FIFA World Cup 2026

৫ গোল, ২ পেনাল্টি, ১ লাল কার্ড! বিশ্বকাপের সেরা ম‍্যাচে বেলিংহ্যামের ৯৮ সেকেন্ডের ঝড়, মেক্সিকোকে হারিয়ে শেষ আটে ইংল্যান্ড

আজ়তেকায় দর্পচূর্ণ হল মেক্সিকোর। বিশ্বকাপে প্রথম বার এই মাঠে হারল তারা। ১০ জনের ইংল্যান্ডকে আটকাতে পারল না মেক্সিকো। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে হ্যারি কেনেরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৮:৩৫
football

ইংল্যান্ডের দুই গোলদাতা হ্যারি কেন (বাঁ দিকে) ও জুড বেলিংহ্যাম। ছবি: এক্স।

ইংল্যান্ড - ৩ (বেলিংহ্য়াম ২, কেন)
মেক্সিকো - ২ (কিনোনেস, হিমেনেজ়)

Advertisement

চলতি বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচ খেলল ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো। গোটা ম্যাচ জুড়ে টান টান লড়াই। ৫ গোল। দুই পেনাল্টি। লাল কার্ড। কী না দেখা গেল ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচে। ১১১ মিনিট ধরে ফুটবল নয়, যেন বক্সিং ম্যাচ চলল আজ়তেকায়। শেষ পর্যন্ত ১০ জনে খেলেই মেক্সিকোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। আরও এক বার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হল মেক্সিকোকে। কানাডার পর বিদায় নিল আরও এক আয়োজক দেশ।

এই ম্যাচে নামার আগে আজ়তেকায় পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল। মেক্সিকোয় তারা কোনও দিন মেক্সিকোকে হারাতে পারেনি। শেষ বার ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে এই মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোলের স্মৃতি এখনও টাটকা ইংরেজ সমর্থকদের মনে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৫০০ ফুটের বেশি উচ্চতা। তার উপর ৮০,০০০ দর্শকের সিংহ ভাগই মেক্সিকোর।

ইংল্যান্ড জানত, তাদের সামনে কী আসতে চলেছে। ম্যাচের আগে থেকে মেক্সিকোর সমর্থকদের উগ্র আচরণ বা কোচের হুমকি হালকা ভাবে নেননি টমাস টুখেল। তিনি জানতেন, এই ম্যাচে কেনকে নড়তে দেবেন না মেক্সিকোর ডিফেন্ডারেরা। সেই কারণে কেনের বদলে তিনি গোল করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন জুড বেলিহ্যামকে। নিজের কাজ ভাল ভাবে পালন করলেন বেলিংহ্যাম।

এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের তিন ফুটবলার সবচেয়ে বেশি নজর কাড়লেন। বেলিংহ্যামের পাশাপাশি অ্যান্থনি গর্ডন দুর্দান্ত খেললেন। আগের ম্যাচে পরিবর্ত হিসাবে নেমে ইংল্যান্ডের দু’টি গোলেই তাঁর অবদান ছিল। ফলে এই ম্যাচে শুরু থেকে তাঁকে খেলান টুখেল। কোচের ভরসা রাখলেন তিনি। তৃতীয় নাম গোলরক্ষক জর্ডন পিকফোর্ড। তিনি না থাকলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ত ইংল্যান্ড। রাউল হিমেনেজ়ের হেড দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি। গোটা ম্যাচে বেশ কয়েক বার ইংল্যান্ডের পতন রোধ করেন তিনি।

football

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

প্রথম ৩০ মিনিট মেক্সিকো দাপট দেখায়। ঘরের মাঠে সেটাই স্বাভাবিক। ইংল্যান্ডকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, চাপ সামলে প্রতি আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা করেছেন। বেলিংহ্যামকে শুরু থেকেই ছটফটে লাগছিল। ৩৬ মিনিটের মাথায় খেলার গতির বিপরীতে গোল ইংল্যান্ডের। তিন পাসে হল গোল। নিজের বক্সে বল বাঁচিয়ে তা ডেকলান রাইসকে দিলেন পিকফোর্ড। রাইস বেশ খানিকটা দৌড়ে পাস দিলেন বুকায়ো সাকাকে। ডান প্রান্ত থেকে সাকার ক্রসে শরীর ছুড়ে হেডে গোল করলেন বেলিংহ্যাম। ডিফেন্ডারদের নজর ছিল কেনের দিকে। ফাঁকায় ফাঁকায় গোল করে যান বেলিংহ্যাম।

