—প্রতীকী চিত্র।
জেলায় লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি উপভোক্তার নাম নেই অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকায়। যা নিয়ে মহিলা মহলে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হতে শুরু করেছে। এমনকি, বিভিন্ন ব্লক অফিসের সামনে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকার দাবিতে বিক্ষোভ দেখানোও শুরু হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, সরকার নির্ধারিত নির্দেশিকা মেনেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই শর্ত মেনেই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের তালিকা নাম থাকা মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে নাম বাদ গিয়েছে।
নদিয়া জেলায় লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে প্রায় ১৩ লক্ষ ৩৫ হাজার উপভোক্তার নাম নথিভুক্ত আছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তালিকায় নাম থাকা মহিলাদের দেড় হাজার টাকা করে দিচ্ছিল তৃণমূল সরকার। নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পরে ঘোষণা করা হয়, লক্ষ্মীর ভান্ডারের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে যোগ্য মহিলাদের মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। বলা হয়, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের তালিকায় নাম থাকা মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা পাওয়ার যোগ্য। পরে বলা হয়, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত থাকা মহিলাদের মধ্যে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই এবং তাঁদের মধ্যে যাঁরা সিএএ বা আপিল ট্রাইবুনালে আবেদন করেননি, তাঁরা অন্নপূর্ণার সুবিধা পাবেন না। পাশাপাশি, আরও একাধিক শর্ত বেধে দেওয়া হয়। সেই মতো লক্ষ্মীর ভান্ডারের উপভোক্তাদের মধ্যে থেকে সরকারি নির্দেশকা ‘অযোগ্য’ মহিলাদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।
যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হতেই জেলার বিপুল সংখ্যক মহিলার নাম তালিকা থেকে বাদ যেতে চলেছে বলে জেলা প্রশাসনের অন্দরে অনেকেই আশঙ্কা করেন। ১ জুলাই গোটা রাজ্যের পাশাপাশি নদিয়া জেলাতেও অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সমস্ত ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর নদিয়া জেলায় অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের যোগ্য উপভোক্তাদের সংখ্যা ৬ লক্ষ ৮০ হাজার ১৭২ জন। অর্থাৎ, দেখা যাচ্ছে, লক্ষ্মীর ভান্ডারের তালিকায় নাম থাকা প্রায় প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ মহিলার নাম বাদ গিয়েছে। এই বিরাট সংখ্যক মহিলার নাম বাদ যাওয়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গত শুক্রবার কৃষ্ণনগর ১ ব্লক অফিসের সামনে বেশ কিছু মহিলা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, এমন অনেক মহিলার নাম বাদ গিয়েছে যাঁদের সত্যিই সরকারি ভাতা প্রয়োজন। অর্পিতা বিশ্বাস, শ্যামলী বিশ্বাসেরা জানাচ্ছেন, সরকারি নির্দেশিকা মেনেই তাঁরা অন্নপূর্ণার টাকা পাওয়ার যোগ্য। তার পরেও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। অন্য দিকে, নতুন করে নির্দেশিকার বদল না হলে বাদ যাওয়া মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না জেলা প্রশাসনের কর্তারা।