেছে নিয়েছিলেন। ‘শ্যামা’ তৈরির মাধ্যমে আমাদের উদ্দেশ্য তেমনই এক জীবনযাত্রার চলচ্চিত্ররূপ তুলে ধরা, যা দর্শকের ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে।” ইতিহাস দ্বারা অনুপ্রাণিত হলেও, ‘শ্যামা’ মূলত অতীতকে সিনেমার ভাষায় নতুন ভাবে উপলব্ধি করার এক চেষ্টা বলেই মনে করেন পরিচালকদ্বয়।
এই ছবির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত তরুণজ্যোতি। তাঁর কথায়, “আমি এই ছবির অংশ হতে পেরে গর্বিত। কারণ, আধুনিক প্রজন্মের ভাষায় ইতিহাস বলা খুব জরুরি। আমরা আমাদের অতীত না জানলে, ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা কঠিন। এই ছবি এমন এক অনুপ্রেরণার গল্প বলবে যা নতুন প্রজন্মের কাছে সহজেই পৌঁছে যাবে। ফলে ছবিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”