Pinky Banerjee

‘শমীক ভট্টাচার্যকে ভীষণই ভাল লাগে’, নিরপেক্ষ মানুষ হিসাবে নিশ্চিন্ত বোধ করছেন! রাজনীতির ময়দানে আসবেন পিঙ্কি?

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে ক্রমাগতই রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্প, উন্নয়ন সম্পর্কিক তথ্য পোস্ট করছেন পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কি এ বার রাজনীতির আঙিনায় পা দেবেন পিঙ্কি?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০৮:৫৯
(বাঁ দিকে) পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়, শমীক ভট্টাচার্য (ডান ডিকে)।

(বাঁ দিকে) পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়, শমীক ভট্টাচার্য (ডান ডিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। তার পর থেকে একাধিক জায়গায় হয়েছে ক্ষমতার হস্তান্তর। দিনকয়েক ধরেই ইমপা-র সভাপতি পদ নিয়ে যে ধুন্ধুমার চলছে, তা-ও দেখেছে টলিপাড়া। পূর্বতন সরকারের সঙ্গে ছিলেন টলিপাড়ার শিল্পীমহলের একটা বড় অংশ। এখন নতুন সরকার এসেছে। শিল্পীদের একাংশ বিজেপির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তবে অভিনেত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায় এখনই নতুন সরকারের ঢালাও প্রশংসা করতে চাইছেন না।

Advertisement

পিঙ্কির কথায়, ‘‘আমি সবটা লক্ষ করছি। খুব বেশি আশা করে, আশাহত হতে চাই না। তবে ওঁরা যা করছেন, খুব দ্রুত করছেন।’’ পিঙ্কি অবশ্য রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে ক্রমাগতই রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্প, উন্নয়ন সম্পর্কিক তথ্য পোস্ট করছেন। তবে কি এ বার রাজনীতির আঙিনায় পা দেবেন পিঙ্কি? আনন্দবাজার ডট কম-কে জানালেন নিজের ইচ্ছার কথা।

পিঙ্কি জানান, তিনি রাজনীতির মারপ্যাঁচ বোঝেন না। আসলে তিনি শিল্পী, এবং এটাই তাঁর পরিচয়। তিনি সাধারণ মানুষের মতো সবটা দেখছেন। তবে ভাল আর মন্দের ফারাকটা করতে পারছেন। তাঁর কণ্ঠে সোনারপুরের বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশংসা। পিঙ্কির কথায়, ‘‘ফেসবুকেই দেখলাম, রূপাদি রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এই গরমে তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছেন, সেটা তো প্রশংসনীয়।’’

তবে শুধু রূপা নন, তিনি অনুরাগী শমীক ভট্টাচার্যেরও। পিঙ্কির কথায়, ‘‘শমীক ভট্টাচার্যকে ভীষণই ভাল লাগে। ওঁর মতো শব্দচয়ন বহুদিন কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে শুনি। দিনকয়েক আগে উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে যে বক্তব্য রাখছিলেন, সেটা গোটটা শুনেছি। এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি যে, ফোনটা স্ক্রল করে চলে যাই।’’ পিঙ্কি আশাবাদী, শিক্ষাব্যবস্থার এ বার আমূল পরিবর্তন হবে। তবে একদিনেই যে সব বদলে যাবে, এমন আশা রাখেন না তিনি। বরং যা কিছু ভাল ছিল, তা পুনরুজ্জীবিত করতে যে সময় প্রয়োজন, সেটাই বিশ্বাস করেন অভিনেত্রী।

গত সরকারের আমলে অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী কাজ না পাওয়ার অভিযোগ এনেছেন। এমনকি অনেককে ‘নিষিদ্ধ’ করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পিঙ্কি জানান, তাঁর সঙ্গে সরাসরি তেমন কিছু না ঘটলেও, তাঁকেও নাকি অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। চুপচাপ অপেক্ষা করতে হয়েছে। পিঙ্কির কথায়, ‘‘নিরপেক্ষ মানুষেরা এ বার নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন। এটা আগে মিস্ করতাম। এরকম মানুষের সমাজে প্রয়োজন রয়েছে। তাঁরা এখন নিশ্চিন্ত বোধ করছেন।’’

পিঙ্কির প্রাক্তন স্বামী কাঞ্চন মল্লিক তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক। পিঙ্কি অবশ্য এখন আর কাঞ্চনকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না। তবে বিজেপির হাত ধরে কখনও কি পিঙ্কিকে রাজনীতির আঙিনায় দেখা যাবে? তাতে অবশ্য অভিনেত্রীর সাফ কথা, ‘‘মানুষের জীবন অনিশ্চিত। এখনই তো তেমন কোনও পরিকল্পনা নেই। কারণ, আমি ওই জগতের মানুষ নই। কিন্তু এই সরকার যা যা ভাবছে, তা নিয়ে আশাবাদী।’’

Advertisement
আরও পড়ুন