পূজা চেরী। ছবি: ফেসবুক।
ছবি তৈরির নাম করে ১৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন অভিনেত্রী পূজা চেরীর বাবা দেব প্রসাদ রায়। মিজানুর রহমানের করা প্রতারণার মামলায় সম্প্রতি তাঁকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ প্রশাসন। খবরটি নিশ্চিত করেন ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান। খবর ছড়াতেই তোলপাড় ও পার বাংলায়।
রবিবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন অভিযুক্তের অভিনেত্রী কন্যা পূজা। সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সাফ লিখেছেন, “পরিবারের সদস্য হওয়ার সূত্রে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি আমার জন্য মানসিক ভাবে কষ্টদায়ক। তবে এটি একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত আইনি বিষয়।”
বাবার বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ। তাঁর কন্যা পূজাও অভিনয়দুনিয়ার অন্যতম ব্যক্তিত্ব। ইদে ও পার বাংলার নায়ক আফরান নিশোর সঙ্গে তাঁর ছবি ‘দম’ ভাল সাড়া ফেলেছে। বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় হয়তো তাঁর নামও জড়াতে পারে। সম্ভবত সেই ভাবনা থেকেই তিনি রবিবার তড়িঘড়ি সমাজমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে লিখেছেন, “সম্প্রতি আমার বাবা দেব প্রসাদ রায়ের গ্রেফতার এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে আমি অসংখ্য ফোন কল এবং বার্তা পাচ্ছি। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি এড়াতে আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।”
বাবার সঙ্গে তিনি যে কোনও ভাবে যুক্ত নন, সে কথা তাঁর বক্তব্যের প্রতি ছত্রে স্পষ্ট। তাঁর লেখা অনুযায়ী, “আমার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে আমার কোনও ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে আমি মিডিয়াতে কাজ করছি। এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের কেরিয়ার ও জীবনযাপনের খরচ সম্পূর্ণ ভাবে নিজেই নির্বাহ করে আসছি।” অভিনেত্রীর সাফ দাবি, তিনি তাঁর বাবা দেব প্রসাদের সঙ্গে কোনও ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। এমনকি, পূজা বর্তমানে কোনও প্রযোজনা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গেও যুক্ত নন।
পূজা এ-ও জানাতে ভোলেননি, একজন শিল্পী হিসাবে তিনি সবসময় দর্শকের দেওয়া ভালবাসা এবং সম্মানকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। একই ভাবে কন্যা হিসাবে বাবার সঙ্গে ঘটা ঘটনা তাঁকে ব্যথিত করেছে। তবে তাঁর বিশ্বাস, আইন তার নিজস্ব পথে চলবে। প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। তাই পূজার আন্তরিক অনুরোধ, “এই স্পর্শকাতর সময়ে অহেতুক আমাকে বা আমার কাজকে এই ঘটনার সঙ্গে না জড়ানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আমি আমার দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশে চাই।”
প্রসঙ্গত, ছবি প্রযোজনার কথা বলে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, ক্যান্টনমেন্ট থানার অধীনস্থ পশ্চিম মাটিকাটায় বন্ধু মিজানুর রহমানের বাড়িতে এসে অভিযুক্ত দেব প্রসাদ রায় নাকি নগদ ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধার নেন। পরে একই ব্যবসার কথা বলে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাঙ্ক লিমিটেডের মাধ্যমে আরও ৫০ লক্ষ টাকা, ২০২৪-এর ১৫ মে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পপেপারের মাধ্যমে নগদ ৬ কোটি টাকা ধার নেন বলে অভিযোগ।
খবর, এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে নাকি একাধিক নম্বরে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয় তাঁকে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ অভিযুক্তের অনুরোধে আরও ১০ হাজার ২০০ টাকা তাঁকে পাঠান বন্ধু মিজানুর, অভিযোগ এমনই। অভিযোগকারীর দাবি, দীর্ঘ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত কোনও টাকা ফেরত দেননি। টাকা চাইলে টালবাহানা করতে থাকেন এবং পরে নাকি হুমকি দিতে শুরু করেন। এ প্রসঙ্গে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের সমস্ত লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।