সেই গোলের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আবার গোল বেলিংহ্যামের। ৯৮ সেকেন্ডের মধ্যে। মেক্সিকোর ফুটবলারের পা থেকে বল কেড়ে কেনকে পাস দেন গর্ডন। কেনের মাইনাস পায়ের টোকায় জালে জড়িয়ে দেন বেলিংহ্যাম। মেক্সিকোর সমর্থকদের দেখে মনে হচ্ছিল, বিশ্বাস করতে পারছেন না। বিশ্বাস হচ্ছিল না টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখা দর্শকদেরও।

তবে সেখানেই নাটকের শেষ হয়নি। বিরতির আগে ফ্রি কিক থেকে ফিরতি বলে এক গোল শোধ করেন জুলিয়ান কিনোনেস। মেক্সিকো প্রাণ ফিরে পায়। পরের কয়েক মিনিট ইংল্যান্ডের রক্ষণে ত্রাহিরব তোলে তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আবার টান টান ফুটবল। কেউ কাউকে জমি ছাড়ছিল না। কিন্তু ৫৪ মিনিটের মাথায় বড় সিদ্ধান্ত নিলেন রেফারি আলি রেজ়া ফাঘানি। ভার রিপ্লে দেখে ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালেন তিনি। এই মাঠে আধ ঘণ্টার বেশি সময় এক জন কম খেলে মেক্সিকোকে আটকে রাখা কঠিন ছিল।

বাধ্য হয়ে পরিকল্পনা বদলালেন টুখেল। রাইসকে নীচে নামালেন। সাকাকে তুলে নামিয়ে দিলেন জন স্টোন্সকে। দুই অভিজ্ঞ ফুটবলার ইংল্যান্ডের রক্ষণ সামলালেন। ১০ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও আক্রমণ থামায়নি ইংল্যান্ড। তার ফলও পায় তারা। বক্সের মধ্যে গর্ডনের গতি বুঝতে পারেননি মেক্সিকোর গোলরক্ষক। ফাউল করে বসেন। পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। গোল করতে ভুল করেননি কেন। তাঁর এই পেনাল্টি দেখে শেখা উচিত ব্রাজ়িলের ব্রুনো গিমারায়েসের। কী ভাবে পেনাল্টি নিতে হয়।

চলতি বিশ্বকাপে ছ’নম্বর গোল করে ফেললেন কেন। লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপের ও আর্লিং হালান্ডের পরেই রয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের সোনার বুটের দৌড় জমিয়ে দিয়েছেন চার তারকা।

তখনও নাটকের বাকি ছিল। বক্সের মধ্যে সেই কেনই মেক্সিকোর ফুটবলারকে ফাউল করে বসলেন। আবার ভার রিপ্লে দেখে পেনাল্টি দিলেন রেফারি। এ বারও গোল করলেন হিমেনেজ়।

football

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তখনও ২০ মিনিটের খেলা বাকি। মেক্সিকো যা খেলছিল, তাতে এক গোল করা কঠিন ছিল না। ইংল্যান্ড ঠিক করল, এ বার রক্ষণ করে যাবে তারা। সুযোগ পেলে প্রতি আক্রমণে উঠবে। খেলার শুরুতে যে পরিকল্পনায় তাঁরা নেমেছিলেন, সেখানেই ফিরে গেলেন কেনেরা। অনেক চেষ্টা করেও সেই রক্ষণ ভাঙতে পারল না মেক্সিকো। হেরে মাঠ ছাড়তে হল তাদের।

খেলার আগে কেন জানিয়েছিলেন, ৯০ মিনিটের খেলায় তাঁদের হারানো কঠিন। সেটা যে শুধুই কথার কথা ছিল না, তা প্রমাণ করলেন তাঁরা। এই ম্যাচে ইংল্যান্ড যে খেলাটা খেলেছে তা বাকি সব দলকে চিন্তায় রাখবে। এক নয়, একাধিক বাধা টপকে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে তারা। সেখানে প্রতিপক্ষ আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে। যারা কয়েক ঘণ্টা আগে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘটিয়েছে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজ়িলের।

Advertisement
আরও পড়ুন